সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাগেরহাটের খান আকরাম হোসেনকে খালাস দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক খান আকরামকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানির পর আদালত আগের সর্বোচ্চ সাজা বাতিল করে এই সিদ্ধান্ত দেন। ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল তাঁকে এবং আরও ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।
মামলায় Khan আকরামের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জে বাড়িঘর লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ এবং মুক্তিকামী ১০ জনের হত্যার অভিযোগ ছিল। এছাড়া কচুয়া ও উদানখালীতে অপহরণ, হত্যার পাশাপাশি নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
দণ্ডপ্রাপ্তরা ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আজ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাঁকে খালাস প্রদান করেন।
হাইকোর্ট নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী-কে পৃথক পাঁচ মামলায় জামিন প্রদান করেছেন। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত দেন। জামিন পাওয়া মামলাগুলোর মধ্যে চারটি মামলায় ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি, আব্দুর রহমান, মো. ইয়াছিন ও পারভেজ হত্যা মামলার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। অপর একটি মামলা সদর মডেল থানায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা হয়। আইভীকে গত বছরের ৯ মে ভোরে দেওভোগ এলাকায় তার বাসস্থান চুনকা কুটির থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। হাইকোর্টের জামিনের পর আপিল বিভাগ তা স্থগিত করলেও, ১৮ নভেম্বর আরও পাঁচ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সিনিয়র আইনজীবী সারা হোসেন ও মোতাহার হোসেন সাজু আসামিপক্ষের পক্ষে ছিলেন।
নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির–কে আনুষ্ঠানিকভাবে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে তাকে ব্যাজ পরিয়ে দেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অতিরিক্ত আইজিপি আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি পদে নিয়োগ দিয়ে মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা। জানা গেছে, তিনি বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে তাকে প্রথমে চাকরিচ্যুত এবং পরে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি এসপি পদমর্যাদায় পুনর্বহাল হন। পরবর্তীতে সুপার নিউমারারি পদে ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে সর্বশেষ দেশের পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ পদ আইজিপি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
ছেলে অপহরণ হওয়ার খবর শুনে সচিবালয়ের কর্মচারী বাবা কাঁদতে কাঁদতে ঢুকে পড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। সামনাসামনি পেয়েও যান প্রধানমন্ত্রীকে। খবরটা শুনেই ফোনে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ছেলেটিকে উদ্ধারের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর এক ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীর খিলগাঁওয়ের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে ছেলেটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম ওই উদ্ধার অভিযানে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, অপহৃত ছেলেটি খিলগাঁওয়ের ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি আইডিয়াল স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। দুপুর আড়াইটার সময় স্কুল থেকে বের হওয়ার পর ৪-৫ ব্যক্তি তাকে আটকে জোড়পুকুর এলাকায় সাততলা নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করা হয়। এরপর তার বাবার ফোন নম্বর নিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চায় অপহরণকারীরা। টাকা না দিলে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ছেলেটির বাবা সচিবালয়ে চাকরি করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের দপ্তরে কাঁদতে কাঁদতে ঢুকে পড়েন। পরে প্রধানমন্ত্রী ফোন করে ছেলেটিকে দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশনা দেন। এরপর অপহরণকারীরা যে নম্বর থেকে ফোন দিয়েছিল, সেই নম্বর নিয়ে ‘টাকা পাঠানোর’ আশ্বাস দিয়ে যোগাযোগ শুরু করে পুলিশ। রমনার ডিসি বলেন, ‘কোন নম্বরে টাকা পাঠানো হবে তাদের কাছে সেই নম্বর চাওয়া হয়। তারা প্রথমে নম্বর দিতে বিলম্ব করছিল। কিছুক্ষণ দর কষাকষিও চলে। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট ভবনে গিয়ে ছেলেটিকে উদ্ধার করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়।’ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী শিশু অপহরণের খবর শুনেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ফোন করে পুলিশকে নির্দেশ দেন।’