কৃষি ও জলবায়ু

মৌমাছির গুন গুন শব্দে বাতাসে দুলছে সরিষা ক্ষেত

সাতক্ষীরায় এবছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে সরিষা ও মধু আহরণ

Icon
সাতক্ষীরা
প্রকাশঃ জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
ছবি: প্রতিনিধি
ছবি: প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে এখন সরিষার হলুদে ভরে উঠেছে মাঠ। দোল খাওয়া সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির গুঞ্জনে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। চলতি মৌসুমে জেলায় ১৯ হাজার ১৬২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এসব জমি থেকে ২৭ হাজার ২০২ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।
সরিষার পাশাপাশি মধু আহরণেও সাফল্য এসেছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৮ টন মধু উৎপাদনের, তবে ইতোমধ্যে প্রায় ৬১ টন মধু সংগ্রহ করা হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়েও বেশি। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মৌসুম শেষে এই উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

 


 

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় টরি-৭, বারি-৯, ১৪, ১৭, ১৮, ২০ এবং বিনা-৯ ও ১১ জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। এসব ক্ষেতে মৌচাষিরা মৌবাক্স স্থাপন করে মৌমাছি পালন করছেন। মৌচাষ থেকে মোট ৭৫ হাজার কেজি মধু উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপজেলা ভিত্তিক হিসাবে সদর উপজেলায় ৫ হাজার ২৫৫ হেক্টরে, তালায় ১ হাজার ৩৬৫, কলারোয়ায় ৭ হাজার ৬৫৫, দেবহাটায় ১ হাজার ৯০৫, কালিগঞ্জে ১ হাজার ২৪০, আশাশুনিতে ৯৮০ এবং শ্যামনগরে ৭৬২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জেলায় ১৬ হাজার কৃষককে প্রণোদনার আওতায় সরিষার বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৫৮ টন থাকলেও ইতোমধ্যে তা অতিক্রম করেছে। এটি জেলার জন্য একটি বড় সাফল্য।”

 

কৃষি ও জলবায়ু

আরও দেখুন
ছবি: প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় এবছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে সরিষা ও মধু আহরণ

সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে এখন সরিষার হলুদে ভরে উঠেছে মাঠ। দোল খাওয়া সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির গুঞ্জনে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। চলতি মৌসুমে জেলায় ১৯ হাজার ১৬২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এসব জমি থেকে ২৭ হাজার ২০২ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। সরিষার পাশাপাশি মধু আহরণেও সাফল্য এসেছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৮ টন মধু উৎপাদনের, তবে ইতোমধ্যে প্রায় ৬১ টন মধু সংগ্রহ করা হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়েও বেশি। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মৌসুম শেষে এই উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।     কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় টরি-৭, বারি-৯, ১৪, ১৭, ১৮, ২০ এবং বিনা-৯ ও ১১ জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। এসব ক্ষেতে মৌচাষিরা মৌবাক্স স্থাপন করে মৌমাছি পালন করছেন। মৌচাষ থেকে মোট ৭৫ হাজার কেজি মধু উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক হিসাবে সদর উপজেলায় ৫ হাজার ২৫৫ হেক্টরে, তালায় ১ হাজার ৩৬৫, কলারোয়ায় ৭ হাজার ৬৫৫, দেবহাটায় ১ হাজার ৯০৫, কালিগঞ্জে ১ হাজার ২৪০, আশাশুনিতে ৯৮০ এবং শ্যামনগরে ৭৬২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জেলায় ১৬ হাজার কৃষককে প্রণোদনার আওতায় সরিষার বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৫৮ টন থাকলেও ইতোমধ্যে তা অতিক্রম করেছে। এটি জেলার জন্য একটি বড় সাফল্য।”  

সাতক্ষীরা জানুয়ারী ১৯, ২০২৬ 0

নীলফামারীতে আলুখেতে লেটব্রাইট রোগ, দিশাহারা চাষিরা

ছবি: প্রতিনিধি

কৃষক আজিজুলের মুখে তৃপ্তির হাঁসি

Irregular rainfall disrupts farming

বৃষ্টির অনিয়মিত আচরণে চাষাবাদে ব্যাঘাত, কৃষকদের আয় কমছে দিনদিন

সবুজ প্রযুক্তিতে বিপ্লব: স্মার্ট কৃষি যন্ত্রে বদলে যাচ্ছে গ্রামের চাষাবাদ

বাংলাদেশের কৃষি খাত আজ পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এক সময় যে চাষাবাদ ছিল কেবল কৃষকের অভিজ্ঞতা ও প্রাকৃতিক নির্ভরশীলতার উপর, সেখানে এখন যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্মার্ট কৃষি যন্ত্রের প্রসারে দেশের গ্রামীণ চাষাবাদে এক বিপ্লব ঘটছে। পরিবর্তন আসছে কৃষকের চাষের ধরণ, উৎপাদনের পরিমাণ এবং খরচের পরিমিত ব্যবস্থাপনায়।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। উন্নত মানের পাওয়ার টিলার, স্মার্ট স্প্রেয়ার, স্বয়ংক্রিয় পানি সেচ যন্ত্র, ড্রোনের মাধ্যমে সার ও কীটনাশক ছিটানো, স্যাটেলাইট নির্ভর আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থাসহ নানা ধরনের স্মার্ট কৃষি যন্ত্র এখন অনেক গ্রামের মাঠে মাঠে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে কৃষকের শ্রম ও সময় দুই-ই বাঁচছে, উৎপাদনও হচ্ছে আরও পরিকল্পিতভাবে।   স্মার্ট যন্ত্র ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি উপকার পাচ্ছেন তরুণ কৃষকরা, যারা প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী এবং স্মার্টফোন বা অ্যাপ ব্যবহার করে চাষাবাদে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। মাটি পরীক্ষার জন্য পোর্টেবল যন্ত্র, মোবাইল অ্যাপ থেকে আবহাওয়ার আপডেট, এমনকি কৃষি পরামর্শও মিলছে এখন হাতের মুঠোয়। ফলে ফসল উৎপাদনের আগে থেকেই তারা জানেন কোন ফসল কবে লাগাতে হবে, কী পরিমাণ সার প্রয়োজন, আর কখন ফসল ঘরে তুললে সর্বোচ্চ লাভ মিলবে।   সবুজ প্রযুক্তির আরও একটি বড় দিক হচ্ছে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। প্রচলিত পদ্ধতিতে অধিক কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে মাটির ক্ষতি হতো, কিন্তু এখন অনেকেই জৈব সার ও বায়োকন্ট্রোল পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে যেমন উৎপাদিত ফসল নিরাপদ হচ্ছে, অন্যদিকে মাটির উর্বরতাও বজায় থাকছে দীর্ঘমেয়াদে। এ ছাড়া সৌরশক্তি চালিত সেচ পাম্প এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিও অনেক অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা খরার সময়েও কৃষকদের সহায়তা করছে।   তবে এই পরিবর্তনের পথ এখনো সহজ নয়। অনেক কৃষক এখনো প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী হলেও তাদের দক্ষতা বা আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে এগিয়ে যেতে পারছেন না। স্মার্ট যন্ত্রের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের পক্ষে তা কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রয়োজন সমবায় ভিত্তিক ব্যবহার, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ।   এই বিপ্লব সফল করতে হলে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। স্কুল-কলেজে কৃষি প্রযুক্তি শিক্ষাকে উৎসাহিত করা, কৃষকদের জন্য সহজলভ্য প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দিলে কৃষি আরও লাভজনক ও টেকসই হবে। স্মার্ট কৃষি শুধু কৃষকের জীবনে পরিবর্তন আনবে না, এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সবুজ প্রযুক্তির এই বিপ্লবই হতে পারে আগামী দিনের নিরাপদ ও আধুনিক কৃষির ভিত্তি।

তামিম রেহমান জুন ২৮, ২০২৫ 0

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

সবজি রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করলো বাংলাদেশের কৃষি খাত

আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের কৃষি খাত

শহরে গরমের তীব্রতা: গাছ কম, সমস্যা বেশি
শহরে গরমের তীব্রতা: গাছ কম, সমস্যা বেশি

শহরে গরমের তীব্রতা: গাছ কম, সমস্যা বেশি বর্তমান সময়ের শহরগুলোতে গরমের তীব্রতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর উঠে যাওয়ায় মানুষের দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে আমাদের মতো দ্রুত নগরায়িত দেশে, যেখানে গাছের সংখ্যা কমে আসছে, সেখানে গরমের সমস্যাও তীব্র হচ্ছে। শহরের গরম বৃদ্ধির পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। প্রধানত, বাড়ি ও রাস্তার জন্য বন ও খোলা জায়গাগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। কংক্রিট ও অ্যাসফাল্টের বেশি ব্যবহার সূর্যের তাপ শোষণ করে, যা রাতে ধীরে ধীরে মুক্তি পায়। ফলে শহরগুলো “হিট আইল্যান্ড” হিসেবে পরিচিত। গাছ না থাকার কারণে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ছায়া ও বাষ্পীভবন কমে যায়। এ গরমে মানুষ যেমন শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, তেমনি পরিবেশগত প্রভাবও বড়। গরমের তীব্রতায় বাড়ছে বায়ু দূষণ ও গ্যাস নির্গমন, যা শ্বাসকষ্ট, এলার্জি ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য এই পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। শহরের গ্রীন স্পেস কমে আসার ফলে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। গাছ ও গাছপালা তাপমাত্রা কমানোর পাশাপাশি বায়ু পরিশোধন ও মাটি রক্ষা করতেও সাহায্য করে। তাই শহরের পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে গাছ লাগানো অত্যন্ত জরুরি। বিভিন্ন শহরে ইতোমধ্যে গাছ লাগানো, পার্ক ও গ্রীন জোন বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছোটখাটো উদ্যোগ যেমন বাড়ির ছাদে বাগান, কমিউনিটি গার্ডেন, সাইকেল লেন স্থাপনও গরম কমাতে সাহায্য করছে। তবে বড় রকমের পরিকল্পনা ও সরকারি সহযোগিতা ছাড়া ব্যাপক পরিবর্তন আসা কঠিন। শহরের বাসিন্দাদেরও প্রয়োজন সচেতন হওয়া। গাছ রক্ষা, প্লাস্টিক কম ব্যবহার, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, এবং গরমের সময় বাড়ির জানালা ও দরজা খোলা রেখে তাজা বাতাস প্রবাহিত করার মতো সাধারণ কাজগুলো গরমের প্রভাব কমাতে সহায়ক। সার্বিকভাবে, শহরে গাছের কমতি ও বেড়ে যাওয়া গরমের তীব্রতা আমাদের জীবনের জন্য বড় সংকেত। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া গেলে স্বাস্থ্যগত, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এখনই প্রয়োজন সবাই মিলে পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই নগরায়নের পথ খুঁজে বের করা।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
খরা ও বন্যা একসঙ্গে: কৃষির জন্য নতুন হুমকি

খরা ও বন্যা একসঙ্গে: কৃষির জন্য নতুন হুমকি

জলবায়ু সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূল ভাঙনের মুখে

বৃষ্টি কম, তাপমাত্রা বেশি: অস্বাভাবিক জলবায়ু নিয়ে চিন্তিত বিজ্ঞানীরা

0 Comments