ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তেহরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মেরিন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের ওকিনাওয়ার মার্কি ঘাঁটি থেকে ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ উভচর যুদ্ধজাহাজে করে প্রায় ২,৫০০ সদস্যের একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট ইতোমধ্যে রওনা হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বাহিনীই হতে পারে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সম্ভাব্য স্থলসেনা উপস্থিতি। এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং সংঘাত সরাসরি স্থলযুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ আধুনিক অবতরণ সক্ষমতা সম্পন্ন একটি যুদ্ধজাহাজ, যা সমুদ্র থেকে দ্রুত স্থলভাগে সেনা মোতায়েনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে মেরিন সেনা পরিবহন ছাড়াও বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ও অভিযান পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খারগ দ্বীপে সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ইরান–মার্কিন উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
হরমুজ প্রণালি ও ইরানের উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অবরোধ অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা’ অভিযান চালিয়ে ‘এম/টি স্ট্রিম’ নামের ট্যাংকারটি থামিয়ে দেয়। সেন্টকমের দাবি, জাহাজটি অবরোধ অমান্য করে ইরানের একটি বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটি সর্বশেষ মালাক্কা প্রণালিতে দেখা যায়। ঘটনাটিকে এর আগে ‘জলদস্যুতা ও সশস্ত্র ডাকাতি’ হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান। তবে এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন, দুই পরাশক্তির মধ্যে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বেইজিং। সোমবার (২৭ এপ্রিল) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের নীতি চীন কখনোই মেনে নেয় না এবং নিজেদের কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের সর্বশেষ পদক্ষেপে ইরান-সম্পর্কিত অভিযোগে চীনের একাধিক শোধনাগারসহ প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়, যাকে ‘অবৈধ তেল বাণিজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন। এর জবাবে বেইজিং এসব পদক্ষেপকে ‘লং-আর্ম জুরিসডিকশন’ ও ক্ষমতার অপব্যবহার বলে আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে, একইসঙ্গে সম্ভাব্য পাল্টা অর্থনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-কেন্দ্রিক জ্বালানি বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।
দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের স্থবিরতার পর সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছে ইরান, যা আঞ্চলিক আকাশপথ যোগাযোগে আংশিক স্বাভাবিকতা ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর ধাপে ধাপে বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারির পর আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সামরিক পরিস্থিতির কারণে ইরান আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছিল। পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু করা হলেও আন্তর্জাতিক রুটে নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল। রাষ্ট্রীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে তুরস্কের ইস্তাম্বুল, ওমানের মাসকাট এবং সৌদি আরবের মদিনাসহ কয়েকটি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আন্তর্জাতিক রুট আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।