রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা দালাল চক্রের বিরুদ্ধে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) তৎপরতা দেখিয়ে ১৪ জনকে আটক করেছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) র্যাব-২-এর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে পাঁচ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, আটককৃতদের মধ্যে তিনজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ছাড় দেওয়া হয়েছে, বাকি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিবিড় তদন্ত চলমান। অভিযানের লক্ষ্য ছিল সাধারণ গ্রাহকদের প্রতারণা ও মধ্যস্বত্বভোগী দালালদের হাত থেকে সুরক্ষা দেওয়া।
অভিযান থেকে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ এই চক্র পাসপোর্ট দ্রুত পাওয়ার প্রলোভনে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত, অনেক ক্ষেত্রে টাকা নেওয়ার পরও পাসপোর্ট প্রদান বা জাল কাগজপত্র সরবরাহের মাধ্যমে গ্রাহকদের হয়রানি করত।
পাসপোর্ট অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা র্যাবের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং জানিয়েছেন, নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে এবং দালাল চক্রের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। তারা গ্রাহকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আবেদন প্রক্রিয়ায় দালালের সাহায্য না নিয়ে নিজে সরাসরি ফরম পূরণ ও অর্থ জমা দেওয়া উচিত।
র্যাব জানিয়েছে, সরকারি সেবা প্রাপ্তি সহজ ও নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অফিসেও পর্যায়ক্রমে এই ধরনের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।
পঞ্চগড়ের পৃথক সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৮ বোতল মদ ও একটি গরু জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নীলফামারী-৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল সিরাজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিজিবি জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সদর উপজেলার মালকাডাঙ্গা ও বড়শশী সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালানো হয়। মালকাডাঙ্গা এলাকায় সীমান্ত পিলার ৭৭৫/১১এস সংলগ্ন বাংলাদেশ অংশে মালিকবিহীন অবস্থায় ১৮ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে বড়শশী সীমান্তে চোরাকারবারীরা ভারত থেকে গরু নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহল দল ধাওয়া দেয়। এসময় হামলার চেষ্টা হলে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। পরে একটি গরু ফেলে পালিয়ে যায় চোরাকারবারীরা। বিজিবি জানায়, জব্দকৃত মদ ও গরুর বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ফকিরহাটে নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রোকনুজ জামানকে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তারা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরীফ নেওয়াজ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ শাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী মো: আজিজুর রহমান, ওসি (তদন্ত) মো: আলমগীর হোসেন, সহকারী প্রোগ্রামার মো: আলমগীর হোসেনসহ আরও অনেকে। শুভেচ্ছা জানানোর পরে উপজেলা সম্প্রসারিত ভবনের সভাকক্ষে আসন্ন বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। যোগদানের আগে মো: রোকনুজ জামান কুষ্টিয়ার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
নীলফামারীর ডোমারে অবৈধভাবে ভোজ্য তেল মজুদ, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের নকল পণ্য সরবরাহ ও নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার করার অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ডোমারে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অভিযানে মেসার্স ফারুক ট্রেডার্সকে ১ লাখ, সাবেত ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার এবং মেসার্স শহিদুল অ্যান্ড সন্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী র্যাব-১৩ সিপিসি-২ এর স্কোয়াড্রন লিডার আশরাফুল কবির, নীলফামারী সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন রায়হান আহমেদ অর্নবসহ সেনাবাহিনী, র্যাব ও আনসার সদস্যরা। শায়লা সাঈদ তন্বী জানান, এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে, যাতে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষিত হয় এবং বাজারে মানসম্মত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।