সরকার দেশের নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল পদে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীর নাম প্রস্তাব করেছে। আইন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা টাইমসকে নিশ্চিত করেছে, শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যকর হতে পারে।
ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের অভিজ্ঞ আইনজীবী। তিনি সততা, পেশাদারিত্ব ও ন্যায়বিচারে দৃঢ় অবস্থানের জন্য সুপরিচিত। তার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবশালী পরিবার, বিশেষ করে ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রয়াত আব্দুর রউফ চৌধুরীর পুত্র হিসেবে তার পরিচিতি আরও শক্তিশালী।
শিক্ষাজীবনে তিনি কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকা নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করেন। ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স অর্জনের পর যুক্তরাজ্যে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন।
নিয়োগের আগে সরকার ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আমিনুল ইসলামকে দায়িত্বভার প্রদান করেছে।
হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন পাওয়ার পর সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে কারা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তিনি কারামুক্ত হন বলে নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার। তিনি জানান, আদালতের জামিননামা কারাগারে পৌঁছানোর পর আইনগত বিধি-বিধান অনুসরণ করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর লালবাগ এলাকায় সংঘটিত সহিংস ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় এক আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এর আগে আইনজীবীরা জানান, অন্য কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় জামিন আদেশের পর তার মুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা ছিল না।
ঢাকা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ দরবারে বাহিনীকে রাষ্ট্রের অমূল্য সম্পদ হিসেবে অভিহিত করে এর নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও সাংবিধানিক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টার দিকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়—এটি রাষ্ট্র ও জনগণের নিরাপত্তার ভিত্তি। তিনি বাহিনীর সদস্যদের পেশাদার মানদণ্ডে কোনো ধরনের আপস না করার আহ্বান জানান এবং আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন-পরবর্তী সময়ে এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রশাসনিক অস্থিরতা মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জাতীয় নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ সম্পাদনে বাহিনীর অবদানকে তিনি রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, অতীতের বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করার যে চেষ্টা হয়েছে, তা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর ছিল। পিলখানা হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এটিকে বাহিনী দুর্বল করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন সেনানিবাস থেকে কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন। বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বাহিনীর সদস্যদের দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান অস্থিরতা ও সাম্প্রতিক ব্যাঘাতের পর পুনরায় আংশিকভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিমান সংস্থা এয়ার অ্যারাবিয়া। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে শারজাহ, আবুধাবি ও রাস আল খাইমাহ থেকে ১৭টি দেশের মোট ৪৯টি গন্তব্যে ধাপে ধাপে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের নির্দিষ্ট রুটে এই সেবা পুনরায় চালু করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশসহ একাধিক গন্তব্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, পূর্বে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীরা নির্দিষ্ট শর্তে পুনরায় বুকিংয়ের সুযোগ পাবেন, বিশেষ করে যারা ইতোমধ্যে রিফান্ড বা তারিখ পরিবর্তনের সুবিধা গ্রহণ করেননি। কোম্পানিটি জানিয়েছে, যাত্রীদের ক্ষতিগ্রস্ত বুকিং সংক্রান্ত বিষয়গুলো পৃথকভাবে জানানো হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ফ্লাইট নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণ করা হতে পারে।