ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও বিপিএসসি আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মোঃ শরীফ হোসেন। তিনি বলেন, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। পরীক্ষার সময় নকল ও অনিয়ম প্রতিহত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
সেমিনারে ময়মনসিংহের ১৩টি পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রপ্রধান, হল প্রধান ও আহ্বায়কসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা অংশ নেন। সেমিনারে পরীক্ষা সম্পর্কিত নিয়ম-কানুন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরীক্ষার্থীদের সহায়তার বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজির প্রতিনিধি জানান, প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে পরীক্ষার সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করবে। জেলা প্রশাসক মো: সাইফুর রহমান এবং পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি সতর্ক থাকতে বলেন, যাতে পরীক্ষার দিন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা যানজট না হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে মেডিক্যাল অফিসার ও সহকারী থাকবে।
সমাপনী বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী বলেন, কিছু ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী প্রশ্নের ধরণ অনুসরণ করে নতুন প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাই প্রশ্নফাঁস ও গুজব প্রতিরোধে গোয়েন্দা সংস্থা ও মোবাইল কোর্টকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
ময়মনসিংহের ১৩টি কেন্দ্রে মোট ২৩ হাজার ৮৪৪ জন পরীক্ষার্থী আগামী ৩০ জানুয়ারি প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
প্রত্ম সংগ্রাহক ও গবেষক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ পাঠান (৮৮) আর নেই। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় নরসিংদীর বেলাব উপজেলার আমলাব ইউনিয়নের বটেশ্বর গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। ক্যানসার ও বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। তিনি স্ত্রী ও তিন মেয়েসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় বটেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে তাঁকে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর। এক টাকায় ঈদের নতুন জামা দেওয়ার পর এবার খেটে খাওয়া মানুষের জন্য ১ টাকায় সেমাই, চিনি ও দুধ বিতরণ করে নতুন চমক দেখিয়েছে তারা। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে শহরের গোলাহাট রাজ্জাকিয়া গফুরিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বসানো হয় একটি অস্থায়ী দোকান। ব্যানারে লেখা ছিল— “১ টাকায় সেমাই চিনি দুধ”। আর সেই ডাকেই সাড়া দিয়ে ভিড় করেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ। সুবিধাভোগীরা জানান, মাত্র ১ টাকায় আধা কেজি লাচ্ছা সেমাই, চিনি ও দুধ পাওয়া তাদের কাছে অবিশ্বাস্য। রিকশাচালক মহিবুল আলম বলেন, “আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, প্রতিটি টাকাই গুরুত্বপূর্ণ। আজ ১ টাকায় ঈদের প্রয়োজনীয় জিনিস পেয়ে সত্যিই ভালো লাগছে।” সংগঠনের সদস্যরা জানান, ঈদের আনন্দে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের শামিল করতেই তাদের এই উদ্যোগ। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এসরার আনসারী ও নওশাদ আনসারী বলেন, “আমরা চাই মানুষ দানের অনুভূতি নয়, নিজের অর্থে কিনে নেওয়ার আনন্দ পাক। তাই প্রতীকী মূল্য রাখা হয়েছে।” উল্লেখ্য, প্রতি বছর ঈদকে সামনে রেখে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে আসছে এই সংগঠন। চলতি বছর ১ টাকার দোকানের মাধ্যমে জামা ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে সাতক্ষীরার ২০টিরও অধিক গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল থেকেই আনন্দঘন পরিবেশে মুসল্লিরা নির্ধারিত ঈদের জামাতে অংশ নেন। সকাল ৮টায় সদর উপজেলার কুশখালী ইউনিয়নের বাউখোলা মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মহব্বত আলী। এ জামাতে ভোঁদড়া, ঘোনা, ভাড়খালী, মিরগিডাঙ্গা, ইসলামকাটি, গোয়ালচত্তরসহ অন্তত ২০টি গ্রামের কয়েকশ মুসল্লি অংশ নেন। নামাজ শেষে খুতবা ও বিশেষ মোনাজাতে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। ইমাম মাওলানা মহব্বত আলী বলেন, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বিশ্বের অন্য প্রান্তে চাঁদ দেখার সংবাদের ভিত্তিতে তারা ঈদ উদযাপন করে থাকেন। ঈদের নামাজে অংশ নিতে আসা মুসল্লি আলি হোসেন জানান, সকালেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নামাজ আদায় করতে পেরে তিনি আনন্দিত। আরেক মুসল্লি আব্দুল জলিল বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই দিনে ঈদ পালন করতে পেরে তারা সন্তুষ্ট। এছাড়া শ্যামনগরের কাশিমাড়ী ও তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নেও পৃথকভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সাতক্ষীরা জেলার অধিকাংশ এলাকায় জাতীয়ভাবে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আগামীকাল শনিবার (২১ মার্চ) ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে।