ফরিদপুরের নগরকান্দায় নানা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে উপজেলা প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নববর্ষের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় উপজেলা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উৎসবমুখর পরিবেশে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে দিনটি আনন্দ ও সম্প্রীতির মিলনমেলায় পরিণত হয়।
পঞ্চগড়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কৃষকদের মাঝে কৃষি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের বৈরাতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো পঞ্চগড়ের পাঁচপীর এলাকায় দুই হাজার এবং সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কমলাপুর ব্লকে প্রায় দেড় হাজার কৃষককে এই কার্ড দেওয়া হয়েছে। তবে কারা কারা কার্ড পেয়েছেন, তা তিনি নিজেও জানেন না—কারণ কৃষি মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের একাধিক স্তরে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ড বিতরণে কোনো দলীয় বা ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। যারা প্রকৃতপক্ষে যোগ্য, তারাই এই সুবিধা পাবেন। একইভাবে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তায়ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রকৃত উপকারভোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন। পরে প্রতিমন্ত্রী ১৫ জন কৃষক-কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড ও ফলজ গাছের চারা তুলে দেন। অন্যদিকে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ব্যারিস্টার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট মাঠে ধাক্কামারা ইউনিয়নের কমলাপুর ব্লকের ১,৫৯২ জন কৃষকের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওশাদ জমির। এ সময় সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য প্রণোদনা বিতরণের মাধ্যমে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম থেকে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। অনুষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, উদ্বোধনের মুহূর্তে ল্যাপটপে নির্দেশ প্রদান করা হলে টাঙ্গাইল সদরসহ দেশের ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের মোবাইল অ্যাকাউন্টে জনপ্রতি আড়াই হাজার টাকা করে প্রণোদনা পৌঁছে যায়। এটি সরকারের কৃষি সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত একটি আর্থিক হস্তান্তর প্রক্রিয়া। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৫ জন কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ ও গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। উপকারভোগীদের তালিকায় ছিলেন আবু কায়সার, রোমান, শাহনুর আলম, শাহ আলম, জুলেখা আখতার, নাসিমা খানম সুমনা, শিল্পী, আমেনা বেগম, নবাব আলী, মোহাম্মদ আলী, কবির হোসেন, মনোয়ারা আখতার, শামীমা আখতার, লায়লা বেগম ও তাহমিনা। এর আগে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন এবং উপস্থিত কৃষকদের অভিবাদন জানান। পরবর্তীতে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান কার্যক্রম শুরু হয়।
বাগেরহাটের ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের একটি কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে দ্রুত পদক্ষেপে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালের পুরাতন নথিপত্র সংরক্ষণাগারে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস জানায়, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন করে পুনরায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।