কৃষি ও জলবায়ু

সবজি রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করলো বাংলাদেশের কৃষি খাত

Icon
হোসেন মাঝি
প্রকাশঃ জুন ২৮, ২০২৫

বাংলাদেশের কৃষি খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে সবজি রপ্তানির মাধ্যমে। চলতি বছর সবজি রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ, যা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি লাউ, কাঁচামরিচ, শিম, বেগুন, এবং মুলার চাহিদা বেড়েছে ব্যাপক হারে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (EPB) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে সবজি রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশেষ করে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, এবং যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কারণে দেশীয় সবজির চাহিদা বেশি দেখা গেছে।

 

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জাহিদুল হাসান বলেন, “সরকার রপ্তানি-উপযোগী কৃষিপণ্য উৎপাদনে কৃষকদের সহায়তা করছে। নিরাপদ এবং রাসায়নিক মুক্ত উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হিমাগার ও রপ্তানি মান অনুযায়ী প্যাকেজিং সুবিধাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।”

ঢাকার সন্নিকটে সাভারের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানালেন, “আমি আগে শুধু স্থানীয় হাটে বিক্রি করতাম। এখন এলাকার একটি সংগঠনের মাধ্যমে আমাদের সবজি দুবাই পাঠানো হয়। দামও ভালো পাই, সময়মতো টাকা পেয়ে যাই।”

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশে বছরব্যাপী সবজি উৎপাদনের ক্ষমতা থাকায় এই খাতে রপ্তানির অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তারা এটাও বলছেন যে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, সঠিক হিমায়ন ব্যবস্থা, ও সময়মতো পরিবহন নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা রপ্তানির জন্য নির্দিষ্ট অঞ্চল ভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যেমন—নরসিংদী, যশোর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চলে সবজি উৎপাদনের পাশাপাশি রপ্তানিযোগ্য মানের ফসল উৎপাদনে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

 

বিমানবন্দরে দ্রুত সবজি পার্সেল হ্যান্ডলিংয়ের সুবিধা, কৃষিপণ্য পরীক্ষার জন্য আলাদা ল্যাব, এবং নতুন কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করলে এই রপ্তানি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববাজারে সবজি রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদাও যাতে পূরণ হয়, সে বিষয়েও নজর রাখছে সরকার। কৃষকদের জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক বাজার’ এবং ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাপও চালু করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশের কৃষি খাত এখন শুধু দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না, বরং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। যদি অবকাঠামো ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা যায়, তাহলে বাংলাদেশ অচিরেই বিশ্বের অন্যতম প্রধান সবজি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে পারে।

কৃষি ও জলবায়ু

আরও দেখুন
ছবি: প্রতিনিধি
নীলফামারীতে নিজের নামে উদ্ভাবিত মাল্টার জাত দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চান রাজু

নীলফামারী জেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের ঝাড়পাড়ায় মনিরুজ্জামান (রাজু) গড়ে তুলেছেন রাজু অর্গানিক গার্ডেন অ্যান্ড নার্সারী, যেখানে বিভিন্ন জাতের মাল্টা, কমলা এবং দেশি-বিদেশি ফলের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। রাজু ডিপ্লোমা কৃষিবিদ পাস করার পর চাকরি না পেয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০১৮ সালে নিজের পৈতৃক দেড় একর জমিতে তিনি মাল্টার বাগান গড়ে তোলেন। বাগানে বর্তমানে রাজু-১ ও রাজু-২ নামে তার উদ্ভাবিত মাল্টার দুটি জাত ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজুর বাগান থেকে নীলফামারীর বিভিন্ন অফিস-আদালত ও দেশের বাইরের জেলায় মাল্টা পাঠানো হচ্ছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। বাগানে কমলা, সিকি মোসাম্বি, বারী-১, বারী-২, মরক্কো, থাই পেয়ারা, বারো মাসী আমড়া, কাঁঠাল, ড্রাগন, আনার, আপেল, কাজু ও পেস্তা বাদামসহ প্রায় ৪০০ প্রজাতির ফলগাছ রয়েছে। রাজু বলেন, “২০১৯ সালে প্রথম ফল পাওয়া শুরু হয়। ২০২০ সালে ফলন ও মিষ্টিতা বেশি হওয়ায় বাজারে চাহিদা বেড়ে যায়। গত বছর বাগান থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার আয় হয়েছে, এবারে ১৫ লাখ ছাড়িয়ে যাবে আশা করি।” পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনারুল হক বলেন, “রাজু মনেপ্রাণে কাজ করেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে মাল্টা ও কমলার উৎপাদন ও জাত উন্নয়নে সফলতা পেয়েছে।” নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি এই বাগান থেকে বিষমুক্ত, স্বাস্থ্যকর মাল্টা পাওয়া যাচ্ছে। এটি স্থানীয়দের কর্মসংস্থানও দিয়েছে।” নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর রহমান বলেন, “রাজুর বাগান থেকে উৎপাদিত মাল্টা ও কমলা দেশজুড়ে বিস্তৃত হতে পারে। ভার্মি কম্পোস্ট, জৈব সার ও হাঁড়ের গুড়া ব্যবহার করে আশাতীত ফলন মিলছে। কৃষি বিভাগও রাজুর উদ্ভাবিত মাল্টা জাত দেশের বাজারে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে।”  

