ফকিরহাট থেকে অপহৃত ১৮ মাস বয়সী শিশুকন্যা রাফছাকে পুলিশ ও র্যাব-৬-এর যৌথ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নয়ন শেখ (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিশুটিকে বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে উদ্ধার করা হয়। অপহৃত রাফছা ফকিরহাট উপজেলার ছোট বাহিরদিয়া গ্রামের আ: রশিদ খানের মেয়ে। গ্রেফতার নয়ন শেখ খুলনার টুটপাড়া এলাকার আসলাম শেখের ছেলে। ফকিরহাট মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো: আলমগীর হোসেন জানান, নয়নের স্ত্রী শিশুটিকে কোলে নেওয়ার কথা বলে পরিবারের বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় শিশুটি ফেরত না আসায় উদ্বেগ দেখা দেয়। পরবর্তীতে নয়ন মোবাইল ফোনে শিশুটিকে ফেরত দিতে টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে ক্ষতি করার হুমকি দেয়। র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো: নাজমুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং নয়নকে গ্রেফতার করে ফকিরহাট মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় জুস খাইয়ে চালককে অজ্ঞান করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুই নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—সৈয়দপুর পৌরসভার মুন্সিপাড়ার নিরব ইসলাম (৩৮), তার স্ত্রী রুপা আক্তার (৩৫) এবং রেশমা বেগম (২০)। বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সিঙ্গেরগাড়ী এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, তারা যাত্রীবেশে ইজিবাইকে উঠে চালককে জুস ও অন্যান্য পানীয় খাইয়ে অজ্ঞান করে যানবাহন ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছিল। এ সময় স্থানীয়রা চালককে অচেতন অবস্থায় দেখে সন্দেহ হলে তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ‘অজ্ঞান পার্টি’ চক্রের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় পৃথক হামলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ও সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার কাসেমাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—নলচিড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মিয়া মুকুল এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক কাওসার হোসেন। আহত ফিরোজ মিয়া মুকুল অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দুপুরে পিঙ্গলাকাঠী বাজারে গেলে তাকে আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে প্রতিপক্ষের কয়েকজন যুবদল কর্মী পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি সেখান থেকে সরে যান এবং বর্তমানে নিরাপত্তাজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যদিকে কাওসার হোসেন জানান, সোমবার দিবাগত রাতে তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ৮-১০ জনের একটি দল হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, বিষয়টি তাদের জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালীর পৃথক দুই ঘটনায় আদালত দুই আসামিকে দণ্ড দিয়েছেন। এক মামলায় স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, আর অপর মামলায় এক যুবককে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়েছে। নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম সিকদার মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে রায় ঘোষণা করেন। প্রথম মামলায়, ২০১৮ সালে কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ইউনিয়নে শাহানারা বেগম নামে গৃহবধূকে হত্যার ঘটনায় তার স্বামী গোলাম সারোয়ারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঘটনার দিন ভোরে নামাজরত অবস্থায় গামছা দিয়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তিনি। অপর মামলায়, বেগমগঞ্জের করিমপুর এলাকায় ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় মো. বরকত উল্লাহকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মামলাটি ২০২০ সালের মার্চে দায়ের করা হয়েছিল। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. সেলিম শাহী জানিয়েছেন, আদালতের রায় সমাজে অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার “মমতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার”-এর চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সিজারের পর বিল পরিশোধ করতে না পারায় নবজাতক বিক্রির চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও প্রশাসন ক্লিনিক পরিদর্শন করে এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। ভুক্তভোগী দম্পতি রাকিবুল হাসান ও হাবিবা সুলতানা জানান, শুক্রবার রাতেই প্রসূতি হাবিবা সুলতানা ক্লিনিকে ভর্তি হন। রবিবার রিলিজ নেওয়ার সময় ২২ হাজার টাকার বিল না দিতে পারায় চিকিৎসক তাদের ওপর বিকল্প অমানবিক চাপ প্রয়োগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নবজাতক বিক্রির পরিকল্পনা করতে থাকে, যেখানে বাচ্চার দাম থেকে কিছু টাকা ডাক্তার রাখবে এবং বাকি পরিবারের হাতে দেয়া হবে। স্থানীয়রা ক্লিনিকের নিয়মিত খারাপ আচরণ এবং রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনা স্বীকার করেছেন। বিষয়টি প্রশাসন ও সাংবাদিকদের নজরে আসলে দ্রুত অভিযান চালানো হয়। পরিদর্শনে মেডিকেল অফিসার ডা. সোহান চৌধুরী জানান, নবজাতক বিক্রির অভিযোগের পাশাপাশি আরও কিছু অসংগতি ধরা পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ক্লিনিকের দায়িত্বে অবহেলা, পর্যাপ্ত জনবল ও দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকার বিষয়গুলো শনাক্ত করা হয়েছে। ক্লিনিককে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন ইউএনওর কাছে জমা দেওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় এক নবজাতক শিশুকে ইচ্ছাকৃতভাবে পঙ্গু করার চেষ্টা এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে এক দম্পতির বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাদকাসক্ত ওই দম্পতি শিশুটিকে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তার শরীরে নৃশংস নির্যাতন