অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর্জা মো. আব্দুস সালাম ও তার স্ত্রী শাহানা পারভীনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি রুজু করেন। সম্পদ গোপনের অভিযোগ মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শাহানা পারভীন ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ২১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তার নামে প্রায় ৯৫ লাখ ১৬ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্রায় ৭৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়া তার বৈধ আয় ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা হলেও পারিবারিক ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার ৭৫০ টাকা। ফলে ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫০ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। স্বামীর বিরুদ্ধে ও সহায়তার অভিযোগ মামলায় অভিযোগ করা হয়, এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস সালাম সরকারি চাকরির ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে স্ত্রীর নামে সম্পদ গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(2) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ অস্বীকার করে এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস সালাম মামলাকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, “আমাদের বৈধ ট্যাক্স দেওয়া আছে। এগুলো আমার স্ত্রীর পারিবারিক সম্পত্তি। হয়রানি করতেই এ মামলা করা হয়েছে। উল্লেখ, রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা শাখায় থাকা কালে অবৈধ আয়ে নগরীর বহরমপুরে বহুতল বাড়ি করেন। গোয়েন্দা শাখায় পরিদর্শক মীর্জা আব্দুস সালাম ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি, আটক ব্যানিজ্যসহ মাসিক মাসোহারা উত্তোলনের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ হয়।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কচাইকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মাইদুল ইসলাম ঘুষ দিতে গিয়ে রংপুরে আটক হয়েছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রোকসানা বেগম তাকে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করেন। উপ-পরিচালক জানান, মাইদুল ইসলাম গত সপ্তাহেও তার দফতরে এসেছিলেন শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে আলোচনা করতে। সোমবার তিনি আবার এসেছিলেন এবং ব্যাগে থাকা আট লাখ টাকা দিতে চাইলে ও এমপিওভুক্তির জন্য অনুরোধ করেন। উপ-পরিচালক এই অনুরোধ গ্রহণ না করার পর পুলিশকে অবগত করেন। আটক মাইদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমি জানতাম না ম্যাডাম ঘুষ নেন না। আট লাখ টাকা দেওয়ার চেষ্টা আমার অন্যায় ছিল।” রংপুর মহানগর পুলিশ কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান বলেন, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় নমুনা ব্যালটসহ আটক উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক সুকুমার দাস বাবু (৪৮) কে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন সংক্ষিপ্ত বিচারিক আদালত। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের গেটের সামনে থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে আটক করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেন। পরে সংক্ষিপ্ত বিচারিক আদালতের বিচারক রানা পারভেজ এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত সুকুমার দাস বাবু উপজেলার তোড়িয়া ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ বাজার খ্রিস্টানপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং বিমল দাসের ছেলে। তিনি ‘অভিযান নিউজ টিভি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিক বলেও পরিচয় দেন বলে জানা গেছে। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সুকুমার দাস বাবু আরও দুইজনকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে এক বান্ডিল নমুনা ব্যালট নিয়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেন এবং ভোটারদের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করেন। আদালতের রায় শেষে তাকে আটোয়ারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়র রহমান জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দ্রুত জেলহাজতে পাঠানো হবে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলীপুর এলাকায় গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ককটেল ও মাদকসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগতো রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলীপুর এলাকার একটি বাঁশবাগানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটককৃত ব্যক্তির নাম আবু মুসা (৩২)। তিনি সদর উপজেলার রসূলপুর গ্রামের মো. রেজাউল ইসলামের ছেলে। সাতক্ষীরা সদর সেনা ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, তল্লাশির সময় আবু মুসার কাছ থেকে ৫টি ককটেল, ৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৯৩টি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৫৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত