খাগড়াছড়িতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকে কেন্দ্র করে বিএনপি প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়াকে সমর্থন করার অভিযোগে উপজাতি ভোটারদের উপর শারীরিক নির্যাতন ও অর্থদণ্ড আরোপের ঘটনা ঘটেছে।
জেলার পানছড়ি, দীঘিনালা, বেলছড়ি, গোমতি, তবলছড়ি ও রামগড়ের বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক না হওয়ার কারণে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা জরিমানা হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এ কারণে চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমা সম্প্রদায়ের অনেকে বাড়ি-ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন।
বাংলাদেশ ত্রিপুরা ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক খনি রঞ্জন ত্রিপুরা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নাগরিকদের ভোটাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবার সমান। কোনো প্রতীকে ভোট দেওয়ার কারণে হুমকি বা সামাজিক নিপীড়ন বৈধ নয়। তিনি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পাহাড়ের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সহিংসতায় ক্লান্ত, তাই রাজনৈতিক হুমকি ও অর্থদণ্ড সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত আফরোজা খানম রিতা ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচ প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভয়ভীতি ও প্রার্থিতা বাতিলের অভিযোগ তুললেও ভোটে তাদের সম্মিলিত প্রাপ্তি মাত্র ১৩ হাজার ৮৯৪ ভোট—রিতার একক ভোটের মাত্র ৮.২৭ শতাংশ। রিতা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ সাঈদ নূরের ৬৪ হাজার ২৪২ ভোটের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ভোটে এগিয়ে যান। বিদ্রোহী প্রার্থী আতাউর রহমান আতা ২০ হাজার ৫৫১ ভোট পেয়েছেন। এ বিজয় রিতা বাংলাদেশের তৃতীয় নারী হিসেবে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের ফলাফল প্রমাণ করে—অভিযোগের চেয়ে ভোটারদের আস্থা শেষ কথা।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কারাবন্দি নেতা শামিকুল ইসলাম সরকার লিপন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধা জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসারে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে খুলনা–ঢাকা মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে ফকিরহাট বিশ্বরোড মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বিএম লাইন পরিবহনের একটি বাস খুলনার দিকে যাচ্ছিল। একই সময় খুলনা থেকে মাদারীপুরগামী রূপসী পরিবহনের বাসটি ফকিরহাট এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপর বাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর ফকিরহাট ইউনিট আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আহতদের মধ্যে ৬ জন নারী ও ৯ জন পুরুষ। তাদের বেশিরভাগই রূপসী বাসের যাত্রী বলে জানানো হয়েছে। মোল্লাহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার জানান, দুর্ঘটনায় দুই বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রূপসী বাসের ব্রেক বিকল হয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে।