সুন্দরবনে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালিয়ে বনদস্যুদের কাছ থেকে দুই পর্যটক ও একটি রিসোর্টের মালিককে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চার সহযোগীসহ মোট ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তবে ডাকাত দলের প্রধান মাসুম মৃধা এখনও পলাতক রয়েছেন।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান সোমবার (৫ জানুয়ারি) জানিয়েছেন, ২ জানুয়ারি গোলকানন রিসোর্ট থেকে কাঠের বোটে ভ্রমণের সময় মাসুম মৃধার নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র দল সাতজনকে জিম্মি করে। পরে তিন পর্যটক ও মাঝিকে ছেড়ে দেওয়া হলেও দুই পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ঘটনার পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ কোস্ট গার্ডকে জানালে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব যৌথ অভিযান শুরু করে। অভিযানের অংশ হিসেবে ৩-৪ জানুয়ারি ডাকাত দলের চার সহযোগী ও দুই আর্থিক সহায়ককে আটক করা হয়। এরপর ড্রোন সার্ভিলেন্সের মাধ্যমে দুই পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃতদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং আটককৃতদের থানায় সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে। মাসুম মৃধাকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দেশের উপকূলীয় নৌপথ ও সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা উন্নয়নের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বেইস মোংলায় সমন্বয় সভা আয়োজন করে। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সভায় দস্যুতা দমন, অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ ও পর্যটকসহ সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাগেরহাট জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব, নৌ পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, মৎস্য ও বন বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া ট্যুর অপারেটর, রিসোর্ট মালিক, মৎস্য ব্যবসায়ী ও মাঝি-মাল্লারা উপস্থিত ছিলেন। সভার সিদ্ধান্তে সুন্দরবনে দস্যুতা দমন কার্যক্রম জোরদার, সীমান্তবর্তী নদীপথে অবৈধ অস্ত্র ও মানব পাচার প্রতিরোধ, পর্যটকবাহী জাহাজ ও রিসোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ফিশিং ট্রলারের মাধ্যমে চোরাচালান বন্ধ ও ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও দস্যুতা দমন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও সমন্বিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুর রহমান। সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জাকির হোসেন। সভায় বাংলা নববর্ষকে বর্ণাঢ্যভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রস্তুতিমূলক সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার লোকমান আলম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, বড়ভিটা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ ফজলার রহমান, সদর ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (গ্রেনেট বাবু), রণচন্ডী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুকুল হোসেন, কিশোরগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মাহফুজার রহমান এবং কিশোরগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাবু প্রতাব চন্দ্র। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দুটি আসনে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেখানে বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে তা বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে বলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষিত হওয়ায় এখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আসনসহ দুটি আসনে নির্বাচিত হলেও পরবর্তীতে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন। অন্যদিকে, শেরপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে পূর্বঘোষিত নির্বাচন স্থগিত থাকায় বর্তমানে সেখানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বগুড়া-৬ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আবিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)-এর মো. আল-আমিন তালুকদার। এ আসনে মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের ৮৩৫টি কক্ষে ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। অন্যদিকে, শেরপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাসদ (মার্কসবাদী)-এর মো. মিজানুর রহমান। এ আসনে ১২৮টি ভোটকেন্দ্রের ৭৫১টি কক্ষে ৪ লাখ ৯ হাজার ৮০৬ জন ভোটার অংশ নিচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দুই আসনেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার-ভিডিপির বিপুলসংখ্যক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব পর্যবেক্ষক এবং স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের সমন্বয়ে বিস্তৃত নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় পাঁচ হাজারের মতো প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা ভোটগ্রহণে নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া দুই আসনেই পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।