সংসদীয় আইনানুগ বাধ্যবাধকতার প্রেক্ষিতে একটি আসন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সে অনুযায়ী তিনি বগুড়া–৬ আসনটি পরিত্যাগ করে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) কমিশনে পৌঁছানো চিঠিতে তিনি ঢাকা–১৭ আসনটি সংরক্ষণের কথা জানান। কমিশন সূত্র জানায়, আইন অনুযায়ী একাধিক আসনে নির্বাচিত হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে কেবল একটি আসন গ্রহণ করা যায়; অবশিষ্ট আসন শূন্য ঘোষণা করে সেখানে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হবে।
দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর মানিকগঞ্জের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনেই বিএনপির ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরের আধিপত্যের অবসান হয়েছে। এতে জেলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হলেও এখন আলোচনার কেন্দ্রে—নতুন মন্ত্রিসভায় মানিকগঞ্জ থেকে কেউ স্থান পাবেন কি না। ২০০৮ সালের আগে মানিকগঞ্জে চারটি সংসদীয় আসন থাকলেও সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর তা কমে তিনটি হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জেলার সব আসন আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ওই সময়ে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ মালেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও পরে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা জেলার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ায়। এর আগে বিএনপি সরকারের সময় মানিকগঞ্জ থেকে একাধিক মন্ত্রী ছিলেন। ফলে জেলাটি দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব পেয়ে আসছে—যা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করেছে। ২০০৮ সালের পর মানিকগঞ্জে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও নেতৃত্বে আসেন প্রয়াত হারুনার রশিদ খান মুন্নুর কন্যা আফরোজা খানম রিতা। তিনি জেলা বিএনপির দায়িত্ব পালন করেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তিনি নানামুখী চাপের মুখেও রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি মানিকগঞ্জের তিনটি আসনেই জয়ী হয়। এর মাধ্যমে দলটি জেলার ঐতিহ্যগত ঘাঁটি পুনরুদ্ধার করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মানিকগঞ্জে দীর্ঘদিন মন্ত্রী থাকার একটি রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব রয়েছে। বিএনপির একাংশ মনে করে, আফরোজা খানম রিতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা হবে ত্যাগের স্বীকৃতি। তবে মন্ত্রিসভা গঠনে আঞ্চলিক ভারসাম্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। মানিকগঞ্জে বিএনপির নতুন যাত্রা শুরু হলেও এই অর্জন ধরে রাখা এবং উন্নয়ন প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব সেই প্রক্রিয়ায় কতটা ভূমিকা রাখবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে। দলটির পক্ষ থেকে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জানানো হয়েছে, সন্ধ্যা ছয়টায় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সনদে স্বাক্ষর করা হবে। উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ২৫টি রাজনৈতিক দলের নেতারা জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন। এই সনদ রাজনৈতিক সংলাপ এবং দেশের সংবিধানগত প্রক্রিয়ার সমর্থনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। তিনি সৈয়দ রেজাউল করিমের বাসভবনে যান বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় তিনি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সংলাপ ও স্থিতিশীলতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর শীর্ষ নেতার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বাড্ডায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম-এর বাসভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বাসায় প্রবেশের সময় তারেক রহমান নাহিদ ইসলাম ও উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে বুকে টেনে নেন তারেক রহমান। বিএনপি সূত্র জানায়, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ইতিবাচক সংলাপের উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুর নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবির এবং চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে এনসিপির পক্ষে সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সারজিস আলমসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, “আমি কোনো ধনী পরিবারে জন্ম নিইনি। আল্লাহর রহমতে আমি একজন কৃষক পরিবারের সন্তান। তাই কৃষক-শ্রমিকদের সম্মান না করলে তা আমার বাবাকে অপমান করার শামিল।” রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার শিমুলবাক দক্ষিণহাটি এলাকায় জামায়াত সমর্থক শাহ আলমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষকে সম্মান করা আমার ঈমানি দায়িত্ব। কৃষক-শ্রমিকরা কঠোর পরিশ্রম করে হালাল রুজি উপার্জন করেন। তাদের ঘামের গন্ধ আমার কাছে আতরের মতো। অনেক সময় দেখি কেউ কেউ গরিব মানুষের সঙ্গে হাত মেলানোর পর আড়ালে গিয়ে হাত মুছে ফেলেন—আমি তা করি না; আমি সেই ঘামকে সম্মানের চোখে দেখি।” ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “আমি দুই শ্রেণির মানুষের সান্নিধ্যে বিশেষ আনন্দ পাই—একদল নিষ্পাপ শিশু, যাদের কাছে গেলে ফেরেশতার সান্নিধ্যের অনুভূতি হয়; আরেকদল দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ, যারা রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের মুখে হালাল খাবার তুলে দেন।” স্মরণসভায় তিনি শাহ আলমের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, “আমি যতদিন সংগঠনের দায়িত্বে আছি, ততদিন এই দায়িত্ব পালন করব। ভবিষ্যতে যারা দায়িত্বে আসবেন, তারাও তা পালন করবেন বলে আশা রাখি।” ইটনার স্মরণসভা শেষে কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভা থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নিকলীর ছাতিরচরের আব্দুস ছালামের পরিবারের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করেন। স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. সামিউল হক ফারুকী, জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মো. রমজান আলী, কাপাসিয়ার নবনির্বাচিত এমপি সালাউদ্দিন আইয়ুবী, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি শামছুল আলম সেলিম, ঢাকা উত্তর মহানগর জামায়াতের মজলিসে শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ, জেলা অমুসলিম সেক্রেটারি কৃষ্ণচন্দ্র বণিকসহ জেলা-উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি এর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। ওই জনসভা শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুস ছালাম (৬০) নামে এক কর্মী নিহত হন। এ ছাড়া ৮ ফেব্রুয়ারি ইটনা মিনি স্টেডিয়ামে আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনি সমাবেশে যাওয়ার পথে স্ট্রোকে শাহ আলম (৫০) নামে এক সমর্থকের মৃত্যু হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে নির্বাচনের উত্তাপ পেরিয়ে বিরল রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের দৃশ্য দেখা গেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হড়গ্রাম ইউনিয়নের আদাড়িয়া পাড়ায় নবনির্বাচিত বিএনপি এমপি অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনের বাসভবনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। অধ্যাপক আজাদ জানান, “মিলন আমার ছোট ভাই। দীর্ঘদিন একসঙ্গে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কাজ করেছি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় আমি তার পাশে থাকব এবং রাজশাহী-৩ এর উন্নয়নে সহযোগিতা করব।” নবনির্বাচিত এমপি মিলন বলেন, “নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব। মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমাদের লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ। সকলের মতামতকে কাজে লাগিয়ে আসন উন্নয়ন করব।” নির্বাচন ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে শফিকুল হক মিলন পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৮ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২৭ ভোট। স্থানীয় পর্যায়ে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ উদ্যোগকে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
শেরপুর সদর-১ আসনের নির্বাচনে গুরুতর অনিয়ম ও তথাকথিত ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ এনে ফলাফল স্থগিত এবং পুনঃভোটের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিশাঙ্কা। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন-এ উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি অভিযোগগুলো তুলে ধরেন। তার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ধানের শীষ প্রতীকের ভোট কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবং কিছু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। তিনি দাবি করেন, লাঙ্গল প্রতীকের এজেন্টরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করেছে। উল্লেখ্য, লাঙ্গল প্রতীক জাতীয় পার্টি-এর নির্বাচনী প্রতীক। ডা. প্রিশাঙ্কার আরও অভিযোগ, ভোটকেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের হুমকি ও চাপের মুখে রাখা হয়, বিপরীতে অন্য দলের এজেন্টরা নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করেছেন। হিন্দু ভোটারদের ভোটদানে বাধা এবং একাধিক কেন্দ্রে কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্যে, ভোটের দিনে ভোটারদের দীর্ঘ সময় লাইনে আটকে রেখে ভোটগ্রহণের গতি কমানোর ‘পরিকল্পিত কৌশল’ নেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে ফলাফল স্থগিত রেখে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানান। তার মতে, সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন সম্ভব নয় এবং ভোটারদের সঠিক রায় নিশ্চিত করতে পুনঃভোটই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর–বাগাতিপাড়া) আসনে ইতিহাস গড়লেন ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। মাত্র ৪১ বছর বয়সে তিনি দেশের সর্বকনিষ্ঠ নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে এ আসনে প্রথম নারী এমপি হিসেবেও নিজের নাম লেখালেন তিনি। দীর্ঘ ১৮ বছর পর বিএনপির হারানো ঘাঁটি পুনরুদ্ধার করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিলেন পুতুল। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন পুতুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কালাম আজাদ (দাঁড়িপাল্লা) পান ৮৯ হাজার ৪৩১ ভোট। বিজয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় পুতুল মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “এই বিজয় লালপুর–বাগাতিপাড়ার আপামর মানুষের। দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের অক্লান্ত পরিশ্রমই এ সাফল্যের মূল ভিত্তি।” রাজনৈতিক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্ম নেওয়া পুতুল বিএনপি সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, মরহুম ফজলুর রহমান পটল–এর কন্যা। ফজলুর রহমান পটল ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এ আসন থেকে ধারাবাহিকভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে নাটোর-১ আসনকে বিএনপির শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করেছিলেন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি হাতছাড়া হয় এবং পরবর্তী এক দশকেরও বেশি সময় বিএনপি সেখানে প্রতিনিধিত্বহীন থাকে। বাবার মৃত্যুর পর সেই রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে পুনরুজ্জীবিত করলেন পুতুল। তার এ বিজয় কেবল একটি আসন পুনরুদ্ধারের ঘটনা নয়; বরং প্রজন্মান্তরের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সংসদে আসন পেতে সক্ষম হয়েছেন মাত্র ৯টি দল। এদের মধ্যে চারটি ইসলামি দল মোট ৭২টি আসনে জয়ী হয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস রচনা করেছে—১৯৭৩ সালের পর প্রথমবার একাধিক ধর্মভিত্তিক দল সংসদে প্রবেশ করলো। