ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে পরাজয়ের পরও রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তরুণ নেতা সারজিস আলম। ফলাফল ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে বিজয়ী প্রার্থী নওশাদ জমিরকে অভিনন্দন জানান।
এ সময় দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।
সারজিস আলম বলেন, “জনগণ যদি একজন প্রার্থীকে এক ভোটেও এগিয়ে রাখে, তাকে সম্মান জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেই জায়গা থেকেই আমি নিজে এসে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকা জরুরি। আগামী পাঁচ বছরে পঞ্চগড়-১ আসনের উন্নয়নে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইতিবাচক উদ্যোগ নিলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।
পাশাপাশি তিনি পঞ্চগড়-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদকেও অভিনন্দন জানান। নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালনকারীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সারজিস।
তিনি বলেন, “দিনশেষে আমাদের লক্ষ্য একটাই—পঞ্চগড়কে এগিয়ে নেওয়া। রাজনৈতিক সম্পর্কের জায়গা আরও সুন্দর হলে জেলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।”
শেরপুর-২ (নকলা–নালিতাবাড়ী) আসনে বিজয়ের পর কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত এ প্রার্থী বলেছেন, দলীয় পরিচয়ে কেউ চাঁদাবাজি, দখলদারি, জুয়া, মাদক বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নালিতাবাড়ী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ফাহিম চৌধুরী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় এখন তার প্রধান দায়িত্ব প্রত্যাশা পূরণ করা। নির্বাচনের পর কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা বরদাশত করা হবে না। অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। নবনির্বাচিত এ সংসদ সদস্য সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং নালিতাবাড়ীকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের আওতায় আনা হবে। সমাবেশে নেতাকর্মীরা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং একটি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা এসব আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন। বাগেরহাট-১ আসনে জামায়াতের মাওলানা মশিউর রহমান ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কপিল কৃষ্ণ পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৯০ ভোট। বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াতের শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৭০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন পান ৬৬ হাজার ২৭৪ ভোট। এ আসনে ব্যবধান ৫০ হাজার ৯৬ ভোট। বাগেরহাট-৩ আসনে বিএনপির ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম ১ লাখ ৩ হাজার ৭১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াদুদ পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৭০৫ ভোট। বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াতের আব্দুল আলিম ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সোমনাথ দে পান ৯৮ হাজার ৩২৬ ভোট। এ আসনে ভোটের ব্যবধান ১৭ হাজার ৭৪১। জেলায় মোট ৫৪৭টি ভোটকেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট শেষে গণনা সম্পন্ন করে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে পরিবার নিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন সারজিস আলম। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে আটোয়ারী উপজেলার বামনকুমার রাখালদেবী হাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন। ভোট প্রদানকালে তিনি অন্যান্য ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ভোট শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সারজিস আলম। তিনি জানান, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রত্যাশা থেকেই তিনি ভোট দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদী। একই সঙ্গে নির্বাচনী ফলাফলের ব্যাপারেও ইতিবাচক প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।