শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আন্তঃবিভাগীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে লোক-প্রশাসন এবং বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনায় সহকারী প্রক্টরসহ একাধিক শিক্ষক এবং অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন।
আহত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গির আলম ও মো. ওমর ফারুক, লোক-প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ সিদ্দিকী এবং প্রভাষক আব্দুল বাসিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খেলায় উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্লেজিংকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত সহিংসতার দিকে যায়।
ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক মো. এছাক মিয়া জানান, “সংঘর্ষে শিক্ষকদের ওপর হাত তোলার মতো ঘটনা ঘটেছে। দায়িত্বশীলদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, “ন্যায়ের ভিত্তিতে তদন্ত চলবে, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আচরণ মাত্রা ছাড়িয়েছে।”
নীলফামারীর সৈয়দপুরে গ্রন্থাগারের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস–২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শহরের পুরাতন বাবুপাড়াস্থ সৈয়দপুর গ্রন্থাগার চত্বরে কবিতা আবৃত্তি, বইপাঠ, উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর গ্রন্থাগারের সভাপতি ও ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ মো. শাবাহাত আলী সাব্বু। তিনি বলেন, “বই মানুষের প্রকৃত বন্ধু এবং জ্ঞানার্জনের প্রধান মাধ্যম। শিক্ষিত ও সচেতন সমাজ গঠনে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক রেহানা সুলতানা, শারমিন আক্তার, সিম্পল খাতুন ও সৈয়দপুর রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নবীন ইসলাম। বক্তারা তরুণ প্রজন্মকে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবেরা মুসফিরাত সাফি ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া জাহিদ রুদানা। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সকালে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সেনা ক্যাম্পে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য একটি মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়ায় ভোটকেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের কৌশল প্রদর্শন করা হয়। সাতক্ষীরা ৩৭ বীরের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাভিদ হাসান জানান, ড্রোন, বডি ক্যামেরা ও সুরক্ষা অ্যাপসসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হবে। নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
খাগড়াছড়ি আসনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের উদ্যোগে জেলার সব নিরাপত্তা বাহিনীর অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক। খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের জিটুআই মেজর কাজী মোস্তফা আরেফিনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার, জেলা আনসার কমান্ডেন্ট, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন জোন কমান্ডাররা। তারা নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরেন। সভায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সমন্বিতভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনকালীন সময়ে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে পার্বত্য জেলার শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়।