বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তাকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আটক কর্মকর্তা হলেন মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম, তিনি বঙ্গভবনের রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে তাকে আটক করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হাদি হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে ঘিরে ‘লোকেশন বিভ্রান্তি’ সংক্রান্ত প্রশ্ন। ভারতে অবস্থান করেই দুবাইয়ে থাকার ভান করে ভিডিও তৈরি করা হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নে আদালত প্রাঙ্গণে নীরব থাকেন তিনি। রোববার (২২ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর আদালতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে হাজির করা হলে আদালত তাদের ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)-কে কারাগারে থেকেই জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি প্রদান করেন। আদালতে তোলার আগে নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্তদের শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, রিমান্ড চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদে সীমান্ত অতিক্রম, আত্মগোপনের স্থান এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ঘটনাটির সঙ্গে একটি বৃহৎ সংগঠিত নেটওয়ার্ক জড়িত থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করা হয়। আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখে ফয়সাল ও আলমগীর নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে উল্লেখ করেন। তবে পালিয়ে যাওয়ার কারণ কিংবা দুবাই-সংক্রান্ত ভিডিও তৈরির বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে ফয়সাল কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আদালত তাদের পুলিশ রিমান্ডে পাঠায়, যেখানে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও পলায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য উদঘাটনের দাবি করে তদন্তকারীরা। মামলার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণাকালে সশস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। পরবর্তীতে বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। বর্তমানে তদন্ত সংস্থা ঘটনাটিকে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে গভীর অনুসন্ধান চালাচ্ছে। কারা এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে এবং এতে আর কারা জড়িত—তা নিরূপণে আইনানুগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ টেলিভিশন এতো বড় একটি প্রতিষ্ঠান, যেই প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা একেবারেই নাই। আমার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ বিটিভিকে জনগণের আস্থাভাজন একটি সম্প্রচার মাধ্যমে হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। আপনারা দোয়া করবেন বিটিভিকে যেন জনগণের আস্থার জায়গায় নিয়ে আসতে পারি। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) নিজ নির্বাচনী এলাকা বরিশালের গৌরনদী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি আপ্রাণ চেষ্টা করছি এই মন্ত্রণালয়কে সময়োপযোগী হিসেবে দাঁড় করানোর জন্য। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের সকলকে সাথে নিয়ে মন্ত্রণালয়কে ঢেলে সাজানোর কাজে হাত দিয়েছি। তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা নির্বাচনী সময়ে ওয়াদা করেছিলাম গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করবো। সেই লক্ষ্যে সামনে রেখেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বিটিভি এবং বাংলাদেশ রেডিওকে কীভাবে সময়োপযোগী করা যায় এবং সরকারের লক্ষ্যের সঙ্গে মিলিয়ে কতটা স্বায়ত্তশাসন দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহিরের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইব্রাহীম, বরিশাল-১ আসনে বিএনপির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল জেলা কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা কামরুল ইসলাম খান, গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিক হাসান রাসেল, হাইওয়ে থানার ওসি মোঃ শামীম শেখ, বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিরুল ইসলাম খসরু, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সাবেক আহ্বায়ক আবুল হোসেন মিয়া, সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব সফিকুর রহমান শরীফ স্বপন সহ অন্যান্যরা। ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ইফতারের পূর্বে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জুলফিকার ও সদস্য বিএম বেলাল।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিভ্রান্তিকর আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি দেশ পরিচালনা করতে চায় না। জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিকভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। জুলাই সনদের প্রতিটি ধারা সাংবিধানিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, জুলাই যেমন আমাদের জীবনের বাঁক ঘুরিয়ে দিয়েছে। তেমনি ৫২,৭১, ৮২ থেকে ৯০, ২০০৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা খুন-গুম হয়েছেন, তাদের ত্যাগের স্বীকৃতির জন্য অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবে বিএনপি। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকালে ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলার কন্যাদহ গ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খননকৃত শিরিষকাঠ খাল পুনঃখননের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশের উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর চালু করেছিলেন উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দেশব্যাপী খাল খননের মাধ্যমে স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশকে অর্থনৈতিক মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন। এখন সুযোগ্য সন্তান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পিতার প্রবর্তিত খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর মাধ্যমে এ দেশে আবারও উন্নয়ন ও উৎপাদনের ধারা সূচনা করেছেন। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসউদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে, ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোঃ আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ আবু তালিব, ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, বিএনপি নেতা রাশেদ খান, মেহেদী হাসান রনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ভোটের কালি শুকানোর আগেই বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডন থেকে ফিরে বলেছিলেন, আই হ্যাভ এ প্ল্যান। তিনি একে একে তার প্ল্যানগুলো সাধারণ মানুষের কল্যাণে বাস্তবায়ন করে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দশ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হওয়ায় ফ্যাসিস্ট ও নিন্দুকেরা লা জবাব হয়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এমপি হয়েছেন জনসেবার জন্য, নিজের সেবার জন্য নয়। আর এই কারণেই কোনো মন্ত্রী ও এমপি ঢাকায় ফ্ল্যাট নিচ্ছেন না। তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) এই পরিবর্তনের অঙ্গীকার মানুষের মাঝে এক আশার আলো সঞ্চার করেছে। জনআকাঙ্খার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেই কথার ফুলঝুড়ি নয়, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে দেখিয়ে দিয়েছে। বাংলার রাখাল রাজা তারেক রহমান ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করেছেন। সারা বাংলাদেশের ৪ কোটি পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে। সারা দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের টার্গেট নেওয়া হয়েছে। খাল গুলো সতেজ ও কৃষি নির্ভর করে তুলতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আর এগুলোই হচ্ছে তারেক রহমানের আই হ্যাভ এ প্লেনের অংশ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আইনমন্ত্রী নিজ হাতে কোদাল ধরে মাটি কেটে শিরিষকাঠ খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন। এসময় দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। পরে ঝিনাইদহ-২ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য মসিউর রহমানের মাজার জিয়ারত করেন আইনমন্ত্রী।