সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম-খুন মামলায় মুখ খুললেন, দাবি—ডিজিএফআই ২০০৭-২০০৯ সালে বেসামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের তুলে এনে নির্যাতন করত।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারিক প্যানেলের সামনে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ওই সময় ডিজিএফআই কার্যত ‘মুখ্য নিয়ন্ত্রক’ হিসেবে কাজ করত এবং যেকোনো ব্যক্তিকে ইচ্ছামতো আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো। তিনি জানান, মন্ত্রী ও এমপিদের নির্দেশে অনেক রাজনৈতিক নেতাকেও তুলে এনে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল।
সাবেক সেনাপ্রধান অপারেশন ক্লিন হার্টের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন, ২০০৩ সালে অভিযানে অন্তত ১২ জন সরকারি হিসেবে ‘হার্ট অ্যাটাকে’ মারা গেছেন, তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে মৃত্যুর সংখ্যা ৬০-এর কাছাকাছি। অভিযানে জড়িতদের পরবর্তীতে দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা কার্যত ‘লাইসেন্স টু কিল’ হিসেবে বিবেচিত।
এদিন মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও শাইখ মাহদী। আসামিপক্ষে ছিলেন নাজনীন নাহার ও মুনসুরুল হক চৌধুরী।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়; ৮ ফেব্রুয়ারি তার প্রথম সাক্ষী হিসেবে ইকবাল করিম ভূঁইয়ার জবানবন্দি নেওয়া শুরু হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশগামী জ্বালানি চালানের নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকিপূর্ণ পথ অতিক্রমের সময় জাহাজগুলো যাতে নিরাপদে ঢাকাগামী হতে পারে, সেজন্য বাংলাদেশ ইরানের কাছে কূটনৈতিক সহায়তার জন্য অনুরোধ পাঠিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে তেহরান বাংলাদেশের জ্বালানি চালানের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে একটি অফিসিয়াল চিঠি প্রেরণ করে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৫ মার্চ) ঢাকার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশগামী ছয়টি জাহাজের বিস্তারিত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রায় ৫ লাখ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং ৭৯ হাজার টন অপরিশোধিত তেল। তথ্যাবলিতে জাহাজগুলোর লোডিং তারিখ, কার্গো ধারণক্ষমতা, লোডিং বন্দর ও উৎস, এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) শনাক্তকরণ নম্বর উল্লেখ রয়েছে। এই ছয়টি জাহাজের মধ্যে পাঁচটি কাতার থেকে এলএনজি এবং একটি সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করবে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে এসব জাহাজকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে হবে। চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও অস্থিরতার কারণে রুটটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্যতম বিঘ্ন হলেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকায় তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় জরুরি বলে মনে করছে ঢাকা।
নভীন ফ্যাশন বুধবার তাদের ফেসবুক পেজে ঘোষণা দিয়েছে, মগবাজার শাখা ব্যতীত দেশের অন্যান্য সব শাখা ১৫ দিনব্যাপী ঈদ উৎসবের আয়োজন চলবে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে। এ সময় ক্রেতাদের জন্য থাকবে নানা আকর্ষণীয় ছাড় ও বিশেষ আয়োজন। নবীন ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চীনের সঙ্গে সংযোগ রেখে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে উৎসবকালীন অফার ও শুভেচ্ছা জানাবেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে এনামুল হাসান নবীন তার ফেসবুক আইডিতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি স্ট্যাটাস প্রদান করেছিলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলার রায়দানকারী বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনা মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিলের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, ১৮ মার্চ অজ্ঞাত হ্যাকাররা বিচারপতির ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এই ঘটনায় ভুয়া তথ্য প্রচার বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অপরাধ প্রতিরোধে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে অবহিত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অসাবধানতাবশত কোনো প্রতারণামূলক লিংকে ক্লিক বা অননুমোদিত অ্যাপ ইনস্টল করাই এই হ্যাকিংয়ের মূল কারণ। তবে মোবাইল ফোনটি নিরাপদ করা সম্ভব হলেও অ্যাকাউন্টগুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা এখনো সম্ভব হয়নি। ১৭ মার্চ থেকে ফোনে অস্বাভাবিক কার্যক্রম ধরা পড়েছিল; ২২ মার্চ প্রসিকিউটর ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের সহায়তায় সন্দেহজনক সফটওয়্যার দূর করা হয়েছে।