ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাগেরহাট জেলায় ৪৯৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সারাজেলা জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছে। বিশেষ করে উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী এলাকায় কোস্টগার্ডের টহল বাড়ানো হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানিয়েছে, ৪০৯টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বাগেরহাট জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ১৩ লাখ ৬১ হাজার ১১২। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ লাখ ৮২ হাজার ৭৩৯, নারী ভোটার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৯ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৪ জন।
প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং কর্মকর্তারা ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে নিজ নিজ কেন্দ্রে পৌঁছে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভোটারদের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনে অবৈধ জলদস্যু “নানা ভাই” বাহিনীর নাশকতায় স্থানীয় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৮ মার্চ বিকেলে কালাগাছিয়া অফিস সংলগ্ন বাদুরঝুলি খাল থেকে মাছ ধরার সময় অস্ত্রধারী দস্যুরা শফিকুল ইসলাম লালু (৫০) নামে এক জেলেকে অপহরণ করেছে। তার পরিবার দাবি করছে, জলদস্যুরা মুক্তিপণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করেছে এবং সময়মতো অর্থ না দেওয়া হলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সুন্দরবনের খাল ও উপকূলীয় জলসীমায় মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যাওয়া জেলেরা এখন দস্যুদের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বনবিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা অব্যাহত রাখলেও এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে রবিবার দিনভর অভিযান চালানো হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত দস্যুদের গ্রেপ্তার এবং জেলেকে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য তৎপরতার দাবি করেছে। সংক্ষেপে, সুন্দরবনে জলদস্যু কর্মকাণ্ড নতুন মাত্রা নিয়ে এসেছে, যা উপকূলীয় জনপদে জনসাধারণের নিরাপত্তা এবং জীবিকার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।
নীলফামারীতে ভূমি দখল, মাদক ব্যবসা ও বালু মহলকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন স্থানীয়রা। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে সদর উপজেলার কচুকাটা, তিন থানার মোড়সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার নারী-পুরুষ অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, ভুয়া লিজের কাগজ দেখিয়ে সরকারি জমি দখল, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং মাদক ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে সরকারি সম্পদের ক্ষতি ও সামাজিক পরিবেশের অবনতি ঘটছে। বিক্ষোভকারীরা আনিছুর রহমান ও সুদী ব্যবসায়ী মুন্নুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, দখলকৃত জমি উদ্ধার এবং অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয়রা।
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর মো. সোহেল রানা (২৪) নামে এক ইটভাটা শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৯ মার্চ) সকালে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের পূর্ব রাজুরগাঁও গ্রামের রাজী সাহেব ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের অফিস সংলগ্ন ডোবা থেকে ভাসমান অবস্থায় তার দেহ পাওয়া যায়। নিহত সোহেল রানা হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের উত্তর শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে।