বিশ্ব

মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলামকে গুলিকরে হত্যা

Icon
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬
সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি
সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি

লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদ সংস্থা ও তার রাজনৈতিক দল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জিনতান শহরে একটি কমান্ডো দল তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে। তার বোনের বরাতেও জানা গেছে, তিনি লিবিয়া-আলজেরিয়া সীমান্তের কাছে নিহত হয়েছেন।

৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন। ২০১১ সালে তার বাবার ক্ষমতা হঠাৎ পতনের পর সাইফকে দেশজুড়ে কারাগারে রাখা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মুখোমুখি হওয়ার পর ২০১৭ সালে পূর্ব লিবিয়ার মিলিশিয়ার মাধ্যমে মুক্তি পান।

এর আগে সাইফ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে ভূমিকা রেখেছেন এবং ২০২১ সালে লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। যদিও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও তার বাবার কর্মকাণ্ডের কারণে তার গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছিল।

লিবিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত, যেখানে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার এবং বিভিন্ন মিলিশিয়ার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির মৃত্যু দেশটির এই অস্থিতিশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অভিযান, ইরানের পাল্টা কৌশল পানির নিচ থেকে

  বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হরমুজ প্রণালিকে পুনরায় সচল রাখতে সমুদ্রপৃষ্ঠে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে পানির নিচে নীরব কিন্তু কৌশলগত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ইরান—এমনটাই বলছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ-১০ অ্যাটাক এয়ারক্রাফট এবং অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় উড়ে ইরানের দ্রুতগামী স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় মিসাইল ঘাঁটি ধ্বংসের লক্ষ্যেও পরিচালিত হচ্ছে সমন্বিত আক্রমণ। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি উন্মুক্ত রাখা। তবে সামরিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, দৃশ্যমান হুমকির বাইরেও বড় চ্যালেঞ্জ লুকিয়ে রয়েছে পানির নিচে। ইরানের ক্ষুদ্রাকৃতির ‘গাদির-ক্লাস’ সাবমেরিন বহর অগভীর ও ঘোলা পানিতে কার্যত অদৃশ্য থেকে অপারেশন পরিচালনা করতে সক্ষম। প্রায় ১২০ টন ওজনের এই সাবমেরিনগুলো সংকীর্ণ প্রণালিতে শনাক্তকরণ এড়িয়ে চলতে পারে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিপিং চ্যানেলগুলোতে টর্পেডো হামলা কিংবা মাইন স্থাপনে ব্যবহৃত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রণালির ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য—অগভীর জল, উচ্চ শব্দদূষণ এবং ব্যস্ত জাহাজ চলাচল—যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সাবমেরিন শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ কার্যক্রমকে জটিল করে তুলছে। এমন পরিস্থিতিতে মাইন পেতে নৌ চলাচল ব্যাহত করা ইরানের একটি সম্ভাব্য কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। এদিকে, ইরানের সামরিক সক্ষমতায় যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের সাবমেরিন ও বিশেষ অভিযান যান, যেমন সুইমার ডেলিভারি ভেহিকল, যা গোপন মাইন স্থাপন কিংবা বিশেষ অপারেশনে ব্যবহৃত হতে পারে। পাশাপাশি দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌযান ও ‘স্বর্ম ট্যাকটিকস’ ব্যবহারের মাধ্যমে সংকীর্ণ জলসীমায় প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার কৌশলও অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, উপকূলভিত্তিক এবং মোবাইল প্ল্যাটফর্মে স্থাপিত জাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও জটিল ও বহুমাত্রিক করে তুলেছে। এসব অস্ত্রের মাধ্যমে প্রণালির বাইরে ওমান উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় আঘাত হানার সক্ষমতা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত, সরাসরি সংঘর্ষের চেয়ে নৌ-মাইন ব্যবহারের মাধ্যমে শিপিং রুট অচল করে দেওয়া ইরানের কৌশলগত অগ্রাধিকার হতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের আওতায় গুরুতর নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টি করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে, যেখানে দৃশ্যমান শক্তির পাশাপাশি অদৃশ্য কৌশলগত সক্ষমতাই হয়ে উঠছে প্রধান নির্ধারক।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0

শর্তসাপেক্ষে ইরানের অনুমতিতে হরমুজ প্রণালী পারাপার সম্ভব

ইরানি হামলায় শতাধিক আহত, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ক্ষমতায় নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

হরমুজ খুলতে ইরানকে ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

৫ কারণে ইরান যুদ্ধ থামাতে কোনো তাড়া নেই চীনের

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–ইসরায়েল সংঘাত অবসানে বৈশ্বিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও, গণপ্রজাতন্ত্রী চীন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে অনাগ্রহী অবস্থান বজায় রেখেছে—যা আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে নতুন হিসাব-নিকাশের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আল-মনিটরে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বেইজিং বর্তমান সংঘাতকে কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এটি দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পদ মধ্যপ্রাচ্যে আবদ্ধ থাকবে—যা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব বিস্তারে পরোক্ষ সুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিলেও কার্যত নিরপেক্ষ কূটনৈতিক ভাষায় সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ অনুরোধেও দৃশ্যমান কোনো সক্রিয় মধ্যস্থতায় এগোয়নি। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস ও মজুদের ওপর নির্ভর করে বেইজিং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রেক্ষাপটে চীন একদিকে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে, অন্যদিকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের ‘দায়িত্বশীল শক্তি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার কৌশল অবলম্বন করছে। সার্বিকভাবে, চলমান সংঘাত চীনের জন্য তাৎক্ষণিক ঝুঁকির পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে—যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0

হামলার মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে ইরান

কিম জং উন ও কন্যা কিম জু এ -এর নতুন যুদ্ধ ট্যাঙ্কে সামরিক মহড়া পরিদর্শন

ইরান সংঘাতে শিশুসহ প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,১৮৬

ইরান যুদ্ধের বিপক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিন ভোটার

যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে ইরান–ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অনীহা প্রতিফলিত হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশই এই যুদ্ধে সরাসরি মার্কিন সম্পৃক্ততার বিরোধিতা করেছেন এবং মনে করছেন, সংঘাতটি কৌশলগতভাবে ইসরায়েলের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক। ‘ডেটা ফর প্রগ্রেস’ পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে আপত্তি জানিয়েছেন এবং কংগ্রেসের মাধ্যমে নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে মত দিয়েছেন। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জরিপ বিশ্লেষণে আরও উঠে আসে, চলমান সংঘাতের প্রভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ইসরায়েল-সমর্থন কমানোর প্রবণতা লক্ষণীয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই জনমত পরিবর্তন ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এবং চলমান সামরিক পরিস্থিতির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও এর প্রতিফলন পড়ছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0

ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রীকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

মধ্যপ্রাচ্য থেকে লোহিত সাগর ছেড়ে পালাচ্ছে মার্কিন রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড

আজ দুপুরেই শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেল মুসলিম দেশগুলোতে

0 Comments