সাতক্ষীরা শহর সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার দুপুরে ভূমিকম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পনের উৎপত্তিস্থল জেলার আশাশুনি উপজেলায়। রিকটার স্কেলে যার মাত্রা ৫.৪ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে ভূমিকম্পনের মাঝারি মাত্রা থাকায় ঝাকুনিও ছিল প্রচণ্ড। কয়েক সেকেন্ডের এ ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে জেলার মানুষ।
সাতক্ষীরার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যাবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিক্কার আলী জানান, শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে ২৯ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিকটার স্কেলে যার মাত্রা ৫.৪। আর এর উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নে। যেটি খুলনার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ও সাতক্ষীরার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
সাতক্ষীরার কাটিয়া এলাকার গৃহবধূ রোকসানা আক্তার জানান, তিনি তখন ঘরের মধ্যে টুকটাক কাজ করছিলেন। হঠাৎ তার মনে হচ্ছিল, তিনি ডানদিকে একবার তারপর বাম দিকে ঢলে পড়ছেন। আতঙ্কিত হয়ে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। আশপাশের কিশোর-কিশোরীসহ সর্বস্তরের মানুষের চিৎকার শুনেছেন তিনি।
জেলার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রব পলাশ জানান, শুক্রবার ওভারব্রীজ জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়ার শেষ মুহূর্তে হঠাৎ কেঁপে ওঠে মসজিদের জানালা। তীব্র ঝাঁকুনিতে মুসল্লিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অনেকে মসজিদেও বাইরে বেরিয়ে যায়। তিনি নিজেও টলে পড়ে যাচ্ছিলেন।
শহরের কাটিয়া এলাকার বাসিন্দা জাহারুল ইসলাম টুটুল জানান, তিনি মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়ছিলেন। দোতলা মসজিদটি দোল খাওয়া শুরু করলে তারা মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসেন।
তবে এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা শ্মশান ঘাটের প্রাচীর, তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামের কয়েকটি কাঁচা ঘরবাড়ি, অর্ধ-শতাধিক বাড়ির দেয়ালে ফাটলসহ ছোট-ছোট ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওয়ারহাউজ ইনস্পেক্টর মো: নুরুল ইসলাম বলেন, এখনও পর্য়ন্ত জেলায় কোনো ফায়ার স্টেশনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ আসেনি। তবে কিছু স্থানে ভবনের ফাটলের খবর পেয়েছি। সেগুলি আমরা পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করব।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আক্তার জানান, ভূমিকম্পের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তিনি পাননি। তবে মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে বলে তিনি জানান।
ফকিরহাট উপজেলা-এ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দিনব্যাপী উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় ডাকবাংলো মোড় থেকে একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়ে উপজেলার প্রধান সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়। পরবর্তীতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বর্ষবরণ কর্মসূচির সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পীরা বাঙালির ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও লোকজ সংস্কৃতি উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি দড়ি টানাটানি প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন জনসাধারণের অংশগ্রহণে উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ উপলক্ষে শহীদ মিনার চত্বরে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলিসহ বিভিন্ন পণ্যের অস্থায়ী স্টল বসানো হয়, যা দর্শনার্থীদের আগ্রহ সৃষ্টি করে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এসব কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রোকনু জামান। এতে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে রংপুর জেলায় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বর্ণাঢ্য ও সুশৃঙ্খল কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে রংপুর জিলা স্কুল বটমূলে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ষবরণের সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম। এতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। পরে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী র্যালি নগরীর প্রধান সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে, যেখানে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় দেশীয় সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। সমাবেশে বক্তারা সামাজিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক চর্চা ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে তিন দিনব্যাপী উৎসবসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের পৃথক আয়োজনের মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপন অব্যাহত রয়েছে।
দেশে হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যাদের মধ্যে ১ জনের ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত এবং বাকি ৮ জন উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রকাশিত নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়, একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১০৫ জনের মধ্যে সন্দেহজনক হাম সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং ১৭৬ জনের ক্ষেত্রে রোগটি নিশ্চিত করা হয়েছে। ঢাকা বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, যেখানে উপসর্গজনিত মৃত্যু ও সংক্রমণ উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট ৩১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর সন্দেহজনক সংক্রমণে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে। একই সময়ে দেশে মোট ১৮ হাজার ১২৯ জনের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১ হাজার ৬৫২ জন, যাদের মধ্যে ৯ হাজার ৩০৪ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যাবশ্যক।