ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের গুরুত্বপূর্ণ শহর সৈয়দপুরে জাতীয় পার্টির উদ্যোগে এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাণিজ্যিক ও বাঙালি-বিহারী অধ্যুষিত এই শহরের সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। সভায় আরও বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ উপজেলার দুই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, ৯ জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সৈয়দপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন, জাতীয় পার্টির নেতা মিঠু, সুজন মাস্টার, আব্দুর রশীদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

জাতীয় পার্টির সৈয়দপুর পৌর কমিটির সভাপতি আব্দুস শহীদ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে একটি বিশাল মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
জনসভায় বক্তব্যে প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম বলেন, “ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এসব অপপ্রচারে কান না দিয়ে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দিয়ে প্রকৃত উন্নয়নের পক্ষে থাকুন।” তিনি বলেন, সৈয়দপুরে রেলওয়ের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেবেন, যাতে স্থানীয় মানুষ বৈধভাবে বন্দোবস্ত পেতে পারেন।

তিনি আরও জানান, পিছিয়ে পড়া কিশোরগঞ্জ উপজেলায় হিমাগার নির্মাণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন করে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগানে মাঠ মুখরিত করে তোলেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তাদের হাতে দেশ কখনোই নিরাপদ থাকতে পারে না। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবদারুতলা মাঠে ধানের শীষের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, একটি দল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনে সমস্যা সৃষ্টি করছে। একাত্তরে তারা দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং এখনও জনগণের কল্যাণে বিশ্বাসী নয়। তিনি বলেন, বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতারাও প্রকাশ্যে ওই দল সম্পর্কে নেতিবাচক বক্তব্য দিচ্ছেন, যা জনগণের কাছে তাদের চরিত্র স্পষ্ট করে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, অতীতে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এই দলটির সম্পৃক্ততার ইতিহাস রয়েছে। তাই ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। কোনোভাবেই নির্বাচন বানচালের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। বিএনপিই দেশের স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে সক্ষম দাবি করে তিনি কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ দলের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। পরে তিনি পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদের হাতে প্রতীক তুলে দেন। এরপর তিনি বোদা উপজেলায় আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন।
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার এর ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় একটি গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান সড়কগুলো ঘিরে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। মিছিলের নেতৃত্ব দেন সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার। সঙ্গে ছিলেন সদ্য সমর্থন দেওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মামুনুর রশীদ মামুন ও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘উন্নয়নের মার্কা, ধানের শীষ মার্কা’, ‘তারেক রহমান বলেছেন, কিশোরগঞ্জ সৈয়দপুরের উন্নয়ন’ সহ নানা শ্লোগান দেন। মিছিল শেষে কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়াম মাঠে সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মামুনুর রশীদ, বিএনপিতে সদ্য যোগদান করা সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সাবেক জাতীয় পার্টি সভাপতি জয়নাল আবেদিন, জেলা যুব সংহতি সভাপতি রওশন মাহানাবা, জমিয়তে ইসলামীর জেলা সভাপতি হাফেজ ইসমাইল রীয়াজি, সাবেক ছাত্রনেতা শওকত চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম তাজুল ইসলাম ডালিম প্রমুখ।
নীলফামারীতে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া এক ইউপি সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জেলা বিএনপি। দলটি অভিযোগ করেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা চলছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির নেতারা ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুরুজ আলীর ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক ও সদস্য সচিব এএইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল। এসময় জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি নুর আলম এবং জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মগনি মাসুদুল আলম দুলালসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জানান, ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সকল সদস্য বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই ইউপি সদস্য সুরুজ আলী হেনস্তার শিকার হন। সর্বশেষ শনিবার রাতে তার ওপর হামলা চালানো হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন। সদস্য সচিব এএইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব সহিংসতা ঘটানো হচ্ছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু হামলা ও শারীরিক আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। জেলা বিএনপি নেতারা বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে।