নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের ঘটনা ঘটে। এতে ১৪ বছর বয়সী মুস্তাকিম মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। মুস্তাকিম ওই এলাকার সৌদি প্রবাসি মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্যের লড়াইয়ে একজন সাবেক ইউপি সদস্যের ভাতিজা গুলিবর্ষণ করেন। এ সময় মুস্তাকিম ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে তাকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, সেনা ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।
নিহতের মা শাহানা বেগম বলেন, “আমরা নিরপেক্ষ, কোন দলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। আমার ছেলেকে হত্যা করার যারা জড়িত, তাদের বিচার চাই।”
জামালপুরের ইসলামপুরে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ রাসেল মিয়া (২২) নামে এক মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রবিবার (২২ মার্চ) দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নের বোলাকীপাড়া গ্রামের ছত্তরহাজির মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে স্থানীয় যুবসমাজ। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত ১০টার দিকে রাসেল মিয়া মাদক বিক্রির চেষ্টা করলে যুবকেরা তাকে হাতেনাতে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৮টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে স্থানীয় বাজারে একটি দোকানে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে এসে তাকে থানায় নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইসলামপুর থানার উপপরিদর্শক তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। গোয়ালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাদশা বলেন, এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে স্থানীয়রা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইসলামপুর থানার ওসি মো. আব্দুল কাইয়ুম গাজী জানান, আটক ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে অসহায়দের জন্য বরাদ্দ ঈদুল ফিতরের ভিজিএফের ১২ বস্তা চাল একটি হোটেল থেকে উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ফুলহাতা বাজারের একটি ভাতের হোটেলে এসব চাল পাওয়া যায়। হোটেল মালিক মিন্টু জোমাদ্দার দাবি করেন, বহরবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ হাওলাদার বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে এসব চাল তার হোটেলে রেখে যান। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, চালগুলো বিক্রি করা হয়েছে। ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাজিব মজুমদার জানান, পবিত্র ঈদ উপলক্ষ্যে বহরবুনিয়া ইউনিয়নে ১ হাজার ৯০ জন সুবিধাভোগীর মাঝে ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ কার্যক্রমে ট্যাগ অফিসারের প্রতিনিধি হিসেবে ফুলহাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফজলুল হকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে বহরবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ হোসেন হাওলাদার বলেন, “চাল বিতরণের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। হোটেলে থাকা চালের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একটি মহল আমাকে জড়ানোর চেষ্টা করছে।” এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে অপহৃত ৬ জেলেকে উদ্ধার করেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ ) ভোরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিসিজিএস তৌফিক এর নির্বাহী কর্মকর্তা, লেঃ আশিকুল ইসলাম ইমন প্রেস ব্রিফিং এ জানান, গত ৭ মার্চ সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গেলে ‘নানা ভাই বাহিনী’ নামে একটি বনদস্যু দলের সদস্যরা ৬ জেলেকে অপহরণ করে। পরে তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় অপহৃত জেলেদের একজনের স্বজন কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-তে অভিযোগ জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে কোস্ট গার্ড। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের শিবসা নদী সংলগ্ন কালির খাল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে দস্যুদের কাছ থেকে জিম্মি থাকা ৬ জেলেকে উদ্ধার করা হয়। তবে কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা জিম্মিদের ফেলে বনের ভেতরে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন— রফিকুল, আলামিন ও ইসমাইল শানা (খুলনার কয়রা থানার বাসিন্দা) এবং রমজান আলী, রেজওয়ান ও মিয়া রাজ (সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা)। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।