জামালপুরের মাদারগঞ্জে দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান সাইফুলকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইয়াকুব আলী নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বালিজুড়ী বাজার-হাসপাতাল সড়কের নূরুনাহার মির্জা কাশেম মহিলা ডিগ্রি কলেজ এলাকায় মোটরসাইকেল আটক করে ইয়াকুব অস্ত্র হাতে সাংবাদিককে হুমকি দেন। ইয়াকুব আলী মাদারগঞ্জ পৌরসভার বালিজুড়ী পণ্ডিতপাড়া এলাকার খাদ্য ব্যবসায়ী আশরাফ হাজীর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইয়াকুব পূর্বেও চাঁদাবাজি, হামলা ও হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই এক ঠিকাদারের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তের বাবা আশরাফ হাজী জানান, "আমার ছেলে আমাদের কথা মানে না, তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া উচিত।"
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের পল্লীতে এক ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। আহত চালক হারুন অর রশিদ (৫৩) কে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়েছে। সে উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের মৃত: মোবারক আলী মোল্লার ছেলে। রাত ৯টার দিকে ২ জন যাত্রী নিয়ে উপজেলা সদর থেকে সোনাতলা এলাকা দিয়ে যাওয়ার পথে চার-পাঁচজন ছিনতাইকারী প্রতিরোধ করে। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে যখন করে তার পকেটে থাকা সাড়ে তিন হাজার টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এঘটনায় একটি অভিযোগটি আমরা হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খুলনা নগরীতে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় একই পরিবারের চার সদস্যকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে খুলনা নগরীর লবণচরা থানার খাদিজাবাগের কৃষ্ণনগর ঠিকারবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন কাজী আনিসুর রহমান, তার স্ত্রী রঞ্জুয়ারা বেগম, ছেলে রাইছুল ইসলাম ও পুত্রবধূ ফাহিমা খাতুন। এর মধ্যে রঞ্জুয়ারা বেগম ও ফাহিমা খাতুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল–এ পাঠানো হয়েছে। অন্য দুইজন খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল–এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ফাহিমা খাতুনের সঙ্গে তার সাবেক স্বামী ইমরানের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বিরোধের জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা ছয়জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত বাড়িতে ঢুকে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘুমন্ত সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. লক্ষিন্দার কুমার দে জানান, গুরুতর আহত দুই নারীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় এক মুরগিবাহী যানবাহন থেকে প্রায় ১৬০টি লেয়ার মুরগি ছিনতাই হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ছাত্রদল নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত মো. শাকিল ফারহান মিয়া গাজীপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে শাকিল ফারহান মিয়াকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও থানায় দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, ১২ মার্চ রাত ১০টার দিকে চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের উছমানপুর এলাকায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো লিমিটেডের একটি মুরগিবাহী গাড়ি আটকানো হয়। অভিযোগ, শাকিল ফারহান মিয়ার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন যুবক জোরপূর্বক গাড়ির গতিরোধ করে মুরগিগুলো ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া চালক ও হেলপারের কাছ থেকে দুটি মানিব্যাগ ও একটি মোবাইল ফোনও নেওয়া হয়। প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, কোম্পানির সুপারভাইজার আশফাক ঘটনাস্থলে গেলে তার মোটরসাইকেলের চাবিও নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় চাবি ও একটি মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়া গেলেও ছিনতাই হওয়া মুরগি উদ্ধার করা যায়নি। চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযুক্ত শাকিল ফারহান মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।