ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।
এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা।
জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন,
“দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।”
জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে।
তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে।
সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন,
“এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।”
আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।
সংসদীয় আইনানুগ বাধ্যবাধকতার প্রেক্ষিতে একটি আসন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সে অনুযায়ী তিনি বগুড়া–৬ আসনটি পরিত্যাগ করে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) কমিশনে পৌঁছানো চিঠিতে তিনি ঢাকা–১৭ আসনটি সংরক্ষণের কথা জানান। কমিশন সূত্র জানায়, আইন অনুযায়ী একাধিক আসনে নির্বাচিত হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে কেবল একটি আসন গ্রহণ করা যায়; অবশিষ্ট আসন শূন্য ঘোষণা করে সেখানে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হবে।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর শীর্ষ নেতার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বাড্ডায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম-এর বাসভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বাসায় প্রবেশের সময় তারেক রহমান নাহিদ ইসলাম ও উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে বুকে টেনে নেন তারেক রহমান। বিএনপি সূত্র জানায়, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ইতিবাচক সংলাপের উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুর নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবির এবং চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে এনসিপির পক্ষে সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সারজিস আলমসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর–বাগাতিপাড়া) আসনে ইতিহাস গড়লেন ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। মাত্র ৪১ বছর বয়সে তিনি দেশের সর্বকনিষ্ঠ নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে এ আসনে প্রথম নারী এমপি হিসেবেও নিজের নাম লেখালেন তিনি। দীর্ঘ ১৮ বছর পর বিএনপির হারানো ঘাঁটি পুনরুদ্ধার করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিলেন পুতুল। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন পুতুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কালাম আজাদ (দাঁড়িপাল্লা) পান ৮৯ হাজার ৪৩১ ভোট। বিজয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় পুতুল মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “এই বিজয় লালপুর–বাগাতিপাড়ার আপামর মানুষের। দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের অক্লান্ত পরিশ্রমই এ সাফল্যের মূল ভিত্তি।” রাজনৈতিক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্ম নেওয়া পুতুল বিএনপি সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, মরহুম ফজলুর রহমান পটল–এর কন্যা। ফজলুর রহমান পটল ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এ আসন থেকে ধারাবাহিকভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে নাটোর-১ আসনকে বিএনপির শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করেছিলেন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি হাতছাড়া হয় এবং পরবর্তী এক দশকেরও বেশি সময় বিএনপি সেখানে প্রতিনিধিত্বহীন থাকে। বাবার মৃত্যুর পর সেই রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে পুনরুজ্জীবিত করলেন পুতুল। তার এ বিজয় কেবল একটি আসন পুনরুদ্ধারের ঘটনা নয়; বরং প্রজন্মান্তরের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।