নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়াকে স্বপদে দায়িত্ব পালনের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহে থাকা স্থানীয় সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটকে এলাকার নাগরিক সমাজ, অভিভাবক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদল মিয়া ও তার সমর্থকরা মানববন্ধনে এসে বাধা দেন। এর আগে বিদ্যালয় মাঠে কর্মসূচি পালন করতে গেলে অংশগ্রহণকারীদের গালাগালি করে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় কয়েকজন নারী ও একজন পুরুষকে মারধরের অভিযোগও ওঠে।

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নূর শাখাওয়াত হোসেন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। তবে আদালতে এসব অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে স্বপদে বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরও তিনি নিজ কার্যালয়ে যোগদান করতে পারছেন না বলে দাবি করেন বক্তারা।
তাদের অভিযোগ, মানববন্ধন চলাকালে বাদল মিয়া ও তার সহযোগীরা ব্যানার ছিনিয়ে নেন এবং অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলা চালান। এ সময় আমজাদ হোসেনসহ আরও কয়েকজন মানববন্ধনকারীদের মারধর করেন। সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদেরও বাধা দেওয়া হয় এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তাহমিনা রেজা মৌসুমী বলেন, শিক্ষার্থীদের দিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিছিল-স্লোগান করিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী নুরজাহান খানম ইতি বলেন, আদালত অধ্যক্ষকে স্বপদে বহালের রায় দিয়েছেন। তার দায়িত্বকালে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের হার প্রায় ৯৯ শতাংশ ছিল, যা বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রায়পুরা থানার আমিরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সাংবাদিক নেতারা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় রায়পুরা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানিয়েছেন মানববন্ধনের আয়োজকরা। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান জানান, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় চারটি ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮ জন প্রার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। জাতীয় সংগীত শুদ্ধভাবে লিখতে না পারায় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তিরনইহাট, তেঁতুলিয়া, শালবাহান ও দেবনগর ইউনিয়নের পাঁচটি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ৩৮ জন আবেদন করেন। প্রথমে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়। পরে মেধা পরীক্ষার অংশ হিসেবে ১৫ মিনিট সময় দিয়ে জাতীয় সংগীত লিখতে বলা হয়। তবে কোনো প্রার্থীই সম্পূর্ণ ও শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত লিখতে সক্ষম হননি। ফলে কাউকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়নি। ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সাধারণ জ্ঞান থাকা আবশ্যক। অন্যদিকে, মেধার ভিত্তিতে পরীক্ষা নেওয়ায় নিয়োগ কমিটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অনেকে। নিয়োগ বাছাই কমিটিতে উপস্থিত ছিলেন তেঁতুলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস.এম. আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, “মেধা যাচাইয়ের সময় দেখা গেছে, কোনো প্রার্থী জাতীয় সংগীত সঠিকভাবে লিখতে পারেননি। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান ও দেশপ্রেমের মৌলিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।” উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরবর্তীতে পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় আসন্ন ঈদুল ফিতরের জন্য যাত্রী পরিবহনের সুবিধা নিশ্চিত করতে ১০৬টি কোচ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে কারখানার স্বাভাবিক কাজের পাশাপাশি এই মেরামতের কাজ চলছে, যা ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাত্রা নিশ্চিত করবে। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ২৯টি শপে শুরু হওয়া মেরামতের মধ্যে ৬০টি ব্রডগেজ (বড় লাইন) ও ৪৬টি মিটার গেজ (ছোট লাইন) কোচ রয়েছে। মাত্র ৩৯ কর্মদিবস হাতে নিয়ে কাজ শুরু করা হলেও, কর্মকর্তারা আশা করছেন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও বেশি কোচ মেরামত হতে পারে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, মেরামত করা কোচগুলো ১৪ মার্চের মধ্যে ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ বলেন, “প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক কোচ মেরামত করা হয়। এসব কোচ পশ্চিমাঞ্চল ও আন্তঃনগর রুটে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার হয়, যাতে যাত্রীরা নিরাপদে পরিবারে পৌঁছাতে পারেন।” এছাড়া চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর দ্বিতীয় রেলওয়ে কারখানাতেও ১০০টি মিটার গেজ কোচ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টা ৫১ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড থেকে ১০টা ৫৪ মিনিটের মধ্যে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে, যার উৎপত্তিস্থল ছিল প্রতিবেশী মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চল। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। ইউরোপীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা (ইএমএসসি) জানায়, বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ৫১ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের দিকে কম্পনটি আঘাত হানে এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০১ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থল সাগাইং অঞ্চলের মনিওয়া শহর থেকে প্রায় ১১২ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে অবস্থিত। কম্পনটি রাজধানীর বনশ্রী, সবুজবাগ, মগবাজার ও মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়। সিলেট থেকেও ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের বা স্থাপনা ক্ষতির সংবাদ মেলেনি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাপ্ত উপাত্ত অনুযায়ী কম্পনের মাত্রা ৫ দশমিক ১ ছিল। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি মিয়ানমারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের কিছু অংশেও অনুভূত হয়।