খুলনা জেলা পরিষদ–এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তছলিমা আক্তারকে ঘিরে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তদন্তে আংশিক সত্যতা মিললেও এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছর ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে বদলি করে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) পদে পদায়নের আদেশ জারি করা হলেও তিন দিনের মধ্যে তা স্থগিত হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই আদেশ স্থগিত হওয়াকে কেন্দ্র করে ‘উচ্চপর্যায়ের প্রভাব’ খাটানোর অভিযোগ ওঠে।
জেলা পরিষদের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, বদলি স্থগিতের পর প্রশাসনিক কার্যক্রমে একক কর্তৃত্ব, কারণ দর্শানোর নোটিশ ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের হুমকিতে কর্মপরিবেশে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়াই সরকারি আবাসন মেরামতে কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গড়িমসির কারণে ব্যয় বৃদ্ধি ও কাজ স্থবির থাকার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা।
তবে ভারপ্রাপ্ত সিইও তছলিমা আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সব প্রকল্প সরকারি বিধি মেনেই পরিচালিত হচ্ছে এবং অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যয় হয়নি। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই কিছু ক্ষেত্রে সময় লেগেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে সক্রিয় থাকার অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বদলির আবেদন করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইন অনুযায়ী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে বিভাগীয় ব্যবস্থা, বদলি বা সাময়িক বরখাস্তের বিধান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বচ্ছ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ছাড়া পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে না। অন্যথায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় আস্থাহীনতা আরও বাড়তে পারে।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের জিপিও লিংক রোড এলাকায় হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও হকারদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে স্বর্ণ গলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত গত ৯ এপ্রিল ওই এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করলেও পরদিনই হকাররা পুনরায় বসে পড়ে, যা নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরবর্তীতে বায়তুল মোকাররম স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে পুনরায় উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত থাকলেও সংঘর্ষ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লাগে। পল্টন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
৩৮ লাখ টাকার আত্মসাৎ মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য মাহি চৌধুরী অর্ণবকে দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক মো. সাজ্জাদ হোসেন পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করে এবং আসামিপক্ষ জামিন আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ফেসবুকের ‘ইনভেস্টর গ্রুপ’-এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী মো. শাকিরুল ইসলাম হিমেলের সঙ্গে পরিচয়ের পর মাহি চৌধুরী নিজেকে ব্যবসায় অংশীদার পরিচয় দিয়ে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখান। পরে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক ও নগদে ৩৮ লাখ ২৮ হাজার ১৫০ টাকা গ্রহণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ ফেরত না দিয়ে তিনি আত্মগোপন করেন এবং টাকা ফেরত চাইলে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। মামলায় মাহি চৌধুরীসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে ২৮ মার্চ তাকে সংগঠন থেকে আজীবন বহিষ্কার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সরকারি তহবিলের মাধ্যমে নির্মাণ করা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ৭১টি বীর নিবাস ভবনের অধিকাংশ কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। ঘরগুলো আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের আগেই পলেস্তরা খসে পড়ছে, গ্রিলে মরিচা ধরছে, টাইলস উঠে যাচ্ছে এবং বিদ্যুৎ-স্যানিটেশনের কাজও অনেক ভবনে অসম্পূর্ণ। পুটিখালী ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী হাওলাদারের ভবনে স্যানিটেশন ও বিদ্যুতের কাজ বাকি থাকলেও বোর্ড খসে পড়ছে, দরজায় ছিটকানি লাগছে না। নজরুল ইসলাম শিকদারের ভবনেরও তিন বছর ধরে ৪০ শতাংশ কাজ অসম্পূর্ণ। বস্তাভর্তি সিমেন্ট গুড়ো করে ব্যবহার করা হয়েছে, পলেস্তরাও ব্যবহার হয়নি। পঞ্চকরণ ইউনিয়নের খারইখালী গ্রামের ৮৫ বছর বয়সী আবু তালেব খানের ভবনের বিদ্যুৎ ও স্যানিটেশন কাজ অসম্পূর্ণ। সামছুর রহমান শরীফের ভবনেরও পলেস্তরা খসে পড়ছে, বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, তার স্ত্রী অসহায়ভাবে অসম্পূর্ণ ভবনে বসবাস করছেন। আব্দুল মান্নানসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের ভবনেরও কাজ অসম্পূর্ণ, নতুন ভবনে ওঠার আগেই পলেস্তরা খসে পড়ছে। মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করেছেন, ঠিকাদাররা বারবার কাজ স্থগিত রাখছে, ফোন ধরছে না এবং বর্ষার আগে কাজ শেষ করা হচ্ছে না। প্রাপ্ত সুবিধাভোগী মুক্তিযোদ্ধারা দাবি করছেন, সরকারিভাবে প্রদত্ত বীর নিবাসে পরিবারসহ নিরাপদভাবে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা হোক। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম বাবুল বলেন, অনেক ভবনের কাজ কম মানের ও অসম্পূর্ণ। তিনি বর্ষার আগেই সকল অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি জানান। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোঃ আহসান উল্লাহ জানান, মাঝপথে কাজ থেমে যাওয়ায় ঠিকাদারদের তাগিদ দিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়েছে। বীর নিবাস প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহও জানিয়েছেন, যথাসম্ভব দ্রুত বাকী কাজ সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।