সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে জামায়াত নেতার বসতঘর থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি অস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত ২টার দিকে ১৭ পদাতিক ডিভিশনের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামিসি (রসুলপুর) গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি বিদেশি রিভলভার, একনলা বন্দুক, দেশীয় পাইপগান, বিভিন্ন প্রকার ১৩ রাউন্ড গুলি, ১৪ বক্স ক্যালিবারের এয়ারগানের গুলি এবং এক খালি ম্যাগাজিনসহ দেশীয় প্রানঘাতী ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযান শেষে বুধবার (২৫ মার্চ) পিয়ার আলীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্ত জামায়াত নেতা পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে। তিনি মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামিসি (রসুলপুর) গ্রামের আরশদ আলীর ছেলে এবং জামায়াতে ইসলামি শ্রীরামিসি আঞ্চলিক শাখার সভাপতি।
সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড় বাজারে ভোর থেকেই শুরু হয়েছে রসালো আমের কেনাবেচা। ভ্যান, ট্রাক ও পিকআপে করে বিভিন্ন বাগান থেকে আম এনে বাজারে সাজানো হচ্ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে দফায় দফায় দরাদরি ও বেচাকেনা। বর্তমানে জেলায় আম পাড়ার ভরা মৌসুম চলছে। স্থানীয় চাষি, ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার আম বাণিজ্য হতে পারে। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে উৎপাদন নতুন রেকর্ড ছাড়াতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। তবে এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৫ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আম পাড়া শুরু হওয়ার পর জেলার বিভিন্ন বাগানে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহ চলছে। চাষিরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। সার, কীটনাশক ও শ্রমিক ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক চাষি লোকসানের আশঙ্কা করছেন। সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া এলাকার কৃষকেরা জানান, শুরুতে বাজারে দাম ভালো থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থিতিশীল না থাকলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তারা বাজার মনিটরিং ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। জেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এবার ফলন ভালো হওয়ায় কৃষি বিভাগ বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং চাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে হাইব্রিড ধানের ফলন বাড়াতে আধুনিক উৎপাদন কৌশল বিষয়ক দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৬ মে) সকালে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত বীজ ব্যবহার, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক সিডের কৃষিবিদ মোস্কাফিজুর রহমান এবং টিএসও সুজিত মন্ডল। বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করলে কম খরচে বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব, যা কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করবে। অংশগ্রহণকারী কৃষকরা প্রশিক্ষণকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করে মাঠ পর্যায়ে এই জ্ঞান প্রয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। আয়োজকরা জানান, কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম চলমান থাকবে।
বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধে অনিশ্চয়তার জেরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি রপ্তানিমুখী কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, যার প্রভাবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সাময়িক অবরোধ ও যানজট সৃষ্টি হয়। বুধবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলার তারাবো পৌরসভা এলাকার নোবেল কটন স্পিনিং মিলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা বেতন দাবিতে কর্মবিরতি ঘোষণা করেন এবং পরে মহাসড়কে অবস্থান নেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতা বকেয়া থাকায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। প্রাথমিকভাবে মালিকপক্ষ পরিশোধের আশ্বাস দিলেও নির্ধারিত সময়ে অর্থ না পাওয়ায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এক পর্যায়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়লে উভয়মুখী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। পরে এএইচএম সালাউদ্দিন নেতৃত্বে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শ্রমিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মালিকপক্ষ আগামী কার্যদিবসে বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শ্রম ও শিল্প শান্তি বজায় রাখতে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত আছে।