বিশ্ব

তিনটি কারণকে ঘিরে নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুঞ্জন

Icon
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশঃ মার্চ ১০, ২০২৬
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিহত বা আহত হয়েছেন—এমন দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত এর পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, সাম্প্রতিক ইরানি হামলার প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু আহত বা নিহত হয়ে থাকতে পারেন। তবে ওই দাবির পক্ষে তারা কোনো নির্দিষ্ট তথ্য, দলিল বা আনুষ্ঠানিক সূত্র উপস্থাপন করতে পারেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুর নতুন ভিডিও প্রকাশ না হওয়া, তার বাসভবনের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং কিছু কূটনৈতিক সফর স্থগিত হওয়াকে কেন্দ্র করে এ ধরনের জল্পনা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে সাধারণত ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)- ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগও সংস্থাটিকে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহু নিহত বা আহত হয়েছেন—এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তাদের মতে, যুদ্ধকালীন নিরাপত্তাজনিত কারণে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রকাশ্য উপস্থিতি অনেক সময় সীমিত রাখা হয়ে থাকে।
সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ৭ মার্চ নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে একটি সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এর আগের দিন, ৬ মার্চ, তাকে বিয়ারশেবার একটি এলাকা পরিদর্শনের সময়ও দেখা গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবকিছু বিবেচনায় এখন পর্যন্ত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিহত বা আহত হওয়ার দাবি কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হয়নি। 

ইরান বদলাল যুদ্ধ কৌশল, ছুড়ছে ১ হাজার কেজির মিসাইল

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ১১তম দিনে রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। গত রোববার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি জানিয়েছেন, এখন থেকে ইরান শুধু সেসব মিসাইল ব্যবহার করবে, যেগুলোর পেলোড বা গোলাবারুদ বহন ক্ষমতা ১ হাজার কেজি বা তার বেশি। এই ঘোষণা যুদ্ধের ময়দানে সংখ্যা কমানোর পরিবর্তে ‘বিধ্বংসী ক্ষমতা’ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন সামরিক পর্যবেক্ষকরা। যুদ্ধের শুরুতে ইরানের কৌশল ছিল শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের মতো সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করে শত্রুশিবিরের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখা। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ‘স্যাচুরেশন অ্যাটাক’ বা একসঙ্গে প্রচুর ড্রোন ও মিসাইল ছুড়ে ইসরায়েল ও আমেরিকার দামি ইন্টারসেপ্টর মিসাইল খরচ করিয়ে ফেলা। তবে এখন ইরান সরাসরি খোররামশাহর-৪ বা খাইবারের মতো ভারী ব্যালিস্টিক মিসাইলের ওপর জোর দিচ্ছে, যা ড্রোনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম। জেনারেল মুসাভি জানান, এই মিসাইলগুলো ম্যাক-৮-এর বেশি গতিতে চলতে পারে এবং এর গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা রয়েছে, যা ইসরায়েলের ‘অ্যারো-৩’-এর মতো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারবে। একটি এক টনের মিসাইল যদি লক্ষ্যভেদে সফল হয়, তবে তা একটি বিমানঘাঁটি বা ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টার অচল করে দেওয়ার মতো সক্ষমতা রাখে। লেবানিজ সংবাদমাধ্যম ‘আল মায়াদিন’-এর বরাতে জানা গেছে, দুবাই বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের রাস তানুরাজ তৈল শোধনাগারের মতো আঞ্চলিক অবকাঠামো এখন ইরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে। বর্তমানে ইরানের অস্ত্রাগারে ১ হাজার ৮০০ কেজি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম খোররামশাহর মিসাইল রয়েছে, যা ২ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এছাড়া সলিড ফুয়েলচালিত মাঝারি পাল্লার সেজিল মিসাইল এবং ৩ হাজার কিলোমিটার পাল্লার সুমার ক্রুজ মিসাইলও ইরানের হাতে রয়েছে। সুমার মিসাইল পারমাণবিক অস্ত্র বহনেও সক্ষম বলে ধারণা করা হয়। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক শানাকা আনসেলম পেরেরার মতে, ইরান এখন যুদ্ধের ‘ইন্টারসেপ্ট ম্যাথ’ বা গাণিতিক সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। আগে একটি ড্রোন ধ্বংস করতে ৪ মিলিয়ন ডলারের প্যাট্রিয়েট মিসাইল ব্যয় করাটা ছিল অর্থনৈতিক চাপ, কিন্তু এখন ভারী মিসাইল ঠেকাতে ইন্টারসেপ্টর মিসাইল মিস হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। এতে আকাশ প্রতিরক্ষাকারীদের দ্রুত ইন্টারসেপ্টর মজুত শূন্য হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমেরিকার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র জবাবে তেহরানের এই ‘হেভি পেলোড’ নীতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিখাদ খবর ডেস্ক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ

আজ ইরানের উপর সবচেয়ে তীব্রতম হামলা হবে: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

হাইপারসনিকসহ চার ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরানের নতুন দফায় হামলা, লক্ষ্য ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটি

নিজের প্রতি সতর্ক হোন, নয়তো নির্মূল হয়ে যাবেন: ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিলো ইরান

ডোনাল্ড ট্রাম্প
তেলের দাম বাড়লেও উদ্বেগের কারণ নেই, ‘আই হ্যাভ প্ল্যান ফর এভরিথিং’: ট্রাম্প

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কার্যকর পরিকল্পনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তেলের দাম কমবে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ সন্তুষ্ট হবে। সোমবার (৯ মার্চ) নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক উত্তেজনার দশম দিনে দেওয়া এ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় তার প্রশাসনের একটি সুস্পষ্ট কৌশল রয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে। এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের বিরুদ্ধে “২০ গুণ বেশি শক্তিতে” সামরিক প্রতিক্রিয়া জানানো হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক তেলের প্রবাহ ব্যাহত হলে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে এবং সহজে ধ্বংসযোগ্য কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং চলমান উত্তেজনা নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হতে পারে। দক্ষিণ ফ্লোরিডার ডোরাল এলাকায় নিজস্ব গলফ ক্লাবে হাউস রিপাবলিকান সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে এবং এ কারণে চীনসহ অন্যান্য দেশগুলোরও এটি ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

তিনটি কারণকে ঘিরে নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুঞ্জন

ইসমাইল বাঘাই

তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানে হামলা অস্বীকার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

বাহরাইনের মূল তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন হামলা

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলে আরও ১ প্রাণহানি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির মধ্যাঞ্চলের ইয়েহুদ এলাকায় আঘাত হানা ওই হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরানের এ পাল্টা হামলার ফলে ইসরাইলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে নিহত ও আহতদের পরিচয় বা তাদের অবস্থা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল। হামলার ঘটনাগুলোর বিষয়ে তদন্ত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

নিখাদ খবর ডেস্ক মার্চ ৯, ২০২৬ 0

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ধ্বংস’ হবে যদি তৃতীয় ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়!

তুরস্ক সাইপ্রাসে ৬ এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে

কাতার, বাহরাইন, সৌদি ও আমিরাতে ধারাবাহিক হামলা

0 Comments