বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে অসহায়দের জন্য বরাদ্দ ঈদুল ফিতরের ভিজিএফের ১২ বস্তা চাল একটি হোটেল থেকে উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ফুলহাতা বাজারের একটি ভাতের হোটেলে এসব চাল পাওয়া যায়।
হোটেল মালিক মিন্টু জোমাদ্দার দাবি করেন, বহরবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ হাওলাদার বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে এসব চাল তার হোটেলে রেখে যান। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, চালগুলো বিক্রি করা হয়েছে।

ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাজিব মজুমদার জানান, পবিত্র ঈদ উপলক্ষ্যে বহরবুনিয়া ইউনিয়নে ১ হাজার ৯০ জন সুবিধাভোগীর মাঝে ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ কার্যক্রমে ট্যাগ অফিসারের প্রতিনিধি হিসেবে ফুলহাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফজলুল হকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে বহরবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ হোসেন হাওলাদার বলেন, “চাল বিতরণের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। হোটেলে থাকা চালের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একটি মহল আমাকে জড়ানোর চেষ্টা করছে।”
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৈবাহিক প্রতারণা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড অর্জনের অভিযোগ উঠেছে হুমায়ুন কবির নামের এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ইয়াদি রাজ্জাক ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির ও অভিযোগকারী ইয়াদি রাজ্জাক—উভয়ের বাড়ি নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযোগপত্র ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে সিভিল ম্যারেজের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। ইয়াদির দাবি, বিয়ের পর থেকেই তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। ২০০৮ সালে নির্যাতনের অভিযোগে হুমায়ুন কবির গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, দাম্পত্য সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশে একাধিক বিয়ে করেন এবং ২০১৭ সালে গোপনে আরেকটি বিয়ে করে দুই সন্তানের জনক হন। বর্তমানে তিনি অন্য এক নারীকে স্ত্রী পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ পত্র ইয়াদি রাজ্জাক দাবি করেন, হুমায়ুন কবির তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা নিয়ে তা অন্যত্র ব্যবহার করেছেন এবং ২০০৮ সাল থেকে কোনো ভরণপোষণ দেননি। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে কর্মরত। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যক্তিগত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ইয়াদির ভাষ্য অনুযায়ী, হুমায়ুন কবির তাকে জানিয়েছেন যে শুধুমাত্র গ্রিন কার্ড পাওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি তাকে বিয়ে করেছিলেন এবং জালিয়াতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করেছেন। ভুক্তভোগী নারী ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বলে দাবি করেন। তিনি দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রিন কার্ড বাতিলসহ ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নোয়াখালী পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী মহানগরীতে চোরাই মোটরসাইকেলসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) এর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. বাধন হোসেন সৌরভ (২১) ও মো. পলাশ (২৪)। পুলিশ জানায়, ৬ মে দিবাগত রাতে পৃথক অভিযানে রাজপাড়া থানার লক্ষীপুর কাঁচাবাজার এলাকা থেকে সৌরভকে এবং কাশিয়াডাঙ্গা থানার বালিয়া এলাকা থেকে পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। সৌরভের ভাড়া বাসা থেকে একটি লাল রঙের চোরাই Bajaj Discover 125 মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী ও আশপাশের এলাকায় মোটরসাইকেল চুরি করে বিক্রি করে আসছিল। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধেই বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সুন্দরবনে জলদস্যুদের তাণ্ডবে জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত দুই দিনে দস্যুদের হামলায় অন্তত ২৫ জন বনজীবী অপহৃত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (৪মে) সকাল থেকে মঙ্গলবার (৫ মে) বিকাল পর্যন্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খাল—চুনকুড়ি নদীর গোয়ালবুনিয়া দুনের মুখ, ধানোখালী খাল, মামুন্দো নদীর মাইটভাঙা খাল ও মালঞ্চ নদীর চালতেবাড়ি খাল এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলিম ও ডন বাহিনীর পরিচয়ে সশস্ত্র দস্যুরা মাছ, কাঁকড়া ধরা ও মধু সংগ্রহে থাকা নৌকাগুলোতে হামলা চালিয়ে প্রতিটি নৌকা থেকে একজন করে বনজীবীকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। এ পর্যন্ত ১৬ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন শ্যামনগরের হুমায়ুন, আব্দুল সালাম, আবুল কালাম, শাহাজান গাজী, সিরাজ গাজী, আবুল বাসার বাবু, আল-আমিন, আল-মামুন, মনিরুল মোল্লা, সঞ্জয় মণ্ডল, হৃদয় মণ্ডল, রবিউল ইসলাম বাবু, রবিউল ইসলাম, শুকুর আলী গাজী, ইব্রাহিম গাজী ও মুরশিদ আলম। নিরাপত্তাজনিত কারণে অন্যদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। অপহরণের পর দস্যুরা কয়েকজনের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেছে। এর মধ্যে ইব্রাহিম গাজীর জন্য ৩০ হাজার, মুরশিদের জন্য ১ লাখ এবং আব্দুল সালামের জন্য ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, একই বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। কার্যকর প্রতিরোধ না থাকায় দস্যুরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল হক জানান, কয়েকজন বনজীবী অপহরণের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে জিম্মিদের নিরাপত্তার কারণে বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ খালেদুর রহমান বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পরিবারগুলো নিজেরাই সমঝোতার চেষ্টা করে এবং নিরাপত্তার কারণে তথ্য দিতে অনীহা দেখায়। তবুও ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বনজীবীদের দাবি, সুন্দরবনে নিরাপত্তা জোরদার না হলে জীবিকার জন্য বনে যাওয়া তাদের জন্য দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।