চালায়। সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় হিলি পৌর এলাকার চুড়িপট্টি থেকে পুলিশ শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জন্মের পর থেকেই শিশুটির ওপর নির্যাতন চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটির হাতের আঙুল কেটে ফেলা এবং শরীরে আগুনের ছ্যাকা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে বিচ্ছিন্ন অঙ্গ ফেলে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর শিশুটির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির শরীরে গুরুতর আঘাত ও সংক্রমণের লক্ষণ রয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় ভুট্টাখেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, দুর্বৃত্তরা তাকে মারধর করে কানে থাকা সোনার দুল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। সোমবার (৩১ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাকে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জান্নাতুল ইসলাম বলেন, “শিশুটির কান, মুখ, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরিবার অভিযোগ না করার কারণে ধর্ষণের বিষয়টি পরীক্ষা করা হয়নি, শুধুমাত্র ক্ষতের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।” স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শিশুটি তখন একা খেলছিল এবং দুর্বৃত্তরা তাকে জোর করে ভুট্টাখেতে নিয়ে হামলা চালায়। শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া না গেলে পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কায় তৎপর হন। দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম. আবদুল হালিম জানিয়েছেন, “পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের কোখানিপাড়া গ্রামে র্যাব-৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা ৯.১৫০ কেজি গান পাউডার সদৃশ গুড়া পদার্থ ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) র্যাব এ তথ্য নিশ্চিত করে। র্যাব জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত আলামতগুলো নাশকতা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাখা হয়েছিল। ঘটনাস্থলে কাউকে আটক করা যায়নি। উদ্ধারকৃত আলামতগুলো পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব আরও জানায়, ২৯ মার্চ রাত ১১টার দিকে আভিযানিক টহল দলের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আম বাগানের মধ্যে থাকা চারটি প্লাস্টিক ব্যাগ থেকে মোট ৯.১৫০ কেজি গান পাউডার সদৃশ গুড়া, কাঁচের টুকরা, লোহার পেরেক, প্লাস্টিকের জর্দার কৌটা, কসটেপ ও গ্যাস লাইটার উদ্ধার করা হয়। এগুলো নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জে কলেজ শিক্ষককে রিকশায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল ছিনতাইকারীদের হাতে লুটপাট, সোনালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৯ মার্চ) ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে পূর্ব ইসদাইর এলাকার রাবেয়া হোসেন উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে এই আক্রমণ চালানো হয়। ভুক্তভোগী ফারজানা আফরোজ, নারায়ণগঞ্জ কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক, জানান, ছেলে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে তিন মোটরসাইকেলবাহিত ছিনতাইকারী তাঁর রিকশার গতিকে আটক করে। এরপর দুইজন ধারালো চাপাতি মুখে ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেয় এবং তাঁর কাছে থাকা একটি মোবাইল, একটি পার্স ও দেড় ভরি সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়। ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ছিনতাইকারীদের শনাক্তে তৎপর রয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মান্নান লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এটি নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মকর্তার ওপর ছিনতাই-হামলার ধারাবাহিক ঘটনার মধ্যে একটি।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে ৪ হাজার ৮শ’ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোহাম্মদ খালেকুল (২৩) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। জেলা শহরের ওয়াপদা এলাকায় পঞ্চগড়গামী একটি যাত্রীবাহি বাস থেকে তাকে আটক করা হয়। খালেকুল ঠাঁকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড় পলাশবাড়ি নয়া দলুয়া এলাকার মোহাম্মদ আসলামের ছেলে। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নীলফামারী জেলা কার্যালয় জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রিয়ম বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার স্কুল ব্যাগে রাখা ৪৮০০ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। নীলফামারী ‘খ’ সার্কেলের উপ-পরিদর্শক সাকিব সরকার জানান, এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় মামলা (নং-২১) দায়ের করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত পেট্রোল ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধেই। শুক্রবার বিনসাড়া বাজারে অভিযান চালিয়ে মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজ থেকে ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, জব্দকৃত পেট্রোলের একটি অংশ খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশনে বিক্রি করা হলেও অবশিষ্ট অংশ অন্যত্র নেওয়া হয়েছে, যার স্বচ্ছ হিসাব প্রদান করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনের একটি সূত্র দাবি করেছে, দুই ড্রাম পেট্রোলের মধ্যে এক ড্রাম সেখানেই খুচরা বিক্রি করা হয় এবং অপর ড্রাম অন্য স্টেশনে নেওয়ার কথা বলা হয়। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির মালিক অভিযোগ করেন, জরিমানার রসিদ দেওয়া হলেও জব্দকৃত পেট্রোলের কোনো আনুষ্ঠানিক নথি প্রদান করা হয়নি এবং পরবর্তীতে খালি ড্রাম ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিধি অনুযায়ী জব্দকৃত পেট্রোল খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশন থেকে জনপ্রতি এক লিটার করে বিক্রি করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
