ঈদ উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘দম’-এর সংবাদ সম্মেলনে আবেগের ঢেউয়ে ভেসে গেলেন আফরান নিশো। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে অভিনয় নিয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি অঝোরে কাঁদতে বাধ্য হন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর অভিজাত একটি স্থানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিশোর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নায়িকা পূজা চেরি, প্রযোজক রেদোয়ান রনি ও শাহরিয়ার শাকিল। তবে বিশেষ আকর্ষণ ছিল সিনেমার মূল চরিত্র নূরের উপস্থিতি, যিনি বাস্তব জীবনের সংগ্রামকে পর্দায় প্রতিফলিত করেছেন। নিজের অভিনীত চরিত্রের গভীরতা ও বাস্তব জীবনের নূরের যাপন শোনার পর নিশো প্রকাশ্যেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “দেখুন, দিনশেষে আমিও তো রক্ত-মাংসের গড়া মানুষ।”
নিশো জানিয়েছেন, চরিত্রের যথার্থ প্রয়োজনে তিনি নূরের গ্রামে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন, জীবনের কঠিন সংগ্রামের গল্প শোনেন এবং সেই বাস্তব অনুভূতি পর্দায় উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘দম’-এর শক্তিশালী ও বাস্তবমুখী চিত্রনাট্যই তাকে এই কাজের প্রতি সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে নিশো দর্শকদের প্রতি আহ্বান জানান সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখার জন্য, যাতে সাধারণ মানুষের অদম্য লড়াই ও সহ্যক্ষমতা অনুভব করা যায়।
মুক্তির পর ‘দম’ সিনেমাটি বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি দেশের সীমানা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। দর্শকরা বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন নিশো ও পূজা চেরির অনবদ্য রসায়ন এবং নূরের জীবনের বাস্তবধর্মী চিত্রায়নকে। প্রযোজকরা দাবি করেছেন, বাংলাদেশে এই ধরনের গল্পে নির্মিত সিনেমা আগে কখনও দেখা যায়নি।
সর্বশেষ, ‘দম’ ঢাকাই চলচ্চিত্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে দেশের সিনেমাপ্রেমীদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও চিত্রকলার জগতের পরিচিত নাম অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত এবার নিজেকে নতুন রূপে উপস্থাপন করেছেন। ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের বারান্দায় বৈশাখী শোভাযাত্রার প্রস্তুতিতে নবীন শিল্পীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চিত্রকলায় অংশ নিতে দেখা গেছে তাকে। কাঁচাপাকা চুল ও নতুন লুকে উপস্থিত হয়ে তিনি শুধু চমক দিয়েছেন না, শিল্পীসত্তার সক্রিয় উপস্থিতিও প্রমাণ করেছেন। ১৯৯৮ সালে চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে এমএফএ ডিগ্রি অর্জন করা বিপাশা ১৯৯২-৯৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে ক্যাম্পাসের আঙিনায় সাবলীল ও আনন্দমুখর ছিলেন। ২০১৯ সাল থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তবে দেশের প্রতি আগ্রহ ও নস্টালজিয়ার কারণে মাঝে মধ্যে দেশে ফিরলেও ক্যামেরার সামনে আসা এড়িয়ে চলেছেন। এবার সে চিত্রপট ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি প্রায় সাত বছর পর আবারও ক্যামেরার সামনে এসে অভিনয় থেকে দূরে থাকার কারণ তুলে ধরেছেন। বিপাশা জানান, অভিনয়কে চিরতরে বিদায় জানাননি, তবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর মতো প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি শুধু মানসিকভাবে নয়, শারীরিকভাবে ঘাম ঝরানো চরিত্র করতে চাই। আমি সেই মানুষের কাহিনী বলতে চাই, যারা বেদনার্ত ও কষ্টে ভুগছে।” চিত্রকলায় নিয়মিত সক্রিয় থাকা বিপাশা দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রদর্শনীর অংশগ্রহণ করছেন। গত বছর ঢাকার গ্যালারি চিত্রক-এ তার একক প্রদর্শনী ‘প্রস্তরকাল’ আয়োজন করা হয়, যা তার শিল্পীসত্তার নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে বিবেচিত হচ্ছে। শিল্পী হিসেবে বিপাশা হায়াত এবার শুধুমাত্র প্রেক্ষাপট নয়, ভাবনা ও সমাজকেন্দ্রিক বার্তা দিয়ে নতুন দিকনির্দেশনার প্রতীক হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছেন।
বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনের একসময়ের পরিচিত শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবার ব্যক্তিজীবনকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অভিযোগে বিষয়টি এখন সামাজিক ও আইনগত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই বিয়ের ইঙ্গিত দেন লুবাবা। তবে তার বয়স নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই বিষয়টি বাল্যবিবাহের আওতায় পড়ে কিনা—তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালে তিনি প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পরবর্তী সময়েও শিক্ষাজীবনে যুক্ত ছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বৈবাহিক বয়স পূর্ণ হয়েছে কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, নারীর ন্যূনতম বিবাহযোগ্য বয়স ১৮ বছর এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ২১ বছর। এ বিষয়ে আইনজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, বয়স গোপন করে বিবাহ সম্পাদন করা হলে তা বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ (সংশোধিত) এবং প্রযোজ্য দণ্ডবিধির আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মতে, কাজীর মাধ্যমে বৈধ নিবন্ধন ছাড়া কোনো বিবাহ আইনত স্বীকৃত নয়। যদি কোনো কাজী অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিবাহ নিবন্ধন করেন, তবে তা তার লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে। একইসঙ্গে দেশের বাইরে কোর্ট স্ট্যাম্পে সম্পাদিত বিবাহও বাংলাদেশের আইনে বৈধতা পায় না। আইন অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক কোনো ব্যক্তি বাল্যবিবাহে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান তুলনামূলক ভিন্ন হলেও তা আইনগত দায়মুক্তি নিশ্চিত করে না। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সিমরিন লুবাবা বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া এবং আইনগত অবস্থান নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান ও যাচাই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিনোদন অঙ্গনের জনপ্রিয় মুখ ও টালিউডের আলোচিত অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। সম্প্রতি তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকৃতির সান্নিধ্যে তোলা কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন, যা প্রকাশের পরপরই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, ফুলে ঘেরা একটি সবুজ বাগানের মাঝে সময় কাটাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। হালকা সবুজ রঙের স্লিভলেস টপ ও সাদা প্যান্টে সরল অথচ রুচিশীল পোশাকে ধরা দিয়েছেন তিনি। স্বাভাবিক মেকআপ, খোলা চুল ও ছোট গোলাকার কানের দুলে তার উপস্থিতি ছিল পরিমিত ও নান্দনিক। কিছু ছবিতে হাতে ফুল নিয়ে চিন্তামগ্ন ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। আবার একটি ছবিতে মোবাইল ফোন হাতে সেলফি তুলতেও দেখা যায়। চারপাশের গোলাপি ফুল ও সবুজ প্রকৃতি ছবিগুলোর সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ছবিগুলো প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত ও অনুসারীদের কাছ থেকে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অনেকেই তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও স্টাইলের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, সরল সাজেই নতুনভাবে আকর্ষণ ছড়িয়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।