ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজ খানম আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের ফলাফলের কপি হস্তান্তর করেন।
বিজয়ী প্রার্থীরা সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজির বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার জনগণ ভোটের মাধ্যমে রায় দিয়েছেন।
সাতক্ষীরা-১ (তালা–কলারোয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জতউল্লাহ বলেন, জেলার মানুষকে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা থেকে রক্ষা করতে তারা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবেন।
সাতক্ষীরা-২ (সদর–দেবহাটা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুন্দর সাতক্ষীরা গড়তে কাজ করবেন।
সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ–আশাশুনি) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রবিউল বাসার দুর্নীতিমুক্ত জেলা গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় শ্যামনগরের উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।
এ সময় জেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, ভোটদাতা–অভোটদাতা নির্বিশেষে জেলার সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ইসলামী ছাত্রশিবির–এর নেতাকর্মীরা।
মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে অভিযোগ করেছেন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)-এর স্ত্রীদের জানাজায় প্রবেশের সময় তাকে পেছন থেকে ‘জঙ্গি এমপি’ সম্বোধন করা হয়। তিনি এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত দাবি করেন। সংসদে উত্থাপিত জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের পর হানজালা বলেন, “সম্ভবত আমার পোশাক ও পাগড়ি দেখেই আমাকে এভাবে সম্বোধন করা হয়েছে। এটি সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে।” তিনি স্পিকারের কাছে সিসি ফুটেজ যাচাই করে নিরাপত্তা বাহিনীকে দোষীদের শনাক্তের নির্দেশের অনুরোধ জানান। ঘটনার প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে স্পিকার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নোটিশ দেওয়ার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকাল ৫টায় উপজেলার ফয়লাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ আয়োজন করা হয়। প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও ছাত্রশিবিরের ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সম্মানে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে ছাত্রশিবির রামপাল পশ্চিম শাখা। অনুষ্ঠানে শাখা সেক্রেটারি মো. মুরছালিন শেখের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন শাখা সভাপতি শাকিল আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বাগেরহাট জেলা নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল ওয়াদুদ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সেক্রেটারি মো. জিহাদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি হাফেজ মোরশেদ আলম, এইচআরডি সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সিনান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বাগেরহাট জেলা সিনিয়র আহ্বায়ক খালিদ হাসান নোমান, মীর সাব্বির এবং ছাত্রদলের রামপাল উপজেলা সাবেক আহ্বায়ক মোল্লা তারিকুল ইসলাম শোভনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মী, সুধীজন এবং স্থানীয় এলাকাবাসী। অনুষ্ঠানে বক্তারা পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইফতার মাহফিলে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সম্প্রতি যুবকদের উদ্দেশে পরামর্শ দিয়েছেন, তারা যেন নিজের থেকে বেশি শিক্ষিত মেয়েকে বিয়ে করেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেওয়া তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সংসদ সদস্য হাসনাত জানান, বিয়ের সময় মেয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “বিয়ে করলে স্ত্রী যেন স্বাবলম্বী হয়, নিজের ও সন্তানের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। তাই নিজের থেকে কম শিক্ষিত মেয়েকে বিয়ে করার পরামর্শ কখনো গ্রহণ করব না।” তিনি আরও বলেন, দেবিদ্বারের নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করাই তাদের পরিবার ও সমাজ উন্নয়নের লক্ষ্য। এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যম ও স্থানীয় যুব সমাজে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।