বিশ্ব

২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফেরানোর হুমকি ট্রাম্পের

Icon
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশঃ এপ্রিল ২, ২০২৬


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ইরানবিরোধী এই সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের প্রধান ভিত্তি।
বুধবার (১ এপ্রিল) প্রদত্ত ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপ দীর্ঘদিন ধরে মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ ও কৌশলগত চাহিদারই প্রতিফলন। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ইস্যুকে সংঘাতের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
জ্বালানি নির্ভরতার প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেল বা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নির্ভরতা নেই; বরং মিত্রদের সহায়তা করাই এই অভিযানের উদ্দেশ্য। তিনি আরও দাবি করেন, ৩২ দিনব্যাপী সংঘাতে মার্কিন বাহিনী কৌশলগতভাবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা ‘অপ্রতিরোধ্য’।
তবে সামরিক অভিযান বন্ধের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা না করে তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর আরও কঠোর ও বিধ্বংসী আঘাত হানার প্রস্তুতি রয়েছে। একইসঙ্গে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ভাষণে ট্রাম্প ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনসহ আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে ওমানের নাম উল্লেখ করেননি, যদিও দেশটি সংঘাতের বিরোধিতা করে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
এদিকে সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও ট্রাম্প এটিকে সাময়িক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি যুদ্ধোত্তর সময়ে স্বাভাবিক হবে এবং ইরান অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের স্বার্থে পুনরায় তেল রপ্তানিতে ফিরতে বাধ্য হবে।

 

ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নিহত স্ত্রী

ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনায় ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খারাজি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। একই ঘটনায় তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন বলেও খবরে উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, বুধবার (১ এপ্রিল) সংঘটিত হামলায় ৮১ বছর বয়সী খারাজি আহত হন। তবে হামলাটি সরাসরি তাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছিল কিনা, নাকি নিকটবর্তী অন্য কোনো স্থাপনায় আঘাত হানার ফলে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। উল্লেখ্য, কামাল খারাজি সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এ হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে এবং চলমান সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0

হরমুজে ইরানের ছাড়পত্র পাওয়া ৬ বাংলাদেশি জাহাজের ৫টিরই চালান বাতিল

মেজর জেনারেল আলি আব্দুল্লাহ

“প্রতিরোধ ফ্রন্ট আরও শক্তিশালী হয়েছ“: ইরানি শীর্ষ কমান্ডার

ইরান যুদ্ধে ন্যাটো ও ইউরোপকে পাশে পেতে ‘ব্ল্যাকমেইল ডিপ্লোমেসি’ করছে ট্রাম্প

সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন মোজতবা খামেনি, নিশ্চিত করলো ইরান

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় এক মাস পার হলেও এখনও জনসাধারণের সামনে উপস্থিত হননি। এর ফলে তাঁর অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে।  গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েক ডজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। এরপর তিনি রাষ্ট্রীয় বিবৃতির মাধ্যমে নতুন দায়িত্বের খবর দেন, যা ইরানের টেলিভিশনে পড়া হয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি পুরোপুরি সুস্থ এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে জনসমক্ষে অনুপস্থিতি স্বাভাবিক। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, “মোজতবা খামেনি অক্ষত আছেন এবং জনসাধারণের সামনে না আসা শুধুমাত্র কৌশলগত সিদ্ধান্ত।” এর আগে ইরানে নিযুক্ত রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত এলেক্সাই দেদভ জানিয়েছেন, সুপ্রিম লিডার ইরানে অবস্থান করছেন, তবে জনসমক্ষে আসার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছেন। নিরাপত্তা ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় এই অদৃশ্যতা একটি অবাঞ্ছিত না হলেও সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মোজতবা খামেনির এই জনসমক্ষে অদৃশ্যতা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক নজরকেও টানে, যেখানে ইরানের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0

ইরান যুদ্ধেই ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অবদান প্রশংসনীয়: ট্রাম্প

বুরুন্ডির সামরিক ডিপোতে বিস্ফোরণ, হতাহত ৭০

৪৮ ঘণ্টায় ইরাকের মার্কিন স্থাপনায় মিলিশিয়ার সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান যুদ্ধে পাঠাতে নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার দাবি

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক হোয়াইট হাউস উপদেষ্টা এবং ‘মাগা’ আন্দোলনের প্রভাবশালী মুখ স্টিভ ব্যানন। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর দাবি তুলে কঠোর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) প্রদত্ত এক বক্তব্যে ব্যানন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে উদ্দেশ করে বলেন, মিয়ামিতে অবস্থানরত ইয়ার নেতানিয়াহুকে অবিলম্বে দেশত্যাগে বাধ্য করে সামরিক ইউনিফর্মে সম্মুখযুদ্ধে পাঠানো উচিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালে ক্ষমতাধরদের সন্তানরা নিরাপদে অবস্থান করলে তা নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। চলমান ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের সামরিক বাহিনীতে অংশগ্রহণ না করা নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরেও সমালোচনা রয়েছে। ব্যাননের বক্তব্যে সেই বিতর্কই আরও উসকে উঠেছে। একইসঙ্গে এই আলোচনার বিস্তার ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে নিয়েও অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা শুরু হয়েছে, যেখানে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সন্তানদের যুদ্ধে অংশগ্রহণের দাবি  উত্থাপন করা হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে ‘সিলেক্টিভ সার্ভিস’ ব্যবস্থার আওতায় তরুণদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, তবে ১৯৭৩ সালের পর থেকে কোনো বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ কার্যকর হয়নি। এর পাশাপাশি ব্যানন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক কৌশল নিয়েও বিতর্কিত প্রস্তাব দেন। তিনি পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের আহ্বান জানান এবং এ ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আঞ্চলিক মিত্রদের সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব দেন। তিনি আরও দাবি করেন, উপসাগরীয় রাজপরিবারের সদস্যদের বিলাসবহুল জীবনযাপন ত্যাগ করে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নেওয়া উচিত। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নৈতিকতা, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং যুদ্ধের দায়ভার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্টিভ ব্যাননের এ ধরনের মন্তব্য কেবল রাজনৈতিক অবস্থানই নয়, বরং চলমান সংঘাতকে আরও জটিল ও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।      

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0

সৌদি থেকে আরও ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে বাংলাদেশ

২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফেরানোর হুমকি ট্রাম্পের

নেভাডায় মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

0 Comments