নীলফামারীতে তেল চুরির অভিযোগে তিন শ্রমিককে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (২৮ মার্চ) রাত ৮টার দিকে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নিয়াজ ভূঁইয়া জানান, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি তেলের লড়ি সন্দেহজনক মনে হলে তাৎক্ষণিকভাবে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় একটি জেরিকেন থেকে ১৩ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয় এবং লড়ির ড্রাইভার ও হেল্পারসহ তিন শ্রমিককে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের প্রত্যেককে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, তেল চুরি ও পাচার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে কুখ্যাত ডাকাত বাহিনীর প্রধান ইয়ার আলী (৩৫) গ্রেফতার হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত ইয়ার আলী শংকরপুর গ্রামের জব্বার আলী তালুকদারের ছেলে এবং এলাকায় ‘ইয়ার-বাহার’ ডাকাত বাহিনীর প্রধান হিসেবে পরিচিত। কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে র্যাব ও পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। এসময় স্থানীয় আলমগীরের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি, দুটি ওয়াকিটকি এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল হোসেন জানান, ইয়ার আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তার তৎপরতা বেড়ে যায়। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে থানায় এনে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে। পুলিশ জানায়, ইয়ার আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতিসহ ১০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
বরিশাল নগরীতে ভূয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক দালালকে রোগীদের প্রতারণার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে সদর রোড থেকে আটক করা মাসুম হাওলাদার নামের ওই দালালকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে সাজা দেন। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে বিভিন্ন প্রবেশদ্বার—নথুল্লাবাদ, লঞ্চঘাট ও রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড—থেকে অসুস্থ মানুষদের ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে ধরে এনে ভূয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের হাতে তুলে দেওয়ার একটি চক্র সক্রিয় ছিল। এতে রিক্সা ও অটো চালকরা দালালদের সঙ্গে অংশীদার হয়ে মোটা কমিশন অর্জন করত। এ চক্রের মাধ্যমে গ্রামীণ রোগীদের কাছ থেকে ভূয়া টেস্টের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো। বৃহস্পতিবার সদর রোডস্থ বিবির পুকুরপারে সাউথ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিকের দালাল মাসুম হাওলাদারকে স্থানীয়রা আটক করে। খবর পেয়ে কোতয়ালী থানার এসআই রুহুল আমীন তাকে থানায় নিয়ে যান। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সামারী ট্রায়ালের মাধ্যমে মামলার বিচার শেষে মাসুম হাওলাদারকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় আরও এক ব্যক্তিকে স্বাক্ষী হিসেবে গ্রহন করা হয়েছে, যিনি নিজেও অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল।
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জমিজমা বিরোধে ছোট ভাইকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের পাশের চতুল রেললাইন সংলগ্ন এলাকা থেকে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মিন্টু মোল্লা (৫৭) স্থানীয় চতুল গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত বড় ভাই গোলাম কবির (৭১) জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি ও পেশায় চিকিৎসক। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চলমান পৈতৃক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গোলাম কবির মিন্টুকে বাগান কাজ থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করেন। বাগ্বিতণ্ডা শেষে তিনি নিজের লাইসেন্সকৃত শটগান দিয়ে মিন্টুর গলা ও বুকে ছয়টি গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে গোলাম কবিরকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পুলিশকে খবর দেন। পরে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, হত্যার ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে। নিহতের লাশ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অপরাধ সংক্রান্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, গোলাম কবিরের বিরুদ্ধে পূর্বেও মারামারি, অস্ত্র ব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিভিন্ন মামলায় বিচারাধীন রয়েছে। তিনি বর্তমানে ফরিদপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত এবং নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘গোলাম কবির নার্সিং ইনস্টিটিউট’-এর চেয়ারম্যান।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী হলেন একই ওয়ার্ডের বিএনপি সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম। অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারিভাবে ৩০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও আব্দুল হাই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১৩,৭০০ টাকা করে আদায় করেছেন। এছাড়া, তিনি বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মারমুখী ও অশোভন আচরণ করেছেন। