শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে তারেক রহমান তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আগমন করেন। সরকারি ছুটির দিন হলেও তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অধীনস্থ দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, ইসমাইল জবিহউল্লাহ, হুমায়ুন কবির, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএম শামসুল ইসলাম, জাহের উর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা চেয়েছেন। এছাড়া বিকালে তিনি বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত ইফতারে যোগ দেবেন।
এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং প্রতি শনিবার সরকারি ছুটির দিনেও অফিস করেছেন।
ক্রুড তেলের তীব্র সংকটের কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল)-এর তেল পরিশোধন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালিত হয় রবিবার (১৩ মে) বিকেলে। প্রায় দুই মাস ধরে নতুন ক্রুড তেল আমদানি বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে। ইআরএল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিকল্প উৎস হিসেবে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইন ও ট্যাংকের তলানিতে থাকা সীমিত ডেড স্টক ব্যবহার করে সাম্প্রতিক সময়ে আংশিক পরিশোধন চালু রাখা হয়েছিল। তবে দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ৪,৫০০ টন হলেও সংকটের কারণে তা কমিয়ে ৩,৫০০ টনে নামানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত মজুত প্রায় নিঃশেষ হয়ে যায়। এদিকে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশের পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আপাতত সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন ক্রুড তেলের চালান আসার পর পুনরায় কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে, যার একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা অপরিশোধিত তেল ইআরএলে পরিশোধিত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি তেলও আমদানি করা হয়ে থাকে।
দেশে হামসহ বিভিন্ন রোগে শিশু মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ ও ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরে সাগর দুদক চেয়ারম্যানের কাছে এ আবেদন জমা দেন। আবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি এবং শিশুমৃত্যুর ঘটনা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুতর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারি পর্যায়ে টিকা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি এবং এর প্রভাব নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনিক দায়-দায়িত্ব নিরূপণের দাবি উঠেছে এবং সামাজিক ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আবেদনে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায় নির্ধারণে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালুর বিষয়ে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে সক্রিয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১২ এপ্রিল দেওয়া ওই ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি, অভিবাসন ব্যয় হ্রাস এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দিতে সংশ্লিষ্ট দেশটির সঙ্গে চলমান আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতির দিকে যাচ্ছে এবং প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে।