বাগেরহাট-১ আসনের ফকিরহাট উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ভোটের মাঠে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়ে গেছে। প্রশাসনের ঝুঁকি বিশ্লেষণে উপজেলার ৫২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১০টি অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ, ২৪টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৮টি সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অর্থাৎ মোট কেন্দ্রের প্রায় ৬৩ শতাংশ ঝুঁকির আওতায় রয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনার কারণে ৩৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সকল কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমনা আইরিন সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করছেন।

নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ রাখতে ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সভা সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলায় দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আচরণবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়োগ পেয়েছেন। ৮ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেবেন। এছাড়া ৬৭৬ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য ভোট কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু এলাকায় ভয়ভীতি ও প্রভাব বিস্তার এখনও থাকায় ভোটারদের উপস্থিতি কমতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তবে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জানিয়েছে, তারা সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিন বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতির মাধ্যমে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সতর্ক। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণই সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা নিশ্চিত করবে।”
নীলফামারীতে ভূমি দখল, মাদক ব্যবসা ও বালু মহলকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন স্থানীয়রা। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে সদর উপজেলার কচুকাটা, তিন থানার মোড়সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার নারী-পুরুষ অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, ভুয়া লিজের কাগজ দেখিয়ে সরকারি জমি দখল, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং মাদক ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে সরকারি সম্পদের ক্ষতি ও সামাজিক পরিবেশের অবনতি ঘটছে। বিক্ষোভকারীরা আনিছুর রহমান ও সুদী ব্যবসায়ী মুন্নুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, দখলকৃত জমি উদ্ধার এবং অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয়রা।
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর মো. সোহেল রানা (২৪) নামে এক ইটভাটা শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৯ মার্চ) সকালে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের পূর্ব রাজুরগাঁও গ্রামের রাজী সাহেব ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের অফিস সংলগ্ন ডোবা থেকে ভাসমান অবস্থায় তার দেহ পাওয়া যায়। নিহত সোহেল রানা হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের উত্তর শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে।
বাগেরহাটে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের আয়োজনে রবিবার (২৯ মার্চ) বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারটি বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে সকাল ১১টা ৩০এ শুরু হয়। প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বাঘের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত কমানোর গুরুত্বের উপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া টেকসই বন ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী। বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটন এবং সাবেক সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ ও বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বিভিন্ন বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে এর গুরুত্ব অপরিসীম। তারা বাঘ সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি, সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার এবং অবৈধ শিকার প্রতিরোধের আহ্বান জানান। সেমিনারে বন বিভাগের কর্মকর্তা, পরিবেশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।