লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের জন্য অবৈধ সিল উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশের অভিযানে ছয়টি অবৈধ সিলসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলাদা আলাদাভাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা পরস্পরবিরোধী অবস্থান তুলে ধরেন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরের পুরাতন আদালত রোডে অবস্থিত একটি ছাপাখানা থেকে সোহেল রানা (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ভোটে ব্যবহারের উপযোগী ছয়টি অবৈধ সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তি সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং ওই ছাপাখানার মালিক।
ঘটনার পর রাতে বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, গ্রেফতার ব্যক্তি জামায়াতের কর্মী এবং এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ ‘নির্বাচনী কারসাজি’র পরিকল্পনা থাকতে পারে। তিনি অবৈধ সিল তৈরির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং প্রশাসনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, একই রাতে জামায়াতে ইসলামীও পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। জামায়াত প্রার্থী রেজাউল করিম বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তির সঙ্গে জামায়াতের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং রাজনৈতিকভাবে দলকে জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহেদ পারভেজ জানান, অবৈধভাবে ভোটের সিল তৈরির অভিযোগে গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সিল তৈরির কথা স্বীকার করলেও, কার নির্দেশে তা করা হচ্ছিল— সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাতক্ষীরার আগরদাঁড়ি গ্রামের সাবেক ওয়ার্ড সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ বাহারউদ্দিন (৫৮) পবিত্র ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) রাতে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। আহত নেতাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার সময় বাহারউদ্দিন বাড়িতে নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় জামায়াত সমর্থিত ৩০-৩৫ জন হামলাকারী বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে খুনের উদ্দেশ্যে পিটুনি দেয়। এই সময় তার বাম বাহু, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয় এবং ডান চোখ নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়। হামলার সময় তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও আহত হন। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ রাহুল দেব রায় জানিয়েছেন, বাহারউদ্দিনের ডান চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লেগেছে। সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মোঃ মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো তার দপ্তরে নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাহারউদ্দিন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনায় তার বাড়ি ও ব্যবসায় লুটপাট চালানো হয়েছিল এবং আগুন লাগানো হয়েছিল। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ঈদের আগে বাড়িতে ফেরেন তিনি। ঘটনার পর হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে চলে যায়।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণে একটি রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ সড়ক-রেল দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত ও আরও প্রায় ১০ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা জননিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্নে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পদুয়ার বাজার এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি ট্রেনের সঙ্গে বিপরীতমুখী যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে দীর্ঘ দূরত্ব পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়, ফলে ঘটনাস্থলেই একাধিক প্রাণহানি ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে হতাহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। চিকিৎসকরা নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন, যদিও অধিকাংশের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে রেলক্রসিংয়ে সুরক্ষা ব্যবস্থা ও সংকেত ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য ত্রুটির বিষয়টি সামনে এসেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে, যা তদন্তসাপেক্ষ। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির কারণ নিরূপণ ও দায় নির্ধারণে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নীলফামারী জেলা সদরে ঈদের জামাত কোথায় ও কখন অনুষ্ঠিত হবে—তা নির্ধারণ করে সময়সূচি প্রকাশ করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে নিজ নিজ এলাকার জামে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। এ জামাতে অংশ নেবেন নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এছাড়া নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অন্যান্য স্থানের জামাতের সময়সূচি: সকাল ৮:০০টা — মুন্সিপাড়া আহলে হাদীছ ঈদগাহ মাঠ সকাল ৮:১৫টা — পুলিশ লাইন ঈদগাহ মাঠ (এখানে নামাজ আদায় করবেন পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা) সকাল ৮:৩০টা — মোড়লের ডাঙ্গা জেলা মডেল মসজিদ, টুপির মোড় উপজেলা মডেল মসজিদ ও গাছবাড়ি পঞ্চপুকুরপাড়া ঈদগাহ মাঠ সকাল ৮:৪৫টা — সার্কিট হাউস ঈদগাহ মাঠ ও বাড়াইপাড়া নতুন জামে মসজিদ ঈদগাহ মাঠ সকাল ৯:০০টা — কুখাপাড়া (ধনীপাড়া) ঈদগাহ মাঠ, জোড় দরগা ঈদগাহ ও কলেজ স্টেশন ঈদগাহ মাঠ নীলফামারী পৌরসভার প্রশাসক সাইদুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রীয় ঈদগাহে মুসল্লিদের সুবিধার্থে স্ট্যান্ড ফ্যান, শামিয়ানা ও অতিরিক্ত ত্রিপল-পলিথিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ঈদকে সামনে রেখে জেলার সর্বত্র চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।