দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু এমপি বলেছেন, বিএনপি জনবান্ধব রাজনৈতিক দল হওয়াসহ জনবান্ধব সরকারও। সরকার জনগণের দাবী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত বাস্তবায়ন করবে। প্রধানমন্ত্রী রংপুরে এসে শিল্প ও কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা দিয়েছেন। রংপুর অঞ্চলের খাদ্য উৎপাদন, সস্তা শ্রম ও আইন-শৃঙ্খলার অবস্থার কারণে অন্যান্য অঞ্চলের সমতুল্য উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
তিস্তা নদী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি তিস্তাপাড়ের সন্তান। দুই কোটি মানুষের আশা পূরণের লক্ষ্যে তিস্তা নদীর শাসন, খনন এবং স্থানীয় মানুষের দাবি বাস্তবায়নের জন্য সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। বিগত সরকার অর্ধেক প্রকল্প হাতে নিয়েছিল, আমরা তা প্রতিরোধ ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান করব।”
মন্ত্রী আরও বলেন, রমজানকে সামনে রেখে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়ন ও মাদক নির্মূলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য বিভাগের চলমান প্রকল্প রংপুরে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গণঅভ্যূত্থানে নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবার মামলা করতে পারবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “যে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখে। অন্যায় হলে কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে পারে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
সোনালি আঁশখ্যাত পাটশিল্পকে পুনরায় ঘুরে দাঁড় করাতে সরকার বহুমাত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এক সময়ের সমৃদ্ধ পাটশিল্প বর্তমানে কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা হারালেও তা পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া টেক্সটাইল ও জুট মিল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং টেন্ডার মূল্যায়ন কার্যক্রম চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে মিলটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে। তিনি আরও বলেন, শিল্প খাত পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে গতি ফেরানোই সরকারের মূল লক্ষ্য। দীর্ঘ সময় ধরে শিল্প খাতে স্থবিরতা ছিল বলে মন্তব্য করে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার তা কাটিয়ে উঠতে কাজ করছে। পাট ও বস্ত্র খাতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্ধ মিলগুলোতে বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। এ সময় নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাইদুল ইসলাম, নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল লতিফসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ইলিশের বাজারে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ক্রেতারা কিনতে পারছেন না, ফলে ঐতিহ্যবাহী এই মাছ অনেকের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে মাছের বাজার ও পৌর মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি ইলিশ সাজানো থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম। বিক্রেতারা জানান, দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই ইলিশ কেনা থেকে বিরত থাকছেন। বর্তমানে ১.২ থেকে ১.৫ কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৩১০০ থেকে ৩৫০০ টাকা, এক কেজির ইলিশ ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা এবং ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২২০০ থেকে ২৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট ইলিশের দামও ১৮০০ টাকার নিচে নয়। মাত্র এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদীতে মাছ ধরা কমে যাওয়া ও সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বেড়েছে। পাশাপাশি বৈশাখকে ঘিরে চাহিদা বাড়ার আশঙ্কাও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। ক্রেতারা বলছেন, ইলিশ ছাড়া বৈশাখ কল্পনা করা যায় না, তবে বর্তমান দামে কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বিক্রেতারাও কম বিক্রির কারণে লোকসানের আশঙ্কা করছেন। সব মিলিয়ে বৈশাখের আগে ইলিশের এমন চড়া দাম ও ক্রেতা সংকট বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ ও জনসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর স্থানীয় শাখা। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে শহরের দক্ষিণ বাজার এলাকা থেকে কর্মসূচি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গড়কান্দা চৌরাস্তা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের শেরপুর জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি মু. গোলাম কিবরিয়া। এছাড়া উপজেলা আমীর মাওলানা আফছার উদ্দিন, সেক্রেটারি আরিফ রাব্বানী, পৌর শাখার সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন ও সেক্রেটারি আব্দুল মোমেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ইসলামী ছাত্রশিবির ও শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। বক্তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি ও সমর্থন আদায়ের আহ্বান জানান।