মার্কিন গণমাধ্যম ও গবেষণা সংস্থা রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রভাব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
জরিপে তার অনুমোদন হার মাত্র ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের জানুয়ারির দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে সবচেয়ে কম।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আমেরিকানরা তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন। তার অর্থনৈতিক নীতি সমর্থন করছেন মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ। এছাড়া ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক পদক্ষেপ ও ইরান হামলার নীতিকে সমর্থন করছেন মাত্র ৩৫ শতাংশ নাগরিক।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংকটের এই পরিস্থিতি রিপাবলিকানদের জন্যও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। যদিও কট্টর সমর্থকদের মধ্যে ট্রাম্পের অবস্থান এখনও শক্তিশালী, তবে অসন্তুষ্টির হার সাম্প্রতিক সপ্তাহে ২৭ শতাংশ থেকে ৩৪ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জরিপ থেকে স্পষ্ট যে, মধ্যপ্রাচ্য ও অর্থনীতি সংক্রান্ত চলমান পরিস্থিতি মার্কিন নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে এবং ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনা এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে।
মালির মধ্যাঞ্চলে জিহাদি সহিংসতার নতুন ঢেউয়ে অন্তত ৭০ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, গত শুক্রবার একাধিক স্থানে সমন্বিত হামলা চালায় সশস্ত্র গোষ্ঠী। এ হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট সংগঠন JNIM। এর আগে একই সপ্তাহে আলাদা হামলায় আরও অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছিল বলে জানা গেছে, ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে মৃত্যুর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। একজন স্থানীয় কর্মকর্তা নিহতের সংখ্যা ৭০-এর বেশি বলে নিশ্চিত করলেও আরেকটি সূত্রে তা ৮০-এর কাছাকাছি হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার পর স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এক যুবনেতা নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কার্যকর সুরক্ষা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে হতাশা প্রকাশ করেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যেসব গ্রাম সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে স্থানীয় সমঝোতা চুক্তিতে সই করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, সেগুলোই মূলত লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয় থালাপতি। রোববার (১০ মে) সকালে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়াম–এ অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ৫১ বছর বয়সী বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয় পায়। তবে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় কয়েকদিন ধরে জোট গঠনের আলোচনা চালাতে হয়। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি, সিপিআই (এম) ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের সমর্থন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেন তিনি। এর ফলে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০ জনে। দুটি আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় একটি আসন ছাড়তে হবে বিজয়কে। তারপরও তার জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হবে। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রায় ৬০ বছর পর তামিলনাড়ুতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে–এর বাইরে অন্য কোনো দলের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলো, যা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে রাজনৈতিক পালাবদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে; দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন শিবির বড় ধরনের ধাক্কা খেয়ে রাজ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে মৌলিক পরিবর্তন ঘটেছে। সর্বশেষ সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, কলকাতার ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী-এর কাছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যে দেখা যায়, শুভেন্দু পেয়েছেন ৭৩,৯১৭ ভোট, বিপরীতে মমতার প্রাপ্তি ৫৮,৮১২। একইসঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনেও জয় ধরে রেখে টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, যা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। সামগ্রিক ফলাফলে ভারতীয় জনতা পার্টি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের সাংবিধানিক ভিত্তি নিশ্চিত করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দলটি ১৯০-এর বেশি আসনে জয় ও অগ্রগামিতা ধরে রেখে এককভাবে সরকার গঠনের পথে রয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস উল্লেখযোগ্য আসন হারিয়ে দ্বি-অঙ্কের সীমায় নেমে এসেছে, যা পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইনগত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণা অব্যাহত রেখেছে এবং সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।