দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় আসন্ন ঈদুল ফিতরের জন্য যাত্রী পরিবহনের সুবিধা নিশ্চিত করতে ১০৬টি কোচ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে কারখানার স্বাভাবিক কাজের পাশাপাশি এই মেরামতের কাজ চলছে, যা ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাত্রা নিশ্চিত করবে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ২৯টি শপে শুরু হওয়া মেরামতের মধ্যে ৬০টি ব্রডগেজ (বড় লাইন) ও ৪৬টি মিটার গেজ (ছোট লাইন) কোচ রয়েছে। মাত্র ৩৯ কর্মদিবস হাতে নিয়ে কাজ শুরু করা হলেও, কর্মকর্তারা আশা করছেন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও বেশি কোচ মেরামত হতে পারে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, মেরামত করা কোচগুলো ১৪ মার্চের মধ্যে ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ বলেন, “প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক কোচ মেরামত করা হয়। এসব কোচ পশ্চিমাঞ্চল ও আন্তঃনগর রুটে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার হয়, যাতে যাত্রীরা নিরাপদে পরিবারে পৌঁছাতে পারেন।” এছাড়া চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর দ্বিতীয় রেলওয়ে কারখানাতেও ১০০টি মিটার গেজ কোচ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।
নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পৌর প্রশাসন জানায়, শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নিয়মিতভাবে ড্রেন, নালা-নর্দমা পরিষ্কার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মশার উপদ্রব কমাতে বিভিন্ন এলাকায় মশক নিধন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সৈয়দপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার তদারকিতে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগ। শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়েছে, ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হচ্ছে। পৌরসভার কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান প্রশাসকের নির্দেশনায় পূর্বের তুলনায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পৌর এলাকার সব ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, শহরকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। তিনি পৌরবাসীকে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার মাধ্যমে এ কার্যক্রমে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
দেশে হাম ও এর উপসর্গজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু হামে এবং ৬ জনের মৃত্যু উপসর্গে হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ১১ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১২ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ১৫১ শিশু এবং নিশ্চিত হামে ২৮ শিশু মারা গেছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৬৮ শিশু সন্দেহভাজন হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ১৫০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৬৩৯ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। সন্দেহভাজন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২২৫ জনে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৭ হাজার ৬৫৬ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে বলে জানানো হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে।
সিলেটের বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.৩। ইউরোপিয়ান মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২১ মিনিটে ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচর এলাকায় ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। কেন্দ্রস্থল শিলচর হওয়ায় এর প্রভাব সিলেটসহ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অনুভূত হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে হঠাৎ কম্পনে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে চলতি মাসের ৭ তারিখেও একই অঞ্চলে ৪.৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। গত কয়েক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘনঘন ভূকম্পন অনুভূত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক এসব ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ভূতাত্ত্বিক সক্রিয়তার বিষয়টি নজরদারিতে রাখার প্রয়োজন রয়েছে।