রোহিঙ্গা সংকট ব্যবস্থাপনায় পূর্ববর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট সময়ে কার্যকর কূটনৈতিক ও নীতিগত পদক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাস্তবমুখী ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট পূর্বের তুলনায় অধিক জটিল এবং বহুমাত্রিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সীমান্ত পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ” আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া (রিপ্যাট্রিয়েশন) পরিচালনায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ সংকটকে কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবেও বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে টেকসই সমাধানের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের—বিশেষত আসিয়ান, চীন, ভারত, মুসলিম বিশ্ব ও পশ্চিমা দেশগুলোর—সমন্বিত সহযোগিতা ছাড়া এ সংকট নিরসন সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের মানবিক অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে মানবিক বিবেচনায়; তবে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও টেকসই প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের বিষয়ে সরকার আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে বলে তিনি জানান। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের শান্তি ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। রোববার (১০ মে) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজিত বার্ষিক প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে চারদিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬–এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্যে তিনি বলেন, এই আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও আত্মমর্যাদার প্রতিফলন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুলিশ বাহিনী জনগণের আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের পরিচয় দেবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বর্তমান সরকারের মাধ্যমে। এখন মানুষ শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চায়। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনাদের সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করতে হবে। এটাই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।”
মেয়র পদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নীলা ইসরাফিল। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবি সম্বলিত একটি পোস্টার শেয়ার করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) প্রার্থী হওয়ার এ ঘোষণা দেন তিনি। পোস্টে নীলা ইসরাফিল লিখেছেন, ‘সবার ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় আমি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা আমাদের অধিকার। আপনাদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি। ধন্যবাদ সবাইকে।’ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রয়াত উপদেষ্টা হাসান আরিফের ছেলে মুয়াজ আরিফের সাবেক স্ত্রী নীলা। নীলা ইসরাফিল গোপালগঞ্জের মেয়ে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তাকে রাজপথে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। ৫ আগস্ট শেখা হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের গড়া রাজনৈতিক দলে যোগ দেন নীলা। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও দেখা গেছে তাকে। নীলা একজন মডেল ও অভিনেত্রী। তার অভিনীত সকাল আহমেদ পরিচালিত ‘কে খুনী’ ও ‘ব্রেক আপ ইন’ নাটক দুটি গেল ঈদে প্রচারিত হয়েছে। দুটি নাটকই ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে। এরই মধ্যে নীলা মেজবাউর রহমান সুমনের নির্দেশনায় ‘বিকাশ’র এবং পলকের নির্দেশনায় ‘জিপি’র বিজ্ঞাপনেও মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। তার অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত একমাত্র সিনেমা আবীর খান পরিচালিত ‘পোস্টমাস্টার ৭১’। এ ছাড়া তিনি ধ্রুব’র পরিচালনায় আরও একটি সিনেমাতে অভিনয় করছেন। অনিমেষ আইচ পরিচালিত ‘কুয়া’ নাটকে নীলা প্রথম অভিনয় করেন। অনেক ধারাবাহিকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘ঘর সংষার’, ‘টিরিগিরি টক্কা’, ‘ফুল এইচডি’ ইত্যাদি। রায়হানের নির্দেশনায় নীলা প্রথম একটি প্রতিষ্ঠানের মশার কয়েলের বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেন। প্রায় ৫০টি বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত সহিংস ঘটনার তদন্ত শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। রোববার (৩ মে) চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, আগামী ৭ জুনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাস্থলে অন্তত ৩২ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে ঘটনার পরবর্তী সহিংসতায় আরও প্রাণহানির প্রমাণও তদন্তে উঠে এসেছে। চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি তৎকালীন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা এবং আর্থিক সহায়তার প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ছাত্র ও যুব সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার দিকেও তদন্ত সম্প্রসারিত হচ্ছে বলে তিনি জানান। তদন্ত সংস্থা দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং ভুক্তভোগীদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চালিয়ে আসছে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বর এলাকায় হেফাজতের সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অভিযান চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় সাউন্ড গ্রেনেড, গুলি ও লাঠিচার্জে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। মামলায় তৎকালীন উচ্চপর্যায়ের একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২৫ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়ও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।