যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট সোমবার জানিয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী, পর্যটক, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের বরাতে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসা প্রক্রিয়া পূর্ণাঙ্গভাবে পুনর্মূল্যায়ন করা এবং নিশ্চিত করা যে, যুক্তরাষ্ট্রে আগত বিদেশিরা সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধার অবৈধ ব্যবহার করতে না পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কিছু দেশের নাগরিকদের মধ্যে সরকারি সুবিধার ব্যবহার তুলনামূলক বেশি এবং বাংলাদেশের অবস্থান সেই তালিকায় রয়েছে। এই কারণে, ভিসা ইস্যু ও যাচাই প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সতর্কতা ও নীতিগত পর্যালোচনা জরুরি বিবেচিত হয়েছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এই স্থগিতাদেশ শুধু অভিবাসী ভিসা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়; এর আওতায় পর্যটক, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাও অন্তর্ভুক্ত। লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে এমন নীতি কার্যকর করা, যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। তবে কতদিনের জন্য স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে এবং কখন ভিসা কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয় থালাপতি। রোববার (১০ মে) সকালে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়াম–এ অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ৫১ বছর বয়সী বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয় পায়। তবে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় কয়েকদিন ধরে জোট গঠনের আলোচনা চালাতে হয়। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি, সিপিআই (এম) ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের সমর্থন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেন তিনি। এর ফলে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০ জনে। দুটি আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় একটি আসন ছাড়তে হবে বিজয়কে। তারপরও তার জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হবে। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রায় ৬০ বছর পর তামিলনাড়ুতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে–এর বাইরে অন্য কোনো দলের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলো, যা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে রাজনৈতিক পালাবদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে; দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন শিবির বড় ধরনের ধাক্কা খেয়ে রাজ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে মৌলিক পরিবর্তন ঘটেছে। সর্বশেষ সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, কলকাতার ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী-এর কাছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যে দেখা যায়, শুভেন্দু পেয়েছেন ৭৩,৯১৭ ভোট, বিপরীতে মমতার প্রাপ্তি ৫৮,৮১২। একইসঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনেও জয় ধরে রেখে টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, যা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। সামগ্রিক ফলাফলে ভারতীয় জনতা পার্টি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের সাংবিধানিক ভিত্তি নিশ্চিত করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দলটি ১৯০-এর বেশি আসনে জয় ও অগ্রগামিতা ধরে রেখে এককভাবে সরকার গঠনের পথে রয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস উল্লেখযোগ্য আসন হারিয়ে দ্বি-অঙ্কের সীমায় নেমে এসেছে, যা পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইনগত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণা অব্যাহত রেখেছে এবং সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দক্ষিণ লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইসরাইলি বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে বেসামরিক সম্পত্তিতে অবৈধ হস্তক্ষেপ ও লুটতরাজের গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে, যা সামরিক শৃঙ্খলা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী বলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইসরাইলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’ ও ‘হারেৎজ’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন কিছু রিজার্ভ ইউনিট বেসামরিক ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাৎ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রিজার্ভ সেনা সদস্যের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অস্ত্রশস্ত্র ছাড়াও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য দ্রব্য, অলঙ্কার, এমনকি পারিবারিক স্মৃতিচিহ্ন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। একাধিক ঘটনায় কমান্ড পর্যায় থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও মাঠপর্যায়ে তা কার্যকর করতে ব্যর্থতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একটি ঘটনায় দেখা যায়, এক কমান্ডার তার অধীনস্থ সেনাদের লুট করা সামগ্রী নিয়ে ফেরত আসা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছেন। প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে গাজা সংঘাতকালেও অনুরূপ অভিযোগ উঠেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলি সেনাপ্রধান Eyal Zamir সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠকে এ বিষয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করলেও, বাস্তব পরিস্থিতিতে নির্দেশনার প্রতিফলন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল সামরিক শৃঙ্খলার লঙ্ঘনই নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আইনি জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে পারে।