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে তারেক রহমান সরকার গঠনের জন্য বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন। তবে জামায়াতে ইসলামী ও তার নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক তিনটি ছোট ইসলামি দলও সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ‘রিকশা’ প্রতীকে দুটি আসনে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিস ‘দেয়ালঘড়ি’ প্রতীকে একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি ২৯৭ আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয়ী, জামায়াতে ইসলামি ৬৮ আসন পায়, আর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬ আসনে জয়লাভ করে। ইসলামি দলের বিজয় মধ্যম ও ছোট জেলা থেকে এসেছে, যেখানে নির্বাচিত প্রার্থীরা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ও জোটের সমর্থন রেখেছেন। উল্লেখযোগ্য বিজয়গুলো: মাদারীপুর-১: মাওলানা সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস/জামায়াত জোট) ময়মনসিংহ-২: মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস/রিকশা) সিলেট-৫: মুফতি আবুল হাসান (খেলাফত মজলিস/দেয়ালঘড়ি) বরগুনা-১: মো. অলি উল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ/হাতপাখা) বাকি ইসলামি দলের প্রার্থীরা বেশ কয়েকটি আসনে শক্ত অবস্থান সত্ত্বেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ছিলেন। এই ফলাফলে স্পষ্ট যে, ইসলামি দলগুলো ২০২৪ সালের নির্বাচনে পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক প্রভাব অর্জন করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন দিক নির্দেশ করবে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস দীর্ঘ সময় ধরে তালাবদ্ধ থাকায় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে এটি খুলে দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। তিনি জানান, স্থানীয় উত্তেজনা কমাতে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অফিস খুলে দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মন্তব্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির নেতা আবু দাউদ প্রধান বলেন, “এটি আমার দলের সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি স্থানীয় শান্তি উদ্যোগ। কেউ অন্যায় করলে তা আমি প্রশ্রয় দেবো না।” স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন জানান, অফিসটি পূর্বে জামায়াতের কিছু লোক তালাবদ্ধ করেছিল। “আজ আমরা আবু দাউদ প্রধানসহ এলাকার মানুষ নিয়ে অফিসটি খুলেছি। আপাতত এখানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম হবে না, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা চলছে। অফিসটি মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে।” অফিস খুলে দেওয়ার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও এ পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন এবং উভয়পক্ষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আশা প্রকাশ করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজ খানম আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের ফলাফলের কপি হস্তান্তর করেন। বিজয়ী প্রার্থীরা সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজির বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার জনগণ ভোটের মাধ্যমে রায় দিয়েছেন। সাতক্ষীরা-১ (তালা–কলারোয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জতউল্লাহ বলেন, জেলার মানুষকে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা থেকে রক্ষা করতে তারা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবেন। সাতক্ষীরা-২ (সদর–দেবহাটা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুন্দর সাতক্ষীরা গড়তে কাজ করবেন। সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ–আশাশুনি) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রবিউল বাসার দুর্নীতিমুক্ত জেলা গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় শ্যামনগরের উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য। এ সময় জেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, ভোটদাতা–অভোটদাতা নির্বিশেষে জেলার সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ইসলামী ছাত্রশিবির–এর নেতাকর্মীরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ–বকশিগঞ্জ) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এর আগে তিনি ২০০১ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দেওয়ানগঞ্জ ও বকশিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ১২৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে দেওয়ানগঞ্জে ৭৬টি এবং বকশিগঞ্জে ৫৩টি কেন্দ্র। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৫৬ ভোট পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৯৭ হাজার ৮২০ ভোট। ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ৭৫ হাজার ৮৩৬। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মো. আব্দুর রউফ তালুকদার হাতপাখা প্রতীকে ৪ হাজার ১২১ ভোট, **জাতীয় পার্টি**র এ. কে. এম ফজলুল হক লাঙল প্রতীকে ৯৩১ ভোট এবং **গণধিকার পরিষদ**র মো. রফিকুল ইসলাম ট্রাক প্রতীকে ২২৬ ভোট পেয়েছেন। ফলাফল ঘোষণার পর এলাকায় বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট–৩ (রামপাল–মোংলা) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম রেকর্ড সংখ্যক ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। অতীতের সব ব্যবধান ছাড়িয়ে তার এই জয় এলাকায় রাজনৈতিকভাবে নতুন সমীকরণ সৃষ্টি করেছে। রামপাল ও মোংলা উপজেলা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট–৩ আসনের ১০৫টি ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ভোট গণনা শেষে সন্ধ্যার পর থেকে ফলাফল প্রকাশ শুরু হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম ১ লাখ ৩ হাজার ৭১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াদুদ পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৭০৫ ভোট। নির্বাচনটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিজয়-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “এই জনপদ শান্তি ও উন্নয়নের জনপদ। আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান–এর পরিকল্পনা অনুযায়ী এই অঞ্চলকে নতুনভাবে সাজানো হবে। সবাই শান্ত থাকবেন, কোনো বিশৃঙ্খলায় জড়াবেন না। সকলকে সঙ্গে নিয়ে এই জনপদের উন্নয়নে কাজ করবো।” ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের এই রেকর্ড জয়ে এলাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উল্লাস লক্ষ্য করা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুইটিতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। অপর একটি আসনের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে স্থগিত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ভোটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম শেরপুর-১ আসনে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী শেরপুর-২ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। শেরপুর-১ আসনে জামায়াতের বড় জয় ১৪৫টি ভোটকেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম দাড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৮১১ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট সমর্থিত ডা. সানসীলা জেবরীন প্রিয়াঙ্কা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৩৪২ ভোট। ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ৪৯ হাজার ৪৬৯। এ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ মোটরসাইকেল প্রতীকে ৬২ হাজার ৪১৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। শেরপুর-২ আসনে বিএনপি এগিয়ে ১৫৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত গোলাম কিবরিয়া (ভিপি) দাড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১ লাখ ৮ হাজার ৪৫৬ ভোট। দুই প্রার্থীর ব্যবধান ১০ হাজার ১৬ ভোট। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল কায়েস হাতপাখা প্রতীকে ৪ হাজার ৮৭৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে থাকেন। ভোটার উপস্থিতি ও গণভোট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, শেরপুর-১ আসনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬১ শতাংশ এবং শেরপুর-২ আসনে ৫৪ শতাংশ। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে উভয় আসনেই ‘হ্যাঁ’ ভোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেলার দুই আসনে ভোটগ্রহণ সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জাপা) নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। দলটি সারা দেশে ১৯৬টি আসনে প্রার্থী দিলেও ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে কোনো আসনেই জয় পায়নি। চার দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি দলটির অন্যতম বড় নির্বাচনী বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। রংপুর-৩ আসনে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। একইভাবে গাইবান্ধা-১ আসনে মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। একসময় জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুর অঞ্চলে এবারের ফলাফল দলটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে লাঙল প্রতীককে কেন্দ্র করে প্রতীকী ‘জানাজার’ আয়োজনের দৃশ্য দেখা যায়। তবে ছবিটি কোথায় ও কখন ধারণ করা হয়েছে—তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ একে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ তা অসম্মানজনক বলে মন্তব্য করছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের ফলাফল দলটির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনী ফলাফলের প্রেক্ষাপটে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত প্রায় তিনটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে এ ফলাফলকে দেশের জনগণের অর্জন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পোস্টে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন ও ত্যাগের পর যে অগ্রগতি এসেছে, তা বাংলাদেশের মানুষের বিজয়। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং আন্দোলনে নিহত ও নিখোঁজ নেতা–কর্মীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি দলীয় নেতৃত্ব, নেতা–কর্মী এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দলীয় নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বিজয় মিছিল পরিহার এবং পরিবর্তে দোয়া মাহফিল আয়োজনের আহ্বান জানান। দায়িত্ব পালনে সবার দোয়া কামনা করেন বিএনপির মহাসচিব।