আলামত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য সাতক্ষীরা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক বিরাজ আলী (৪৭) দুর্বৃত্তদের চাপাতি হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার রামচন্দ্রপুর গোরস্তান এলাকায় গরুর ঘাস কাটার পর বাড়ি ফেরার পথে হেলমেট পরা এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল থেকে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারী পালিয়ে যায়। বিরাজ আলীকে প্রথমে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বড় ভাই আব্দুল মজিদ জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে স্থানীয় বা রাজনৈতিক কোনো বিরোধ ছিল না। চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন ফারুকী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে একটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও অস্ত্রসংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিকেনগর ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মজিবর মাদবরের নিজ বাসভবনে এই অভিযান পরিচালিত হয়। যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযানে একটি পিস্তলের কভার ও সিলিং, অস্ত্র পরিষ্কারের সরঞ্জাম, হকিস্টিক, ২৮টি দেশীয় চাকু, বিভিন্ন ধরনের মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা আলামতগুলো প্রাথমিকভাবে অবৈধ অস্ত্র সংরক্ষণ ও সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জামালপুরের মেলান্দহে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত হয়েছেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার কামদেববাড়ী (শেখবাড়ী) এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত মো. নুর নবী (৩৬) ওই এলাকার মৃত সুরুজ শেখের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সকালে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ছোট ভাই আলম (৩০) ধারালো ছুরি দিয়ে নুর নবীর পেটে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মেলান্দহ থানার ওসি ওবায়দুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ফরিদপুর শহরে চুরির শিকার হয়েছেন ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা–সালথা) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও আইনজীবী মো. নাজমুল হাসান। শহরের টেপাখোলা এলাকার নিজ বাসার গ্যারেজ থেকে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি চুরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে মোটরসাইকেলটি গ্যারেজে রেখে আদালতে যান নাজমুল হাসান। দুপুরের দিকে ফিরে এসে তিনি সেটি আর পাননি। পরে বাসার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, কালো মাস্ক পরা এক যুবক মাত্র ৩৬ সেকেন্ডের মধ্যে গ্যারেজে ঢুকে মোটরসাইকেলটি নিয়ে বেরিয়ে যান। ঘটনার পর সন্ধ্যায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের কাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী সারোয়ার প্যাদা (৫৫) এবং তার ভাই বাচ্চু প্যাদা (৪৫) আটক হয়েছেন। অভিযানের সময় তাদের বাসা থেকে ছয়টি ককটেল (হাতবোমা) এবং চারটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭ পদাতিক ডিভিশনের ৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের নেতৃত্বে ৬ পদাতিক ব্রিগেড এই অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সম্পন্ন হওয়া অভিযানে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া ককটেল ও অস্ত্রগুলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাশকতামূলক কার্যক্রমে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা সব সময় সতর্ক অবস্থানে থেকে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরাপদ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের অভিযান নির্বাচনের পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখা এবং সহিংসতা প্রতিরোধে সহায়ক হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব শুরু হচ্ছে। শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এ মামলায় প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন এবং সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১–এ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এ কার্যক্রম শুরু হবে। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, শুনানির শুরুতে মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগের কাঠামো তুলে ধরে ওপেনিং স্টেটমেন্ট দেওয়া হবে। এরপর প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। এই মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ার সাক্ষ্য গ্রহণের সম্ভাবনাও রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি নির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য এই দিন ধার্য করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে গাজীপুর ও বরগুনা এলাকায় সংঘটিত একাধিক হত্যা ও গুমের ঘটনায় তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর অভিযোগপত্র আমলে নেওয়া হয় এবং ২৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এই সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দৃশ্যমান অগ্রগতিতে প্রবেশ করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ১নং ওয়ার্ড বালিয়াকান্দী এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অভিযানে দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে দেশীয় পাইপগান, বন্দুক, দুইটি দেশীয় অস্ত্র এবং ১২ রাউন্ড লাইভ গুলি জব্দ করা হয়। