বাংলাদেশ

তেঁতুলিয়ায় ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ ও প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের

Icon
আমির খসরু লাবলু
প্রকাশঃ মার্চ ১৪, ২০২৬

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু–এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ঘুষ দাবি ও প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম।

শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের কাজীগছ এলাকায় নিজ বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম দাবি করেন, রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা থাকলেও স্থানীয় সরকার বিভাগ এখনো তাকে বহিষ্কার করেনি। মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পুনরায় দায়িত্বে যোগ দিয়ে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ করছেন। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক বরাবর পাঠিয়ে অনুলিপি ইউএনওকেও দেওয়া হয়েছে। তবে ভিজিএফ কার্যক্রমে তার নাম থাকলেও টিসিবি কার্যক্রমের তালিকা প্রস্তুত ও মাইকিংয়ের ক্ষেত্রে তার নাম ব্যবহার না করতে ইউএনও নিষেধ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

চেয়ারম্যানের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পের বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দাবি করা হয়। তিনি দাবি করেন, তিরনইহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের সহযোগিতায় এবং উপজেলা পিআইও অফিসের কার্যসহকারী জহিরুলের মাধ্যমে এসব অর্থ নেওয়া হতো। উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড় পেতে প্রায় ১৫ শতাংশ ঘুষ দাবি করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তার দাবি, ইউনিয়নের একটি প্রকল্পে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে তিন লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। আবার শালবাহান হাটের প্রায় অর্ধকোটি টাকার বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ না দেওয়ায় সেই বরাদ্দ আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনার ভিডিও, অডিও রেকর্ড ও হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশটসহ বিভিন্ন প্রমাণ তার কাছে রয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান।

এছাড়া প্রশাসনের একপেশে আচরণের কারণে ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, চেয়ারম্যানের আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তিনি নিজেই কিছু ভিডিও তৈরি করেছেন। সেগুলোতে তার বা তার নামে কেউ টাকা নিয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই। বিষয়টি তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে পঞ্চগড় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সীমা শারমিন–এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

 

বাংলাদেশ

আরও দেখুন
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রথম মহিলা প্রশাসক কে এই বিলকিস?

ছাত্ররাজনীতি থেকে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপি নেত্রী ও আইনজীবী বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। শনিবার (১৪ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, যা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়–এর অধীন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ব্রজমোহন কলেজ–এ পড়াশোনার সময় ১৯৮৫ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–এ যোগ দেন। পরে ১৯৮৭ সালে বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক এবং ১৯৯০ সালে এজিএস নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে তিনি বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে তিনি ধাপে ধাপে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে বরিশাল জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দল–এর সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পাশাপাশি জেলা বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হন। একই বছর তিনি মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও মনোনীত হন। পরে মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা সংস্থা–এর চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া অষ্টম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রেও যুক্ত ছিলেন শিরিন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বরিশাল সিটি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রায় এক দশক অধ্যাপনা করেন। বর্তমানে তিনি পেশায় একজন আইনজীবী। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের প্রতি ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্বে তিনি নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

বরিশাল ব্যুরো> মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি

প্রতিবন্ধী ও ছিন্নমুলদের পাশে দাঁড়ালেন সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম স্বপ্না

তেঁতুলিয়ায় ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ ও প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের

ছবি: প্রতিনিধি

গারো পাহাড়ে পরিবেশ ধ্বংস করে সিসি ব্লক তৈরি

ছবি: প্রতিনিধি
এক টাকায় ঈদের নতুন জামা পেল সৈয়দপুরের শতাধিক সুবিধা বঞ্চিতশিশুরা

ঈদ মানেই নতুন জামা, আনন্দ আর হাসি। কিন্তু সমাজের অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর কাছে সেই আনন্দ অনেক সময়ই অধরা থেকে যায়। তবে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ব্যতিক্রমী এক মানবিক উদ্যোগে এবার ঈদের আগেই হাসি ফুটেছে শতাধিক শিশুর মুখে। শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকায় একটি স্কুলের পাশে সামিয়ানা টাঙিয়ে তৈরি করা হয় অস্থায়ী একটি দোকান। দোকানের সামনে বড় ব্যানারে লেখা ছিল— “এক টাকায় ঈদের নতুন জামা”। ব্যানারটি দেখেই আশপাশের পথশিশু ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ ও কৌতূহল। দোকানের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুদের হাতে ছিল একটি করে এক টাকার কয়েন বা নোট। তাদের প্রত্যেকেই মাত্র এক টাকার বিনিময়ে নিজের পছন্দের নতুন পোশাক—ফ্রক, পাঞ্জাবি, শার্ট বা প্যান্ট সংগ্রহ করে। নতুন জামা হাতে পেয়ে তাদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের ঝিলিক। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর। সংগঠনটির সদস্যরা নিজেদের অর্থায়নে গোলাহাট এলাকায় বসান এই ‘১ টাকার দোকান’। এখানে শিশুদের জন্য নতুন ডিজাইনের বিভিন্ন পোশাক সাজিয়ে রাখা হয়। শিশু রেহান (১০) জানায়, তাদের পরিবারে অনেক সময় ঈদের নতুন জামা কেনা সম্ভব হয় না। এক টাকায় নতুন জামা পেয়ে সে খুব খুশি। আর আকাশি (৮) হাসিমুখে বলে, “আমি নিজের পছন্দের একটা ফ্রক নিয়েছি। ঈদের দিন এটা পরবো।” শুধু শিশুদের পোশাকই নয়, এই দোকানে অসহায় মানুষের জন্য শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রি-পিসও রাখা হয়েছে। দরিদ্র মানুষরাও মাত্র এক টাকার বিনিময়ে এসব পোশাক সংগ্রহ করতে পারছেন। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা নওশাদ আনসারী বলেন, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদের আনন্দে শামিল করতেই এই আয়োজন। শুধু পোশাক নয়, পর্যায়ক্রমে অসহায় মানুষের মধ্যে সেমাই, চিনি ও দুধও বিতরণ করা হবে। তিনি জানান, এই কার্যক্রম ঈদের চাঁদ রাত পর্যন্ত চলবে। সংগঠনের সদস্য মিথুন, সামিউল, রাজা, রাব্বি ও রকিসহ অন্যরাও এই মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতা করছেন। তাদের মতে, সমাজের অনেক শিশুই বিভিন্ন উৎসবে বঞ্চিত থাকে—এই ছোট উদ্যোগ সেই বঞ্চনার হাসিমুখে কিছুটা আনন্দ ফিরিয়ে দিতে পারে।

সৈয়দপুর, নীলফামারী মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে র‍্যালি ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান

মুক্তি পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর

রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

পাটকেলঘাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত

সাতক্ষীরায় স্ত্রীর পাশ থেকে ছিটকে পড়ে চলন্ত ট্রাকের চাপায় মোস্তফা ফরহাদ হোসেন (৩০) নামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ৯টার দিকে কুমিরা–সাগরদাঁড়ি সড়কের কুমিরার রাড়িপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফরহাদ হোসেন সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া এলাকার ঠিকাদার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। জানা গেছে, তিনি স্ত্রীকে নিয়ে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে একটি ভ্যানে করে যাচ্ছিলেন। পথে হঠাৎ ভ্যান থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গেলে পিছন দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে এইচ এম লুৎফুল কবির জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। রাত হওয়ায় দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরা মার্চ ১৪, ২০২৬ 0

বিয়ের আনন্দ শেষে বিষাদময় বিদায়, পাশাপাশি ৯ কবরে এক পরিবার

ফকিরহাটে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৫

ঝিনাইদহে সাড়ে ৭ হাজার অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

0 Comments