রাজধানীর কদমতলীর আল বারাকা হাসপাতালের পাশে একটি গ্যাসলাইট কারখানায় শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
স্থানীয়রা প্রথমে কারখানার ভেতরে ধোঁয়া দেখতে পান, পরক্ষণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, গ্যাসলাইট কারখানায় দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত বিস্তার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট কাজ করছে।
কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন, এখনও পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন পাশের ভবনগুলোতে ছড়াতে না পারে তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।
রাজধানীর কদমতলীতে একটি গ্যাসলাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরের মিডিয়া সেল এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনায় আহত এক ব্যক্তিকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করে ইউনিটগুলো। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে মোট সাতটি ইউনিট কাজ করে এবং প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় বিকেল ২টা ৩০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ফুটবল খেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতির জেরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে মুনসুরাবাদ এলাকার যুবকেরা ফুটবল খেলার জন্য মাইকিং করার সময় পাশ্ববর্তী খাপুরা গ্রামের যুবকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। সেই ঘটনার জের ধরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিকেলে খাপুরা গ্রামের দুই যুবককে মারধরের অভিযোগ ওঠে, যার প্রতিশোধ নিতে খাপুরা গ্রামের লোকজন পাল্টা হামলা চালিয়ে মুনসুরাবাদ বাজার কমিটির সভাপতি জিন্নাত মোল্লাকে আঘাত করেন। এরপর দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র—ঢাল, সরকি, রামদা এবং ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভাঙ্গা থানার এসআই মামুন জানিয়েছেন, “পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে।”
রাজশাহীর নওহাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পাঁচ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের ঢাকায় ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে, কারণ তারা ভুয়া চাহিদাপত্র তৈরি করে ফিলিং স্টেশন থেকে ৩০০ লিটার পেট্রোল ও অকটেন উত্তোলনের চেষ্টা করেছিল। প্রত্যাহার হওয়া পাঁচজন হলেন—লিডার রবিউল আলম, গাড়িচালক আজিজুর রহমান এবং ফায়ার ফাইটার জাকির হোসেন, ইয়াসির আরাফাত ও আব্বাস আলী। স্টেশন ইনচার্জ ওয়ারহাউস ইন্সপেক্টর নিরঞ্জন সরকার জানান, তিনি ছুটিতে থাকাকালীন এ ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত ৯টার দিকে অভিযুক্তরা স্টেশন ত্যাগ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত লিডার রবিউল আলম অফিসের নামে ভুয়া চাহিদাপত্র তৈরি করে একটি সরকারি গাড়িতে ড্রাম ও ব্যারেল নিয়ে নিকটবর্তী ফিলিং স্টেশনে প্রথমে ২০০ লিটার পেট্রোল এবং পরে ১০০ লিটার অকটেন উত্তোলনের চেষ্টা করেন। পুলিশের সন্দেহের কারণে পরে জ্বালানি ফেরত নেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি সংগ্রহ করতে চেয়েছিলেন। এটি সরকারি সম্পদের অপব্যবহার হিসেবে ধরা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রমাণিত হলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।