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সাকলে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে নৌ-বাহিনী জানান, গ্রেফতারকৃতরা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই অস্ত্র ব্যবহার করতে চাইছিল। অভিযানের সময় আটক হন জামাল উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোঃ সেলিম কাজী ও মোঃ হাসান। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলা ভোলা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নৌবাহিনী জানায়, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ৮ জেলার ১৬ সংসদীয় আসনে ২৫টি কন্টিনজেন্টে প্রায় ৫ হাজার নৌসদস্য দায়িত্ব পালন করছে।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর ধত্রি রানী (২০) নামে এক কলেজ ছাত্রীর মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাকোয়া ইউনিয়নের আরাজি সাকোয়া এলাকায় তার বাড়ির পাশে পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। ধত্রি রানী সাকোয়া ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী এবং ক্ষীতিশ চন্দ্র বর্মনের মেয়ে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি করলে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশন বন্ধের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে বিল্লাল হোসেন শ্রাবণ (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উপজেলার রামপুর মোড়লবাড়ী এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হোসেনপুর থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, শাহেদল ইউনিয়নের দাপুনিয়া এলাকায় অবস্থিত মেসার্স ইশা ফিলিং স্টেশনের মালিকের কাছে অভিযুক্ত শ্রাবণ ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময় প্রায় ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এছাড়া বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফিলিং স্টেশনে এসে আরও দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জোরপূর্বক পাম্প বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। একই দিন রাতে মোবাইল ফোনে গালিগালাজ ও অস্ত্র দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। ওসি মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
খুলনার লবণচরা থানাধীন পূর্ব হরিণটানা এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে রাকিব হোসেন (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কুবা মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাকিব আশিবিঘা এলাকার বাসিন্দা এবং আনোয়ার হোসেনের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাতে একটি সেলুনে বসে থাকা অবস্থায় দুই যুবক রাকিবকে টেনে বাইরে নিয়ে যায়। পরে রাস্তায় তার মাথায় পরপর দুটি গুলি করে পালিয়ে যায় তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। খুলনা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম জানান, আধিপত্য ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তিনি জানান, রাকিবের বিরুদ্ধে দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে—একটি মাদক ও অপরটি হত্যা চেষ্টা সংক্রান্ত। ঘটনার পর লবণচরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতার একাধিক টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
হত্যাসহ ৪৭ মামলার আসামি খাগড়াছড়ি পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল আলমকে রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ভাটারা থানার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মির্জা সায়েম মাহমুদ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএমপির একটি দল ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রফিকুল আলমকে গ্রেফতার করে। সে সময় তিনি ওই বাসায় অবস্থান করছিলেন। পুলিশ সুপার আরও জানান, রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ অন্তত ৪৭টি মামলা রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে খাগড়াছড়িতে নেওয়া হবে। গ্রেফতারকৃত রফিকুল আলম দুই মেয়াদে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম ও সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমের ভাই। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাবেক মেয়র রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে সাংবাদিক নির্যাতন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখলসহ নানা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে।
