মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব বিশ্ববাজারে স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর দামের হ্রাস ঘটিয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৯৮৪.২৯ ডলারে নেমেছে, খবর দিয়েছে রয়টার্স। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বর্ণের মূল্য মূলত ফেডের নীতিমালা নির্ভর করছে। বিশেষ করে, বাজারের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত রয়েছে ফেড এই বছরে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে কি না তা দেখার ওপর।
ওএএনডিএ-এর সিনিয়র মার্কেট বিশ্লেষক কেলভিন ওং জানিয়েছেন, “মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং ফেডের নীতি মিলিয়ে স্বর্ণের চাহিদা ও দামের গতিপথ নির্ধারিত হচ্ছে।”
উচ্চ সুদের হার সাধারণত স্বর্ণের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়, কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি বা অস্থির পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ধাতুতে বিনিয়োগ বাড়ান।
স্বর্ণ ছাড়াও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও হ্রাস পেয়েছে। স্পট সিলভার ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৮.৪২ ডলারে নেমেছে। এছাড়া, স্পট প্ল্যাটিনামের দাম ১.২ শতাংশ কমে ২,৯৮৮.২০ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৩ শতাংশ কমে ১,৫৮০.৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফেডের সিদ্ধান্তের পর আগামী সপ্তাহে ধাতুর বাজারে আরও দামের ওঠাপড়া হতে পারে।
রমজান মাসের সমাপ্তি নির্দেশক শাওয়াল মাসের চাঁদের উপস্থিতি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিস্থ খতম অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরি থেকে এ সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় উন্নত ক্যামেরার মাধ্যমে চাঁদের ছবি ধারণ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ওই সময় সূর্য থেকে চাঁদের কৌণিক দূরত্ব ছিল ৯.২ ডিগ্রি এবং চাঁদের বয়স ছিল মাইনাস ১৫ ঘণ্টা ২৩ মিনিট, যা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে তাৎপর্যপূর্ণ বিবেচিত হয়। এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন এবং চিত্র ধারণের দায়িত্ব পালন করেন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আওদা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বৈজ্ঞানিক তথ্য ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তবে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দেশের চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভরশীল। উল্লেখ্য, এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের (এনসিটিসি) পরিচালক জো কেন্ট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠানো এক পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, ইরানে চলমান যুদ্ধকে তার ব্যক্তিগত বিবেক সমর্থন করে না। চিঠিটি পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করা হয়। সেখানে কেন্ট লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরান কোনো তাৎক্ষণিক বা আসন্ন নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করেনি। তার ভাষায়, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রভাবশালী লবির চাপের কারণেই এই সংঘাতে জড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, জো কেন্টের পদত্যাগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তা ইস্যুতে কেন্টের অবস্থান দুর্বল ছিল। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্ট যখন ইরানকে হুমকি নয় বলে মন্তব্য করেন, তখনই তিনি মনে করেন তার পদত্যাগই শ্রেয়। ট্রাম্প আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইরান সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ছিল; এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই হুমকি মোকাবিলায় দেশগুলো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত কি না।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় দেড় ঘণ্টার মধ্যে মোট ৩৭টি ড্রোন ওই অঞ্চলের আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে ড্রোনগুলো প্রতিহত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এসব ড্রোনের উৎস বা কোন পক্ষ থেকে এগুলো পাঠানো হয়েছে—সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনার আগে সৌদি আরবে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়েতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদির তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনায় তেহরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তার দাবি, ইরান যদি এমন কোনো অভিযান পরিচালনা করত, তবে তা প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিত। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান টানা ১৭ দিনে গড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরদিকে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা কোনো অবস্থাতেই আত্মসমর্পণ করবে না এবং সংঘাত বন্ধের সিদ্ধান্ত তাদের সার্বভৌম অধিকারের বিষয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান এই উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনাও ঘটছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।