অধিকৃত ক্রিমিয়ার আকাশসীমায় একটি রুশ সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সকল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১ এপ্রিল) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয়ের বরাতে রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে নিয়মিত ফ্লাইট চলাকালে এএন-২৬ মডেলের বিমানের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থল শনাক্ত করে এবং বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয় যে, বিমানে থাকা ৬ জন ক্রুসহ মোট ২৯ আরোহীর কেউই বেঁচে নেই।
প্রাথমিক তদন্তে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে কারিগরি ত্রুটিকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। সরকারি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিমানে কোনো ধরনের বাহ্যিক আঘাতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি—ফলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ড্রোন আক্রমণ বা পাখির সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা আপাতত নাকচ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দুর্ঘটনাটি ক্রিমিয়ার দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে ঘটেছে, যা উদ্ধার কার্যক্রমকে জটিল করে তোলে। আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত এই অঞ্চলটি ২০১৪ সালে রাশিয়া কর্তৃক দখল করা হয়, যা এখনো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আনুষ্ঠানিক তদন্ত অব্যাহত রেখেছে বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের আকাশে এক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, তবে পাইলট নিরাপদে ইজেকশন করে প্রাণে বেঁচেছেন। এই ‘লাইটনিং-২ স্টেলথ’ যুদ্ধবিমান নেভাডার নিয়ন্ত্রিত টেস্ট অ্যান্ড ট্রেনিং রেঞ্জে পড়ে, যেখানে সাধারণ নাগরিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। নেলিস বিমানবেসের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর সঙ্গে সঙ্গে জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাইলটকে নিরাপদে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা রিপোর্টে পাইলট হালকা আঘাতগ্রস্ত হলেও তার অবস্থা স্থিতিশীল। মার্কিন বিমান বাহিনী এখনো দুর্ঘটনার কারণ প্রকাশ করেনি। তদন্তকারীরা ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার বিশ্লেষণ ও বিমানের প্রযুক্তিগত ত্রুটি, পরিবেশগত শর্ত বা মানবিক ভুলের সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখবেন। এফ-৩৫ লাইটনিং-২ একটি পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান, যা এয়ার-টু-এয়ার ও এয়ার-টু-গ্রাউন্ড মিশন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং গোয়েন্দা ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সক্ষম। ২০১০ সালের দশকে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত এই বিমানের উচ্চ প্রযুক্তি সত্ত্বেও প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার মাধ্যমে আধুনিক যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তা ও পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জটিলতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফুজাইরা প্রদেশের আল-রিফা এলাকায় আজ বুধবার (১ এপ্রিল) একটি ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। ফুজাইরা সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী সফলভাবে উক্ত ড্রোনটিকে নিস্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়, কিন্তু ধ্বংসাবশেষটি খামারের উপর পড়ে প্রাণহানি ঘটায়। কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, গুজব বা অনির্ভরযোগ্য তথ্য প্রচারের কারণে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে, তাই শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। উদ্ধারকারী দল এবং নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। সরকারি দফতরগুলি নিয়মিত আপডেট প্রকাশ করছে, এবং সাধারণ জনগণকে এই মাধ্যমের মাধ্যমে সর্বশেষ তথ্য জানার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত নতুন মাত্রা পাচ্ছে, যেখানে চেচেন সশস্ত্র যোদ্ধাদের সরাসরি অংশগ্রহণের ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট ইরানের ভূখণ্ডে স্থল অভিযান চালালে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তায় প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছে চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের অনুগত যোদ্ধারা। সোমবার (৩০ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তারা চলমান পরিস্থিতিকে ‘ধর্মীয় যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইকে ‘জিহাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ‘কাদিরভতসি’ নামে পরিচিত এই বাহিনী নিজেদের অবস্থানকে নৈতিক ও আদর্শিক দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেছে। উল্লেখ্য, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেন এই সংঘাতে পরোক্ষভাবে জড়িত হয়ে ‘বিশেষজ্ঞ’ পাঠিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। অন্যদিকে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি অবস্থান ও মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বেসামরিক হতাহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির অভ্যন্তরে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চেচেন যোদ্ধাদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা এবং তৃতীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এ সংঘাতকে দ্বিপাক্ষিক সীমা ছাড়িয়ে একটি বিস্তৃত ভূ-রাজনৈতিক প্রক্সি যুদ্ধে রূপ দিতে পারে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।