শরীয়তপুরে অস্ত্র ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে বড় ধরনের সাফল্যের কথা জানিয়েছে সেনাবাহিনী। জেলার পালং মডেল থানার পৌরসভাধীন স্বর্ণঘোষ এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদক এবং সন্দেহজনক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে এক নারীসহ দুইজনকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুর সদর স্টেডিয়ামে অবস্থিত সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন ৫ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিয়া মোহাম্মদ মেহেদী হাসান। সেনা সূত্র জানায়, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে সদর উপজেলার স্বর্ণঘোষ এলাকায় মন্টু তালুকদারের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মূল অভিযুক্ত মন্টু তালুকদার পলাতক থাকলেও তাঁর স্ত্রী ইসমত জাহান ওরফে ইলোরা হাওলাদারকে আটক করা হয়। তল্লাশিতে একটি শটগান, দুটি .২২ বোর রাইফেল, একটি একনালা বন্দুক, বিভিন্ন ধরনের ম্যাগাজিন ও বিপুল গোলাবারুদ, একটি বিদেশি ড্যাগার, বিদেশি মদ ও মাদক গ্রহণের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সেনাবাহিনী জানায়, মন্টু তালুকদার একাধিক মামলার পলাতক আসামি। একই সময়ে জেলার নড়িয়া ও ডামুড্যা উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আরও অস্ত্র উদ্ধার এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে এবং পলাতকদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নে নিখোঁজের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর জসিম উদ্দিন (৩০) নামে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টায় টেংরাখালির মাঠের একটি নির্জন ভুট্টাক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত জসিম উদ্দিন দৌলতপুর গ্রামের মোক্তার আলীর ছেলে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ১০টার দিকে ঘাস কাটার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন জসিম। দীর্ঘ সময় ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরে রাতে স্থানীয়রা ভুট্টাক্ষেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। স্থানীয়দের দাবি, মরদেহের গলায় ফাঁসের চিহ্ন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাতুড়ি দিয়ে আঘাতের ক্ষত রয়েছে। এতে তাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলায় হাঁস চুরির অভিযোগে সাইদুল ইসলাম সাইদ (২৩) নামে এক যুবককে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনায় জড়িত দুজনকে আটক করেছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মালিগাঁও গ্রামে হাঁস চুরির অভিযোগে সাইদকে আটক করে স্থানীয়রা মারধর করে। তিনি অচেতন হয়ে পড়লে রাত ১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি এম আবদুল হালিম জানিয়েছেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যার ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং তদন্ত চলছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়নের বাড়িবাথান গ্রামে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোটের প্রচারের নাম ব্যবহার করে একটি বাড়িতে ঢুকে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের নারী সদস্য ও শিশুদের উপরও হুমকি প্রদর্শন করা হয়। ভুক্তভোগী মো. রওশন আলীর মা আছিয়া বেগম জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ির দরজায় এসে ভোট চাওয়ার নাম করে প্রবেশের চেষ্টা করে। পরে তারা জোর করে ঘরে ঢুকে দুই নাতির মাথায় অস্ত্র ধরেন, মুখে টেপ মারার চেষ্টা করেন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপর হুমকি প্রয়োগ করেন। ডাকাতরা আলমারি ভেঙে তিন ভরি সোনার গয়না ও নগদ তিন লাখ টাকা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। তাদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছর, এবং তারা একটি মোটরসাইকেলে এসেছিল; দুজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। স্থানীয় পুলিশ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সামসুল আরেফিন জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার কারণে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
টেন্ডারে ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ দাখিল নকশা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু করে অনিয়ম করে কাজ নেয়ায় দুদকে অভিযোগ কাজ বাগিয়ে নিতে সহায়তা করে শেখ সেলিম তিন চার মাস লাগলে মাত্র দেড় মাসেই সম্পন্ন করে দরপত্র বাছাই, ই-টেন্ডার, দরপত্র মূল্যায়ন, সুপারিশসহ যাবতীয় সব কাজ বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড সার্জনস আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের ঠিকাদার নিয়োগে ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অবৈধভাবে কাজ পাইয়ে দিতে পরিবর্তন করা হয় দরপত্রের শর্তাবলি। ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ দিয়ে পাওয়া কাজ তড়িঘড়ি করে শুরু করেছে নকশা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই। ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদের কপি ও নানা অনিয়মের প্রমানপত্রসহ এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন সংস্থা দুদক-এ অভিযোগও করা হয়েছে। গত ২১ মার্চ ২০২৪ সালে এ অভিযোগ করা হয়। সরকার পরিবর্তনের পর এ অভিযোগের আর হদিশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পতিত হাসিনা সরকার পতনের আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৩০০ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেয় হাসান অ্যান্ড সন্স লিমিটেড -(এইচএসএল)- এমএসএ (জেবি) কে সহায়তা করে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ সেলিম। সহায়তা করে হাতিয়ে নেন মোটা অঙ্কের টাকা। