নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের ঘটনা ঘটে। এতে ১৪ বছর বয়সী মুস্তাকিম মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। মুস্তাকিম ওই এলাকার সৌদি প্রবাসি মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্যের লড়াইয়ে একজন সাবেক ইউপি সদস্যের ভাতিজা গুলিবর্ষণ করেন। এ সময় মুস্তাকিম ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে তাকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, সেনা ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।
নিহতের মা শাহানা বেগম বলেন, “আমরা নিরপেক্ষ, কোন দলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। আমার ছেলেকে হত্যা করার যারা জড়িত, তাদের বিচার চাই।”
কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলায় হাঁস চুরির অভিযোগে সাইদুল ইসলাম সাইদ (২৩) নামে এক যুবককে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনায় জড়িত দুজনকে আটক করেছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মালিগাঁও গ্রামে হাঁস চুরির অভিযোগে সাইদকে আটক করে স্থানীয়রা মারধর করে। তিনি অচেতন হয়ে পড়লে রাত ১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি এম আবদুল হালিম জানিয়েছেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যার ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং তদন্ত চলছে।
রাজধানীর একটি আদালত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথিসহ চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামি হলেন বাসার আরও দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগম। এর আগে, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির পরিবার থানায় মামলা দায়ের করলে এ গ্রেফতারি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অভিযানে চাঁদাবাজ চক্রের এক সক্রিয় সদস্য মোঃ মামুন শেখ ওরফে জঙ্গী মামুন (২৫) গ্রেফতার হয়েছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. মতলুবর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৫ জানুয়ারি নীলফামারী সদর থানাধীন বড় মাঠ এলাকায় অভিযুক্ত ও তার চক্রের সদস্যরা তাপস রায় ও তার স্ত্রীকে আটক করে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় তাপস রায়কে মারধর করা হয় এবং ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ তৎপর হয় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে চড়াইখোলা বটতলী বাজারের কবরস্থান এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, তার চক্র দীর্ঘদিন ধরে নীলফামারী বড় মাঠ এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল। ওসি মো. মতলুবর রহমান জানান, চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে। গ্রেফতারকৃত মামুনের বিরুদ্ধে নীলফামারী সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।