হঠাৎ করে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় খুলনা জনজীবনে নেমে এসেছে কাহিলভাব। কনকনে ঠান্ডায় উষ্ণতার খোঁজে ঘর থেকে বের হচ্ছেন মানুষ। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ফুটপাত ও খোলা মাঠের শীতের পোশাকের বাজারে।
খুলনা শহরের আহসান আহমদ রোড, জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকা ও সার্কিট হাউজ মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। ফুটপাতে সাজানো হয়েছে সোয়েটার, জ্যাকেট, মাফলার ও টুপি।
বিক্রেতারা জানান, হঠাৎ ঠান্ডা পড়ায় গত কয়েক দিনের তুলনায় বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে মাফলার, টুপি, শিশুদের সোয়েটার ও হালকা জ্যাকেটের চাহিদা বেশি।
সার্কিট হাউজ মাঠের বিক্রেতা নয়ন বলেন, ঠান্ডা বাড়ায় মানুষ বেশি করে গরম কাপড় কিনছে। যেখানে জায়গা পাচ্ছে সেখানেই মৌসুমি দোকান বসছে।
ক্রেতারা বলছেন, বিপণিবিতানের তুলনায় ফুটপাতে গরম কাপড়ের দাম কম হওয়ায় এখান থেকেই কেনাকাটা করছেন। আহসান আহমদ রোড থেকে মাফলার কিনতে আসা আরাফাত হোসেন বলেন, এবছর শীত বেশি, তাই মাফলার কিনতেই হচ্ছে। ফুটপাতে দাম কম, সেটাই সুবিধা।
শুধু নগরী নয়, জেলার বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকাতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটপাতের শীতের পোশাকের বাজার হয়ে উঠেছে বেশ জমজমাট।
৩৮ লাখ টাকার আত্মসাৎ মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য মাহি চৌধুরী অর্ণবকে দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক মো. সাজ্জাদ হোসেন পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করে এবং আসামিপক্ষ জামিন আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ফেসবুকের ‘ইনভেস্টর গ্রুপ’-এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী মো. শাকিরুল ইসলাম হিমেলের সঙ্গে পরিচয়ের পর মাহি চৌধুরী নিজেকে ব্যবসায় অংশীদার পরিচয় দিয়ে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখান। পরে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক ও নগদে ৩৮ লাখ ২৮ হাজার ১৫০ টাকা গ্রহণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ ফেরত না দিয়ে তিনি আত্মগোপন করেন এবং টাকা ফেরত চাইলে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। মামলায় মাহি চৌধুরীসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে ২৮ মার্চ তাকে সংগঠন থেকে আজীবন বহিষ্কার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সরকারি তহবিলের মাধ্যমে নির্মাণ করা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ৭১টি বীর নিবাস ভবনের অধিকাংশ কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। ঘরগুলো আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের আগেই পলেস্তরা খসে পড়ছে, গ্রিলে মরিচা ধরছে, টাইলস উঠে যাচ্ছে এবং বিদ্যুৎ-স্যানিটেশনের কাজও অনেক ভবনে অসম্পূর্ণ। পুটিখালী ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী হাওলাদারের ভবনে স্যানিটেশন ও বিদ্যুতের কাজ বাকি থাকলেও বোর্ড খসে পড়ছে, দরজায় ছিটকানি লাগছে না। নজরুল ইসলাম শিকদারের ভবনেরও তিন বছর ধরে ৪০ শতাংশ কাজ অসম্পূর্ণ। বস্তাভর্তি সিমেন্ট গুড়ো করে ব্যবহার করা হয়েছে, পলেস্তরাও ব্যবহার হয়নি। পঞ্চকরণ ইউনিয়নের খারইখালী গ্রামের ৮৫ বছর বয়সী আবু তালেব খানের ভবনের বিদ্যুৎ ও স্যানিটেশন কাজ অসম্পূর্ণ। সামছুর রহমান শরীফের ভবনেরও পলেস্তরা খসে পড়ছে, বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, তার স্ত্রী অসহায়ভাবে অসম্পূর্ণ ভবনে বসবাস করছেন। আব্দুল মান্নানসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের ভবনেরও কাজ অসম্পূর্ণ, নতুন ভবনে ওঠার আগেই পলেস্তরা খসে পড়ছে। মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করেছেন, ঠিকাদাররা বারবার কাজ স্থগিত রাখছে, ফোন ধরছে না এবং বর্ষার আগে কাজ শেষ করা হচ্ছে না। প্রাপ্ত সুবিধাভোগী মুক্তিযোদ্ধারা দাবি করছেন, সরকারিভাবে প্রদত্ত বীর নিবাসে পরিবারসহ নিরাপদভাবে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা হোক। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম বাবুল বলেন, অনেক ভবনের কাজ কম মানের ও অসম্পূর্ণ। তিনি বর্ষার আগেই সকল অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি জানান। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোঃ আহসান উল্লাহ জানান, মাঝপথে কাজ থেমে যাওয়ায় ঠিকাদারদের তাগিদ দিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়েছে। বীর নিবাস প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহও জানিয়েছেন, যথাসম্ভব দ্রুত বাকী কাজ সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
বরিশাল শহরে স্কুলছাত্রী চৈতির মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দোষী অটোচালকের দ্রুত বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বিএম কলেজ সড়কের শের-ই-বাংলা বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে এক ঘণ্টারও বেশি সময় শিক্ষার্থীরা যান চলাচল বন্ধ রাখেন। এতে এলাকায় দীর্ঘ যানজট ও উত্তেজনা তৈরি হয়। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, দোষী অটোচালককে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে এবং নগরীর অবৈধ অটো চলাচল বন্ধ করা হবে। শিক্ষার্থীরা প্রশাসকের আশ্বাসে ক্লাসে ফিরে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, বুধবার স্কুল ছুটি শেষে চৈতি স্কুলের সামনে সড়ক পার হওয়ার সময় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ও পরে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যান। এলাকার মানুষ অভিযোগ করেছেন, পূর্বেও একই সড়কে প্রাণহানি ঘটেছে, কিন্তু দোষীদের বিচার না হওয়ায় পুনরাবৃত্তি ঘটছে। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম জানান, চৈতির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে শহরে অবৈধ অটোর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পুনরায় প্রাণহানি রোধ করা যায়।