সৈয়দপুর, নীলফামারী ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি

দেবীগঞ্জে গম ও ভুট্টা চাষে নতুন সম্ভাবনা, গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাফল্য

ছবি: প্রতিনিধি

মালচিং পদ্ধতিতে ক্যাপসিকাম চাষ করে জীবন বদলাতে চান সুমন

ছবি: প্রতিনিধি

সাতক্ষীরায় এবছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে সরিষা ও মধু আহরণ

নীলফামারীতে আলুখেতে লেটব্রাইট রোগ, দিশাহারা চাষিরা

তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ব্যাপকভাবে আলুখেতে লেটব্রাইট (কোল্ড ইনজুরি) রোগ দেখা দিয়েছে। প্রায় প্রতিদিন কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করেও সুফল না পাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আলুচাষিরা। জেলায় হিমশীতল বাতাস ও দীর্ঘস্থায়ী কুয়াশার প্রভাবে শত শত বিঘা আলুখেত আক্রান্ত হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, নামি-দামি বালাইনাশক ব্যবহার করেও রোগ দমন করা যাচ্ছে না। ফলে ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় লোকসানের হিসাব কষে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তারা। কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর দুরাকুঠি এলাকার আলুচাষি আবদুল জব্বার বলেন, গত বছর অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলন পাওয়ায় এবার দ্বিগুণ জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি মৌসুমে শীত ও কুয়াশার কারণে লেটব্রাইট রোগে ফসল নষ্ট হচ্ছে।     কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি রবি মৌসুমে নীলফামারী জেলায় ১৮ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৩২ হাজার ৬২০ টন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান বলেন, আক্রান্ত এলাকার তথ্য পেলে দ্রুত মাঠ পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম জানান, প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশায় আলুখেতে এ ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে।     সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে লেটব্রাইট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। কৃষকরা দোকানিদের পরামর্শে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করছেন। একই সঙ্গে শীত ও কুয়াশা থেকে রক্ষায় বোরো বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বলেন, মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সৈয়দপুর, নীলফামারী জানুয়ারী ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি

কৃষক আজিজুলের মুখে তৃপ্তির হাঁসি

Irregular rainfall disrupts farming

বৃষ্টির অনিয়মিত আচরণে চাষাবাদে ব্যাঘাত, কৃষকদের আয় কমছে দিনদিন

সবুজ প্রযুক্তিতে বিপ্লব: স্মার্ট কৃষি যন্ত্রে বদলে যাচ্ছে গ্রামের চাষাবাদ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

তামিম রেহমান জুন ২৮, ২০২৫ 0

সবজি রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করলো বাংলাদেশের কৃষি খাত

আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের কৃষি খাত

শহরে গরমের তীব্রতা: গাছ কম, সমস্যা বেশি

শহরে গরমের তীব্রতা: গাছ কম, সমস্যা বেশি

0 Comments