ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিদ্যমান নীতিগত অবস্থানে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেননি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পরমাণু অস্ত্র উন্নয়ন থেকে বিরত থাকার যে দীর্ঘদিনের নীতি তেহরান অনুসরণ করে আসছে, তা আপাতত বহাল থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান এখনো দেশটির নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমান আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে উদ্বেগ ও জল্পনা তৈরি হয়েছে, তারই প্রেক্ষিতে এ মন্তব্য এসেছে। উল্লেখ্য, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পূর্বে একটি ধর্মীয় ফতোয়ার মাধ্যমে পারমাণবিক ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্রের উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন।
সাম্প্রতিক সামরিক হামলায় তাঁর মৃত্যুর পর সেই নীতি বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন দেখা দিলেও আরাঘচির বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, তেহরান আপাতত পূর্ববর্তী নীতিতেই অবিচল থাকতে চায়।
তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত ইরানের ভবিষ্যৎ পারমাণবিক নীতির বিষয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।
ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের গোয়েন্দা প্রধানকে লক্ষ্য করা হয়েছে, তবে তার প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত হয়নি। কাতারের আল জাজিরা জানিয়েছে, এই অভিযান ইসরায়েলের পক্ষ থেকে পরিচালিত হলেও আঘাতের পরিমাণ ও ফলাফল এখনো যাচাই চলছে। ইরান থেকে পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে তেল আবিব ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, এতে অন্তত দুজন নিহত এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষত রামাত গানে একটি রকেট সরাসরি বসবাসস্থানে আঘাত হানে, যেখানে ৭০ বছরের একটি দম্পতির মৃত্যু হয়। হামলায় তেল আবিবের একটি রেলস্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নিরাপত্তার কারণে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও হিজবুল্লাহর অন্তত শতাধিক রকেট ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সংঘাতের এই জটিল পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব বিশ্ববাজারে স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর দামের হ্রাস ঘটিয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৯৮৪.২৯ ডলারে নেমেছে, খবর দিয়েছে রয়টার্স। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বর্ণের মূল্য মূলত ফেডের নীতিমালা নির্ভর করছে। বিশেষ করে, বাজারের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত রয়েছে ফেড এই বছরে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে কি না তা দেখার ওপর। ওএএনডিএ-এর সিনিয়র মার্কেট বিশ্লেষক কেলভিন ওং জানিয়েছেন, “মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং ফেডের নীতি মিলিয়ে স্বর্ণের চাহিদা ও দামের গতিপথ নির্ধারিত হচ্ছে।” উচ্চ সুদের হার সাধারণত স্বর্ণের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়, কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি বা অস্থির পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ধাতুতে বিনিয়োগ বাড়ান। স্বর্ণ ছাড়াও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও হ্রাস পেয়েছে। স্পট সিলভার ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৮.৪২ ডলারে নেমেছে। এছাড়া, স্পট প্ল্যাটিনামের দাম ১.২ শতাংশ কমে ২,৯৮৮.২০ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৩ শতাংশ কমে ১,৫৮০.৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফেডের সিদ্ধান্তের পর আগামী সপ্তাহে ধাতুর বাজারে আরও দামের ওঠাপড়া হতে পারে।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদক পুনর্বাসনকেন্দ্রে বিমান হামলার ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির অভিযোগ উঠেছে। তালেবান সরকারের দাবি অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত এবং প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, কাবুলের দুই হাজার শয্যাবিশিষ্ট ওমর অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে সোমবার (১৬ মার্চ) রাতের দিকে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে আফগান প্রশাসন। তালেবান সরকারের ডেপুটি মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, হামলার ফলে হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। অন্যদিকে পাকিস্তান এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, তাদের সামরিক বাহিনী কেবল কাবুল ও নানগাহার প্রদেশে অবস্থিত নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে সীমিত অভিযান পরিচালনা করেছে এবং বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ ভিত্তিহীন। স্থানীয় সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার আগে আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা যায় এবং পরে বিস্ফোরণের পর হাসপাতাল ভবনে আগুন ধরে যায়। টেলিভিশন ফুটেজে দমকল বাহিনীকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এবং হামলার দায়-দায়িত্ব নিয়ে দুই পক্ষের বিপরীতমুখী বক্তব্যের কারণে পরিস্থিতি নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।