পঞ্চগড়ের বদরগঞ্জ পৌর শহরের বালুয়াভাটা নেহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোট প্রদান করেছেন জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। ভোটের পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, প্রশাসন পুরোপুরি নিরপেক্ষ কিনা তা বলা সম্ভব নয়, তবে বর্তমানে ভোটের পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো। এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, “গতকাল অনেকেই বিভিন্ন অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করেছে। আমি ওসিকে বিষয়টি বলার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়া পাইনি। তবে ভোটের শুরুতে সার্বিক পরিস্থিতি ভালোই মনে হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, যেখানে তিনি ভোট দিয়েছেন, সেখানে আলো অপর্যাপ্ত ছিল। এ নিয়ে তিনি সরাসরি কর্তৃপক্ষকে সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, “ভোটের পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো, তবে ১৭ বছর পর নির্বাচন হওয়ায় প্রাথমিক সময়ে কিছু সমস্যা স্বাভাবিক। এখন পর্যন্ত আমার এলাকায় বড় ধরনের অনিয়ম দেখা যায়নি।” তিনি ব্যক্তিগতভাবে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী, বলেন, “জনগণের উৎসাহ দেখে মনে হচ্ছে, যদি ভোট শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং গণনা সঠিকভাবে হয়, আমরা বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করবো ইনশাআল্লাহ।” সারাদেশের ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার কাছে যা খবর এসেছে, তা থেকে ধারণা করা যায় মোটামুটি সার্বিকভাবে নির্বাচন এখনো সুষ্ঠু।”
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় ঐক্য জোটের মনোনীত পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সারজিস আলম বলেছেন, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাদের কোনো অভিযোগ থাকবে না। প্রশাসন পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে আটোয়ারী উপজেলার বামনকুমার রাখালদেবী হাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বাবা ও ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন। সারজিস আলম জানান, তিনি ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রতীক ‘শাপলা কলি’তে ভোট দিয়েছেন এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনগণের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগের কয়েক দিনে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করেছে। নির্বাচনের দিনে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। সারজিস আলম বলেন, কোথাও অনিয়ম বা পেশিশক্তির ব্যবহার হলে প্রথমে প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হবে। প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা হবে। তিনি আরও বলেন, পঞ্চগড়-১ আসনের ১৫৫টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হলে জনগণের রায় মেনে নিতে তারা প্রস্তুত। তার দাবি, নির্বাচনী এলাকায় ইতোমধ্যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকা–১৭ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিএনপির প্রার্থী ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়ে চারজন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সশরীরে ও টেলিফোনে তাঁরা এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর আগে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক প্রার্থীও সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিএনএফ প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, জাতীয়তাবাদী ভোট বিভক্তি রোধ এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌম স্বার্থ রক্ষার বিবেচনায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি তাঁর সমর্থকদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান। একই মঞ্চে অপর প্রার্থী শামীম আহমেদও অনুরূপ ঘোষণা দেন। অন্যদিকে, নির্বাচনী এলাকায় অনুপস্থিত থাকায় আরও দুই প্রার্থী টেলিফোনে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে সমর্থনের কথা জানান এবং ভোটারদের নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনী এলাকায় অর্থের বিনিময়ে ভোট প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চলছে। তারা নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনকে আটকের ঘটনায় ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে দলটি। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দাবি করেছেন, উদ্ধারকৃত অর্থ কোনোভাবেই নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নয়; এটি সম্পূর্ণভাবে তার গার্মেন্টস ব্যবসার লেনদেনের টাকা। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আটকের ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আটককৃত অর্থের সঙ্গে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এর আগে একই দিন দুপুরের দিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে বেলাল উদ্দিনকে প্রায় ৪০ লাখ টাকাসহ আটক করা হয়। নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জব্দকৃত অর্থ মেশিনে গণনার প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার আইনগত দিক যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তি ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন কামিল মাদরাসার শিক্ষক। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ তদন্ত শেষে জানানো হবে