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৫০০ আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়ামসহ ৩টি বেইজমেন্ট, ১২ তলা ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য সারসংক্ষেপ তৈরি করে পাঠানো হয় গত ২৯ নভেম্বর। অর্থাৎ দেড় মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে দরপত্র বাছাই, ই-টেন্ডার, দরপত্র মূল্যায়ন, সুপারিশসহ যাবতীয় সব কাজ। অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হয় দরপত্রটি। বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস)-এর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৩ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ ধরনের বড় অঙ্কের প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান থেকে শুরু করে মূল্যায়ন ও সুপারিশ পর্যন্ত যাবতীয় কাজ শেষ করতে তিন থেকে চার মাস সময় লেগে যায়। কিন্তু এই দরপত্রের ক্ষেত্রে দেড় মাসের মধ্যেই সবকিছু সম্পন্ন করে ফেলে। তড়িঘড়ি করে মন্ত্রিসভার অনুমোদন দেয় তোড়জোড় করে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস এর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় ভবনটি নির্মাণ হবে। ১২ তলাবিশিষ্ট এই মাল্টিপারপাস ভবনে থাকছে ৩টি বেসমেন্টসহ ১ হাজার ৫০০ আসনবিশিষ্ট মিলনায়তন। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কাজটি করবে এইচএসএল-এমএসই (জেভি)। ১৫০০ আসনের ভবনের জন্য অভিজ্ঞতা চাওয়া হয় ২৫০ আসনের কাজের। নথিপত্র থেকে জানা গেছে, গণপূর্তের ঠিকাদার হাসান অ্যান্ড সন্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজের কোন অভিজ্ঞতা না থাকায় ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ দিয়েছে। এতে সহায়তা করেছে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন। ভবনের নকশা অনুমোদনের আগেই শুরু করেছে নির্মাণ কাজ। প্রকল্প পরিচালক ভবনের নকশা এবং ড্রয়িং অনুমোদনে অনীহা প্রকাশ করলে স্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মরিয়া হয়ে ওঠেন নকশা অনুমোদনে। দরপত্র প্রকাশের আগের তারিখে নকশা অনুমোদনের দায়িত্ব পড়ে আনোয়ার হোসেন ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের উপর। পরবর্তীতে বিদ্বেষমূলক ঊর্ধ্বতনদের চাপে নকশা অনুমোদনে বাধ্য হয় প্রকল্প পরিচালক। ০৫ আগস্টের পর শেখ সেলিমের বাসার ধ্বংসস্তূপে মিলেছে স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার, সড়ক পরিবহণসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঠিকাদারি কাজের নথি। এসকল বড় অংশই ছিল তাঁর নিয়ন্ত্রণেই। বিশেষ করে বৃহত্তর ফরিদপুর, খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের সব উন্নয়নকাজ নিজ হাতে ভাগবাঁটোয়ারা করতেন। বিনিময়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিতেন মোটা অঙ্কের কমিশন। একটি নথিতে দেখা গেছে, এমএসই এর মালিক মাহবুবের কাছ থেকেও তিনি প্রতিমাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিতেন। এ বিষয়ে এইচএসএল এর পার্টনার এমএসই'র ঠিকাদার মাহবুবের কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি বলেন, “এই কাজে জয়েন্ট ভেঞ্চারে তার নাম শুধু কাগজে কলমে। কার্যত এই কাজে তাঁর কোনো পার্টনারশিপ নেই। তবে সরেজমিনে মহাখালিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস সার্জনসের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, এইচএসএল এর পাশাপাশি সেখানে তারও সাইড অফিস রয়েছে। এ অফিসে কাজ করছেন তার লোকজন। তার অফিসে কর্মরত নাফিস হায়দার স্বীকার করেন, তিনি ঠিকাদার খন্দকার মাহবুবের অধীনে এখানে কাজ দেখভাল করছেন।” তাদের সাথে কথা বলে তাদের সামনেই ভবন নির্মাণের ভিডিও করার সময় এইচএসএল এর এক কর্মচারী ভিডিও করতে এ প্রতিবেদককে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তিনি মোবাইলে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।পরবর্তীতে ঠিকাদার খন্দকার মাহবুবকে ফোন করে কেন মিথ্যা কথা বলছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আর কোনো সদ উত্তর দিতে পারেননি। এক পর্যায়ে তিনি রিপোর্ট না করার জন্য অনুরোধ করে বলেন, “আমরা এনডিই'র সাথে কনটেস্ট করে ফাস্ট লোয়েস্ট হয়ে অনেক লেসে কাজটি নিয়েছি।” কাজটি শেষ করতে আরো দুই থেকে আড়াই বছর লাগবে উল্লেখ করে, তিনি এক পর্যায়ে এ প্রতিবেদকের সাথে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের ঘটনা ঘটে। এতে ১৪ বছর বয়সী মুস্তাকিম মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। মুস্তাকিম ওই এলাকার সৌদি প্রবাসি মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্যের লড়াইয়ে একজন সাবেক ইউপি সদস্যের ভাতিজা গুলিবর্ষণ করেন। এ সময় মুস্তাকিম ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে তাকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, সেনা ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। নিহতের মা শাহানা বেগম বলেন, “আমরা নিরপেক্ষ, কোন দলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। আমার ছেলেকে হত্যা করার যারা জড়িত, তাদের বিচার চাই।”