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন, মেম্বার ও তার ছেলে ও সহযোগীরা স্থানীয়দের ওপর হামলা চালিয়েছেন। একটি বিদ্যালয়ের দপ্তরীকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা এবং মিথ্যা সংবাদ প্রচার করাও অভিযোগের মধ্যে রয়েছে। ৫নং ওয়ার্ডের বিএনপি সভাপতি কামাল মিয়া বলেন, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর আব্দুল হাই এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে বিএনপি নেতাকর্মীদের দমন করছেন। দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে গ্রাম্য সালিশও হয়েছে। অভিযুক্ত আব্দুল হাই ফোনে জানান, “দলীয় লোকদের সমন্বয় করে কার্ড বিতরণ করেছি।” এ ঘটনার পর এলাকার মানুষ উত্তেজিত এবং তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও জাতীয় পার্টির নেতা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানব পাচারের অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানা-র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এই তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। ডিবি প্রধান জানান, সোমবার রাতের দিকে বারিধারা থেকে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ফেনী জেলায় ৬টি এবং ঢাকায় ৫টি মামলা রয়েছে, মোট ১১টি মামলা। প্রাথমিকভাবে তাকে পল্টন থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ঢাকার পল্টন, বনানী, কোতোয়ালি, মিরপুর ও হাতিরঝিল থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মানব পাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগেও একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন। ২০০৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এক-এগারোর সময় জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে ঢাকায় ব্যবসা ও রেস্তোরাঁ খাতেও যুক্ত হন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি দুই দফায় (২০১৮ ও ২০২৪) ফেনী-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সাইবার সুরক্ষা আইনে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকালে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে বড়ভিটা বাজার সংলগ্ন একটি ক্লাবঘরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো সাজু খান (৩৫), আসাদুজ্জামান (৪০), তানভীর আহমেদ মিজান (৩০), তানজিদ হোসেন (২৪), তৌহিদুল ইসলাম (৩০) ও আলাল ইসলাম (৩৫)। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এসআই কাজী রিপন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, তারা ডিজিটাল ডিভাইস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভিসা, নকল পাসপোর্ট, ভুয়া চাকরির নিয়োগপত্র ও ব্যাংক লোনের প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশ, রকেট ও নগদ অ্যাকাউন্টে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। পাশাপাশি তারা অনলাইন ক্যাসিনোতে জড়িত ছিল এবং মাদক সেবন করছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা এসব কার্যক্রমে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুছ জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের তালুকনগর গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে দুই ব্যক্তির ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে তালুকনগর বাজার এলাকায় এ হামলা হয়। আহতরা হলেন মো. জালাল মিয়া (৩৭) ও পিন্টু (৩৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইলিয়াসের ছেলে ইমরান (৩৫), জাহিদ (২৮) এবং তাদের সহযোগী রাজিব (২৫) ও আলামিন (২৫) দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। আহত পিন্টুর দাবি, হামলাকারীরা চাপাতি, দা ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে জালাল গুরুতর আহত হন এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ২২ মার্চ তোফায়েল আহমেদ সূর্য (৫২) নামের আরেক ব্যক্তির ওপরও একই কায়দায় হামলার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত ইমরান এলাকায় প্রভাবশালী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত এবং তার সহযোগীরা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় না আনলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি মো. কমর উদ্দিন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় বিলকিস বেগম (৩২) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ভোরে উত্তর চাঁদশী গ্রামের একটি বাগান থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত বিলকিস ওই গ্রামের মাইনুল গাজীর স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এর জের ধরে রাতের কোনো এক সময় গলায় ফাঁস দেন বিলকিস। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। নিহতের চাচাতো ভাই রাব্বি হাসানসহ পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, কয়েকদিন ধরে বিলকিসের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন স্বামী মাইনুল গাজী। তাদের অভিযোগ, হত্যার পর মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও মাইনুল গাজীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, নিহতের শ্বশুর আলতাফ গাজী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে বিলকিস আত্মহত্যা করেছেন। এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জামালপুরের ইসলামপুরে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ রাসেল মিয়া (২২) নামে এক মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রবিবার (২২ মার্চ) দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নের বোলাকীপাড়া গ্রামের ছত্তরহাজির মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে স্থানীয় যুবসমাজ। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত ১০টার দিকে রাসেল মিয়া মাদক বিক্রির চেষ্টা করলে যুবকেরা তাকে হাতেনাতে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৮টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে স্থানীয় বাজারে একটি দোকানে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে এসে তাকে থানায় নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইসলামপুর থানার উপপরিদর্শক তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। গোয়ালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাদশা বলেন, এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে স্থানীয়রা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইসলামপুর থানার ওসি মো. আব্দুল কাইয়ুম গাজী জানান, আটক ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।