চলমান সংঘাত পরিস্থিতিতে যুদ্ধ সমাপ্তি নিয়ে নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষিত হলেই কেবল যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সোমবার (৩০ মার্চ) তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট সংশ্লিষ্ট সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, সংকটময় পরিস্থিতিতেও জনগণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।
তিনি আরও নির্দেশনা দেন, আগ্রাসন মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদার করতে হবে এবং বর্তমান সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই কৌশলগত অবস্থান বজায় থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাম্পে জ্বালানি তেলের গড় দাম নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রে এই মুহূর্তে গ্যালনপ্রতি খরচ দাঁড়িয়েছে ৪ ডলার (বাংলাদেশি টাকায় ৪৯৩), যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান দাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই মেয়াদের সময়ের যে কোনো পর্যায়ের তুলনায় উর্ধ্বমুখী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ চাহিদার সমন্বয়ে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সাধারণ আমেরিকান ভোক্তাদের জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এক বিশাল কুয়েতি তেলবাহী ট্যাংকার সোমবার (৩০ মার্চ) দুবাই বন্দরে ইরানের পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়েছে, যার ফলে জাহাজটিতে আগুন লাগে এবং তেলের ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কেউ হতাহত হয়নি, তবে ট্যাংকারের খোলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হামলাটি গত মাসের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানের জবাবে পারস্য উপসাগরে তেহরানের চলমান সামরিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চালানো হয়েছে। কুয়েতের রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দুবাই দমকলবাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্ত ট্যাংকারে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল, যার বর্তমান বাজারমূল্য ২০ কোটি ডলারের বেশি। এছাড়া কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলার জন্য ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। এই ঘটনার পর পারস্য উপসাগরের জ্বালানি পরিবহন নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের প্রশ্নে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
লেবাননের দক্ষিণ সীমান্তে চলমান সশস্ত্র সংঘাতে ইসরায়েলি বাহিনীর আরও চার সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা অঞ্চলটির ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রাণহানির তথ্য প্রকাশ করে। সামরিক সূত্র অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে তিনজন তরুণ সেনার বয়স ২১ থেকে ২২ বছরের মধ্যে; অপর একজনের পরিচয় প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় আপাতত প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, চলমান অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই ক্ষয়ক্ষতি ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, মার্চের শুরু থেকে লিটানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা জোরদার করা হলে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষও তীব্রতর হয়। এ সময়কালে বিচ্ছিন্ন হামলা ও সরাসরি লড়াইয়ে একাধিক ইসরায়েলি সেনা হতাহতের ঘটনা ঘটে। আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রভাব লেবানন সীমান্তেও বিস্তৃত হওয়ায় পরিস্থিতি বহুমাত্রিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে একটি বাফার জোন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালালেও হিজবুল্লাহর প্রতিরোধে তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নিয়মিত রকেট ও ড্রোন হামলা এবং পাল্টা সামরিক অভিযানের কারণে অঞ্চলটি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখনো সংঘাত নিরসনে কোনো কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি, ফলে মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি আরও বাড়ছে।