চোটের কারণে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) থেকে ছিটকে গেছেন বাংলাদেশি ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। টুর্নামেন্টে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে খেলা এই ব্যাটার কাঁধের লিগামেন্ট ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে মাঝপথেই মাঠের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
দলীয় সূত্র ও খেলোয়াড়ের ঘনিষ্ঠদের বরাতে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল মুলতান সুলতান্সের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে আসিফ আলীর সঙ্গে সংঘর্ষে কাঁধে গুরুতর আঘাত পান ইমন। পরবর্তীতে করা এমআরআই স্ক্যানে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়, যার ফলে তাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিশ্রামে থাকতে হচ্ছে।
চোটে হতাশ পারভেজ ইমন নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, পিএসএলের মতো বড় মঞ্চে খেলতে না পারায় তিনি গভীরভাবে দুঃখিত। তবে অভিজ্ঞতা ও দলীয় পরিবেশকে তিনি স্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন এবং লাহোর কালান্দার্সের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রথমবারের মতো পিএসএলে অংশ নেওয়া এই ডানহাতি ওপেনার তিনটি ম্যাচে লাহোরের প্রতিনিধিত্ব করেন। মাত্র ১৬১.৩৬ স্ট্রাইক রেটে ৭১ রান করে ইতোমধ্যে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন তিনি। তৃতীয় ম্যাচে তার ১৯ বলে ৪৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংস ক্রিকেট মহলে দৃষ্টি কাড়ে।
চোটের কারণে মৌসুম শেষ হলেও দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও মাঠে ফেরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এই তরুণ বাংলাদেশি ব্যাটার।
দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ও অংশগ্রহণ সংকটের পর অবশেষে রাজধানীর ক্লাব ক্রিকেট কাঠামো পুনরুজ্জীবনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান অ্যাডহক কমিটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন নেতৃত্ব গ্রহণের পরই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) পুনরায় চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের অধীনে ক্লাবগুলোর একাংশের অনাগ্রহ ও মতবিরোধের কারণে ডিপিএল আয়োজন স্থগিত হয়ে পড়ে। এমনকি প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ লিগ আংশিকভাবে অনুষ্ঠিত হলেও সব ক্লাবের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি, ফলে সার্বিকভাবে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিসিবির অ্যাডহক কমিটির চেয়ারম্যান তামিম ইকবালের উদ্যোগে ১২টি ক্লাবের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে মে মাসের শুরুতে সুপার লিগ পর্ব ছাড়া ডিপিএল আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী বোর্ডের নেওয়া কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। বিশেষত, প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগে অংশগ্রহণ না করা ক্লাবগুলোকে অবনমনের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা আইনগত ও ক্রীড়া ন্যায্যতার প্রশ্ন বিবেচনায় বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে লিগ কাঠামো পুনর্বিন্যাস নিয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে, প্রমোশন ও রেলিগেশন ব্যবস্থা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার প্রস্তাবে কিছু ক্লাব আপত্তি জানিয়েছে। এ প্রেক্ষিতে সমাধান হিসেবে ভবিষ্যৎ মৌসুমে ক্লাব সংখ্যা বাড়ানোর বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। এদিকে, দ্বিতীয় বিভাগে অংশ না নেওয়া ক্লাবগুলোর খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে পৃথক টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা অংশগ্রহণমূলক ন্যায্যতা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিসিবির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে লিগ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ম্যাচ সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। একদিনেই এক রাউন্ডের সব ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী কাঠামো থেকে ভিন্ন। সার্বিকভাবে, বর্তমান উদ্যোগগুলোকে ক্লাব ক্রিকেটে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং পেশাদারিত্ব নিশ্চিতের একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত দলে কোনো নতুন পরিবর্তন না এনে আগের স্কোয়াডই বহাল রাখা হয়েছে। সর্বশেষ পাকিস্তান সিরিজে অংশ নেওয়া ক্রিকেটারদের নিয়েই গঠিত হয়েছে এই দল, যেখানে নেতৃত্ব দেবেন মেহেদী হাসান মিরাজ। নির্বাচক প্যানেল এ দফায় কোনো চমক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। ঘোষিত স্কোয়াডে রয়েছেন সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা। বিস্তারিত আসছে...
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে ভেন্যু-সংক্রান্ত বিরোধে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন (আইএফএফ) যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত ম্যাচগুলো নিরাপত্তা ও পরিস্থিতিগত বিবেচনায় মেক্সিকোতে স্থানান্তরের জন্য ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় বিষয়টি জটিল রূপ নিচ্ছে। রোববার (৫ এপ্রিল) তুরস্কভিত্তিক আনাদোলু সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দোনিয়ামালি জানান, প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হলে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে; অন্যথায় পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করতে হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলতে সরকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে না। এদিকে, অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও দলের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরানের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা। পরবর্তী ম্যাচগুলোও যুক্তরাষ্ট্রেই নির্ধারিত রয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ফিফার সিদ্ধান্ত এখন ইরানের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।