বাগেরহাটের ১, ২ ও ৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) কচুয়া উপজেলায় একটি বড় জনসভা অনুষ্ঠিত করেছেন। জনসভা কেন্দ্র করে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ জনসভায় অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে এম এ এইচ সেলিম বলেন, কচুয়া তার নিজ এলাকা, যেখানে তিনি সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামোর উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে কচুয়া ও পুরো বাগেরহাটকে পরিকল্পিত ও আধুনিক জেলার মর্যাদা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, রাজনীতিতে তার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই; তার একমাত্র লক্ষ্য হলো এলাকার মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়ন।
এছাড়া এম এ এইচ সেলিম স্থানীয় সমস্যা সমাধান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণ সমাজের উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও করেন। জনসভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, এম এ এইচ সেলিম একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা, যিনি অতীতেও এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলেন। তারা সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান, আসন্ন নির্বাচনে তাকে বিজয়ী করতে সবাই একত্রিতভাবে কাজ করবেন।
জনসভায় কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, কৃষক, যুবসমাজ এবং সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভার উত্তেজনা এবং উৎসবমুখর পরিবেশ থেকে দেখা যায়, ভোটারদের মধ্যে প্রার্থী ও তার উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা নিয়ে আস্থা এবং উদ্দীপনা ব্যাপক।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তাদের হাতে দেশ কখনোই নিরাপদ থাকতে পারে না। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবদারুতলা মাঠে ধানের শীষের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, একটি দল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনে সমস্যা সৃষ্টি করছে। একাত্তরে তারা দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং এখনও জনগণের কল্যাণে বিশ্বাসী নয়। তিনি বলেন, বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতারাও প্রকাশ্যে ওই দল সম্পর্কে নেতিবাচক বক্তব্য দিচ্ছেন, যা জনগণের কাছে তাদের চরিত্র স্পষ্ট করে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, অতীতে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এই দলটির সম্পৃক্ততার ইতিহাস রয়েছে। তাই ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। কোনোভাবেই নির্বাচন বানচালের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। বিএনপিই দেশের স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে সক্ষম দাবি করে তিনি কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ দলের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। পরে তিনি পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদের হাতে প্রতীক তুলে দেন। এরপর তিনি বোদা উপজেলায় আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন।
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার এর ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় একটি গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান সড়কগুলো ঘিরে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। মিছিলের নেতৃত্ব দেন সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার। সঙ্গে ছিলেন সদ্য সমর্থন দেওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মামুনুর রশীদ মামুন ও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘উন্নয়নের মার্কা, ধানের শীষ মার্কা’, ‘তারেক রহমান বলেছেন, কিশোরগঞ্জ সৈয়দপুরের উন্নয়ন’ সহ নানা শ্লোগান দেন। মিছিল শেষে কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়াম মাঠে সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মামুনুর রশীদ, বিএনপিতে সদ্য যোগদান করা সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সাবেক জাতীয় পার্টি সভাপতি জয়নাল আবেদিন, জেলা যুব সংহতি সভাপতি রওশন মাহানাবা, জমিয়তে ইসলামীর জেলা সভাপতি হাফেজ ইসমাইল রীয়াজি, সাবেক ছাত্রনেতা শওকত চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম তাজুল ইসলাম ডালিম প্রমুখ।
নীলফামারীতে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া এক ইউপি সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জেলা বিএনপি। দলটি অভিযোগ করেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা চলছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির নেতারা ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুরুজ আলীর ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক ও সদস্য সচিব এএইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল। এসময় জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি নুর আলম এবং জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মগনি মাসুদুল আলম দুলালসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জানান, ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সকল সদস্য বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই ইউপি সদস্য সুরুজ আলী হেনস্তার শিকার হন। সর্বশেষ শনিবার রাতে তার ওপর হামলা চালানো হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন। সদস্য সচিব এএইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব সহিংসতা ঘটানো হচ্ছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু হামলা ও শারীরিক আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। জেলা বিএনপি নেতারা বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে।