রাশিয়ার তেল আমদানি চালিয়ে যেসব দেশ পুতিনের যুদ্ধ অর্থায়নে সহায়তা করছে, তাদের শাস্তি দিতে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপের একটি প্রস্তাবিত বিলের অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিলটি শিগগিরই কংগ্রেসে পেশ হতে যাচ্ছে।
রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মতে, ভারতের মতো দেশগুলো এই শুল্কের লক্ষ্য হবে। ইতিমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের রাশিয়ান তেল আমদানিতে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যার ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্ক হার ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে।
বিলে মার্কিন প্রশাসনকে রাশিয়ার তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম ও অন্যান্য পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডের অর্থায়ন বন্ধ করা।
ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল এবং গ্রাহাম একযোগে এই বিল প্রণয়ন করেছেন।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর ৪০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা প্রদান করেছেন দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, সমন্বিত সামরিক হামলার মাধ্যমে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের শামিল। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে সংঘটিত হামলায় খামেনির মৃত্যু ঘটে, যা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনাকে ‘ইসলামি উম্মাহর বিরুদ্ধে আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি জনগণকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রীয় ঐক্য ও প্রতিরোধ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, শোকাবহ এই সময়কে কেন্দ্র করে দেওয়া বক্তব্যটি মূলত অভ্যন্তরীণ সংহতি সুদৃঢ় করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার কৌশলগত প্রয়াস।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের কাছে সামরিক সরবরাহকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, যদি কোনো দেশ ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের রপ্তানিকৃত সমস্ত পণ্যের ওপর সঙ্গে সঙ্গেই ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে, তবে তেহরানের মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেছিলেন, এই শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম বা ছাড় দেওয়া হবে না এবং এটি সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার মন্তব্য করেছেন, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতের শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ইরানের সঙ্গে বিশ্ব শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। টাইমস অব ইসরায়েলের লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, ইরান এই সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছে এবং তারা দীর্ঘ সংঘাতের ক্লান্ত। ট্রাম্প আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যানজট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা প্রদান করবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর হবে যখন ইরান আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর সম্পূর্ণ ও নিরাপদ চলাচলের জন্য প্রণালীটি খুলে দেবে। এই শর্তসাপেক্ষ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রাতভর কমতে শুরু করেছে।