কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কাজাইকাটা উচ্চবিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও তিন কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার নামে ১৫ লাখ টাকার চুক্তির অভিযোগ উঠেছে রোকসানা বেগম–এর বিরুদ্ধে।সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে রংপুর নগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মাইদুল ইসলাম।
তিনি জানান, তার বাবা আব্দুর সবুর খানের দান করা এক একর জমিতে কাজাইকাটা উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত হতে না পারায় তিনি বিষয়টি নিয়ে রংপুর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আসছিলেন। একপর্যায়ে উপপরিচালক রোকসানা বেগমের সঙ্গে তার আলোচনা হয়।
মাইদুল ইসলামের দাবি, গত ডিসেম্বর মাসে আলোচনার সময় প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য ছয় লাখ এবং কর্মচারীদের জন্য তিন লাখ টাকা করে দাবি করা হয়। পরে একজন শিক্ষক ও তিন কর্মচারীর জন্য মোট ১৫ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়।
তিনি আরও জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে সাত লাখ টাকা একটি উপহারের প্যাকেটে করে তিনি উপপরিচালকের কার্যালয়ে যান। এছাড়া তার ব্যাংক হিসাবে আরও এক লাখ টাকা ছিল। দুপুরে ফাঁকা সময়ে তাকে ডেকে কত টাকা এনেছেন জানতে চাইলে তিনি আট লাখ টাকা এনেছেন বলে জানান।
তার অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর রোকসানা বেগম ফোনে তার স্বামী জাহেদুল ইসলামকে টাকা আনতে বলেন। পরে অফিসের গাড়িচালক ও কম্পিউটার অপারেটরসহ কয়েকজন কর্মচারীকে ডেকে তার ব্যাগ থেকে জোর করে টাকা বের করে নেওয়া হয় এবং তাকে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করতে চাপ দেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনার দিনই রংপুর নগরীর কাচারীবাজার এলাকায় অবস্থিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়ে তাকে ঘুষের টাকাসহ পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশন এ ঘটনায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপপরিচালক রোকসানা বেগম বলেন, ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তিনি দাবি করেন, নিজেকে বাঁচানোর জন্য মাইদুল ইসলাম বিভিন্ন অভিযোগ করছেন। তদন্তে যা বের হবে, সেটিই চূড়ান্ত বলে জানান তিনি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর ব্রিজে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি ট্রাকে সংঘর্ষের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, এতে যানবাহন চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে এবং একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার (০১ মে) দুপুরে কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকামুখী একটি দ্রুতগতির ট্রাক ব্রিজে ওঠার পর চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি সড়ক বিভাজকে (ডিভাইডার) সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পরপরই ট্রাকটির ইঞ্জিন অংশে আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে তা পুরো সামনের অংশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ রক্ষায় চালক ও হেলপার ট্রাক থেকে লাফিয়ে পড়েন বলে জানা গেছে। এতে অন্তত একজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে কাঁচপুর ফায়ার সার্ভিস-এর একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে ট্রাকটির বড় অংশ পুড়ে যায়। কাঁচপুর হাইওয়ে থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন, যার ফলে দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
রংপুরে “জলবায়ু পরিবর্তন ও জেন্ডার সংবেদনশীল কর্মপরিকল্পনা” বিষয়ে দিনব্যাপী অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রংপুর বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ে এ আয়োজন করে নারী ক্ষমতায়ন ও পরিবেশবাদী সংগঠন ইউভ বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক জিলুফা সুলতানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক নুর আলম এবং সমাজসেবা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ডায়ালগে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ইয়ুথ লিড সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় রংপুর অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে জেন্ডার সংবেদনশীল কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ইউভ বাংলাদেশ ইয়ুথ কমিটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে যুব প্রতিনিধিরা জলবায়ু ও জেন্ডার ন্যায্যতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। অনুষ্ঠানে সচেতনতা বাড়াতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি “জেন্ডার কর্নার” স্থাপন করে নারীর স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপদ স্যানিটেশন বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হয়। আয়োজকরা জানান, জলবায়ু ও জেন্ডার ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে যুব সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেই জলবায়ু ও সামাজিক ন্যায্যতা অর্জন সম্ভব।
নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কেশবা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফাইনালে বালক ও বালিকা উভয় বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। বালক বিভাগে নয়ালখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩-০ গোলে উত্তর বড়ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। বালিকা বিভাগে নয়ালখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ট্রাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে পূর্ব দলিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে শিরোপা অর্জন করে। খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলকে ট্রফি ও মেডেল প্রদান করা হয়। বালক বিভাগে নয়ালখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইকতারুল সেরা খেলোয়াড় এবং বালিকা বিভাগে পূর্ব দলিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মুনতাজ বেগম সেরা গোলদাতা নির্বাচিত হন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মোসা. মাহমুদা বেগম এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আব্দুর রশিদ শাহ। সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে। পরাজিত দলকে আগামীতে আরও ভালো প্রস্তুতি নিয়ে জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।